Saturday, May 27, 2017

এক নজরে পিসিপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনঃ ২০০০ থেকে ২০১৩

আপোষহীনতার নাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ। গর্বের একটি নাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ। পার্বত্য চট্টগ্রামের নিপীড়িত জনতার আশা আকাংখার প্রতীক পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ। পার্বত্য চট্টগ্রামের ছাত্র যুব সমাজের ঐক্যবদ্ধ চেতনার নাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ। সর্বোপরি দেশের প্রেক্ষিতে অগ্রগামী একটি সংগঠনের নাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ। সংগঠনের পুরো নাম বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ। সবার কাছে সংগঠনের পরিচয় পিসিপি এই সংক্ষিপ্ত নামে।
আজ ২০১৭ এর ২০ মে আমাদের প্রাণপ্রিয় এই সংগঠনের ২৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আজ এই সংগঠন তার শক্তি ও সামর্থ্য নানাদিক থেকে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। নানা ধরণের বাধা বিপত্তি আপোষকামীতা দোদুল্যমানতার বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রম করতে করতে এগিয়ে গেছে এই সংগঠন।
আজ আমরা ২০০০ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন কিভাবে হয়েছে তার সাধারণ সংকিপ্ত বর্ণনা দেয়ার চেষ্টা করবো।। আগামীতে এই লেখা আরো পূর্ণাঙ্গ করার প্রত্যাশা নিশ্চয়ই রাখি।
২০০০ সালে পালিত হয় এই সংগঠনের ১১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। একইসাথে অনুষ্ঠিত হয় ১০ম কেন্দ্রীয় কাউন্সিল। খাগড়াছড়িতে এই কর্মসূচি পালিত হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সমাবেশ ও র‌্যালী খাগড়াছড়ির খেুজুর বাগান মাঠে(বর্তমানে উপজেলা মাঠ হিসেবে পরিচিত) হবার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসন শেষ পর্যন্ত সমাবেশ ও র‌্যালি করতে অনুমতি না দেয়ায় সমাবেশ স্বনির্ভর মাঠে করতে হয়। তখন এই স্বনির্ভর মাঠে আজকের মতো বাজার গড়ে উঠেনি। আজকে যেখানে বাজার গড়ে উঠেছে সেখানেই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রশাসন সমাবেশ ভন্ডুল করতে খাগড়াছড়ি পৌর এলাকাসহ বিভিন্নস্থানে ১৪৪ ধারা জারি করে। প্রশাসনের মারমুখী অবস্থানের কারণে পূর্বনির্ধারিত র‌্যালি আয়োজন করা যায়নি।
উক্ত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের তৎকালীন সভাপতি ক্যহ্লাচিং মারমা(তিনি এখন বান্দরবানের থানছি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান)। সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্ণেল কাজী নুর উজ্জামান, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের সমন্বয়ক বদরুদ্দীন উমর, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যূরোর সদস্য হায়দার আকবর খান রনো, ইউপিডিএফ কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সঞ্চয় চাকমা, জাহাঙ্গীর নগর বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক মানস চৌধুরী, সাইফ ফেরদৌস, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভানেত্রী কবিতা চাকমা, ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি জোনায়েদ সাকী, বাসদ ছাত্রলীগ সভাপতি ইমাম গাজ্জ্বালী, নারী আন্দোলনের নেত্রী সাইদিয়া গুলরুখ ও পিসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক চম্পানন চাকমা। এছাড়া উক্ত সমাবেশে সংগঠনের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক রূপক চাকমা বক্তব্য রাখেন।
পরে ২১ ও ২২ মে দুইদিনব্যাপী কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত কাউন্সিলে রূপক চাকমাকে সভাপতি ও চম্পানন চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক ও ডমিনিক ত্রিপুরাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করে ২৯ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়।
২০০১ সালে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ১ যুগ পূর্তি বা ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয় ঢাকায়। ঢাকার অপরাজেয় বাংলা পাদদেশে অনুষ্ঠিত হয় বিশাল ছাত্র সমাবেশ। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কর্মসূচিতে বেলুন উড়িয়ে সমাবেশ উদ্বোধন করেন ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিত খান। উদ্বোধনের পরে র‌্যালির আয়োজন করা হয়। র‌্যালি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারে শেষ হয়। পরে বিকালে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। সভার থীম শ্লোগান ছিল- লাম্পট্য, নষ্টামি ও সুবিধাবাদিতার বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের ভুমিকা ও আজকের পার্বত্য চট্টগ্রামে করণীয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি রূপক চাকমা। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের সমন্বয়ক বদরুদ্দীন উমর, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল(বাসদ)এর আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান, ইউপিডিএফ নেতা অনিল চাকমা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভানেত্রী কবিতা চাকমা।
পিসিপির একযুগ পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত লিফলেটের শেষাংশে লেখা ছিল- লড়াই সংগ্রামের পথ কোন দেশে কোন কালে এত সহজ ছিলো না। আমাদের বেলায়ও এ কথা সত্য। আলোর বিপরীতে যেমন অন্ধকার থাকে, দেশপ্রেমিক সংগ্রামীর বিপরীতে তেমনি থাকে বেঈমান বিশ্বাসঘাতক।
এছাড়া এতে লেখা ছিল- যে কারো গণতাান্ত্রিক অধিকারের প্রতি পিসিপি শ্রদ্ধাশীল। একমাত্র গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সহনশীলতার ভিত্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসতে পারে।
এরপর ২১ ও ২২ মে দুইদিনব্যাপী ১১ তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউপিডিএফ প্রধান প্রসিত বিকাশ খীসা। পরে মিল্টন চাকমাকে সভাপতি ও প্রমেশ^র চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৯ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়।

০০২ সালে পিসিপির ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয় খাগড়াছড়িতে। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদন মংশে মারমার পিতা কংজরি মারমা। মংশে মারমা ছিলেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য। তিিিন ১৯৯৯ সালের ৩ ডিসেম্বর শহীদ হন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল(বাসদ-মাহবুব) এর আহ্বায়ক আ. ফ. ম. মাহবুবুল হক, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের নেতা ও লেখক শিবিরের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর রহমান, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাসিমা আখতার হোসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. আকমল হোসেন, প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী করিম আবদুল্লাহ, ইউপিডিএফ নেতা অনিমেষ চাকমা। এছাড়া সংহতি বক্তব্য লিখে পাঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মেঘনা গুহঠাকুরতা।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন শেষে তারপরদিন ২১ মে নারাঙহিয়া পাইওনিয়ার ক্লাবে কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হয়। উক্ত কাউন্সিলে প্রমেশ্বর চাকমাকে সভাপতি. মিঠুন চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক ও স্বর্ণজ্যোতি চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করে ১৯ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষনা করা হয়।
এই কমিটির নেতৃত্বে পরে শিক্ষা সংক্রান্ত ৫ দফা দাবি উত্থাপন করা হয় এবং ভাষা সংস্কৃতি ও ইতিহাস চেতনার সংগ্রামে শরিক হোন এই আহ্বান জানিয়ে পিসিপির শিক্ষাসংক্রান্ত আন্দোলন শুরু হয়।

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে ২০০৩ সালে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়। চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের কর্মী ও বাংলাদেশ লেখক শিবির ঢাকা নগর সভাপতি কমরেড প্রাণেশ সমাদ্দার। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের ন্যায়সংগত আন্দোলনের প্রতি মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে সমর্থনব্যক্ত করেন। সকালে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবার পরে বিকালে মুসলিম হলে এক আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত সভায় আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল, ভাষা সাহিত্য ও সংস্কৃতি চেতনার আন্দোলনে বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক দলের করণীয়।
আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতপূর্ব অধ্যাপক সুনীতিভূষণ কানুনগো, চবি বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মুনিরুজ্জামান, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক। ইউপিডিএফএর পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন রবি শংকর চাকমা।
আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি জেলাস চাকমা। এখানে প্রসংগত বলা প্রয়োজন যে, সংগঠনের কাজে সক্রিয় ভুমিকা না রাখার কারণে ১২ তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের নির্বাচিত সভাপতি প্রমেশ্বর চাকমাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে জেলাস চাকমাকে অন্তবর্তীকালীন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছিল।
পরে ২১ হতে ২৩ মে তিনদিনব্যপী কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অধিবেশনে মিঠুন চাকমাকে সভাপতি, অলকেশ চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক ও দীপংকর ত্রিপুরাকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত কেের ১৯ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রচারিত লিফলেটে বলা হয়- এই ১৪টি বছরে শতশত মানুষের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে রাজপথ, হারিয়েছি অনেক সম্ভাবনাময়ী তরুণপ্রাণ সহযোদ্ধাদের। সংগঠনের অগ্রযাত্রার পরতে পরতে মিশে আছে কান্না-হাসি-ক্ষোভ-বেদনা, উদ্দীপ্ত উচ্চারিত শ্লোগান আর গৌরবদীপ্ত ছাত্র যুব জনতার প্রতিরোধ। আমরা ষড়যন্ত্রকারীদের ব্যারিকেড ভেঙেছি-উদ্দীপ্ত হয়েছি। সামনের সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। অধিকার আদায়ের যে শপথ নিয়ে আমাদের রাজপথের সংগ্রাম আমরা সেই অধিকার না পাওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বো না। আমরা জন্মেছি বাধার প্রাচীর ছিন্ন করার জন্যই।
সংগঠনের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে ২০০৪ সালের ২০ মে পালন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শওকত আলী’র লিখিত বক্তব্য পাঠ করে পড়ে শোনানো হয়। তিনি অসুস্থতার কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে সমর্থ হননি। তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্য পাঠ করিয়ে শোনানোর পরে মিঠুন চাকমার সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের কর্মী প্রাণেশ সমাদ্দার, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, বাংলাদেশ ছাত্র কেন্দ্র’র সভাপতি রহমান মিজান, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মৃদুল কান্তি দাস, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভানেত্রী সোনালী চাকমা, পাহাড়ি যুব ফোরামের সাধারণ সম্পাদক দীপংকর চাকমা বক্তব্য রাখেন।
১৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল শ্লোগান ছিল, ’জাতীয় কলংক মোচন করে অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিবাদী ছাত্র সমাজ পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের পতাকাতলে সমবেত হোন’।

আলোচনা সভা শেষে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলা ভবনের মাতৃভাষা চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় বক্তব্য রাখেন সন্তোষ চাকমা, দীপংকর ত্রিপুরা ও অলকেশ চাকমা।
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ তার ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২০০৫ সালে পালন করে শাসকগোষ্ঠীর ভাগ করে শাসন করার কূটকৌশল মোকবেলা করে বৃহত্তর ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে। খাগড়াছড়িতে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল কাসেম ফজলুল হক। পিসিপির সভাপতি রুপন চাকমা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মৃদুল কান্তি দাস, বাংলাদেশ ছাত্র কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া জনি, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিঠুন চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি সোনালী চাকমা, ইউপিডিএফ নেতা অনিমেষ চাকমা। সভা পরিচালনা করেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দীপংর ত্রিপুরা।
এখানে বলা প্রয়োজন ২০০৪ সালের ২৪ থেকে ২৬ নভেম্বর পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ১৪তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিল অধিবেশন চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। এতে রুপন চাকমাকে সভাপতি, দীপংকর ত্রিপুরাকে সাধারণ সম্পাদক ও রিকো চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করেে ১৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষনা করা হয়েছিল। উক্ত কাউন্সিল থেকে নতুন দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। সমাপনী অধিবেশনে ইউপিডিএফএর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক প্রসিত বিকাশ খীসা পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে আগামী দিনের লড়াই সংগ্রামে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পিসিপিকে অবশ্যই আদর্র্শিকভাবে সশস্ত্র হতে হবে। সকল ধরণের প্রলোভন, আত্মপ্রতিষ্ঠা ও ব্যক্তিস্বার্থপরতার উর্দ্ধে উঠে ছাত্রসমাজকে জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আগুয়ান সৈনিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।

২০০৬ সালে পিসিপির ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্রীয়ভাবে পালন করা হয়নি। তবে নান্যাচর, কাউখালী ও কুদুকছড়ি শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
২০০৬ সালের শেষ থেকে ২০০৮ সালের শেষের দিক পর্যন্ত দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। এ পরিস্থিতিতে দেশে মিছিল মিটিঙ সভা সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় পিসিপি ২০০৭ ও ২০০৮ ও ২০০৯ সাল এই তিনবছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠান আয়োজন করতে সমর্থ হয়নি। এরই মাঝে ২০০৭ সালের ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ঘরোয়া সভার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। উক্ত ১৭তম কেন্দ্রীয় কমিটি হিসেবে বিবেচিত করে দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর ত্রিপুরা। সাংগঠনিক প্রতিবেদন পেশ করেন বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুনির্মল চাকমা। সকলের উপস্থিতি ও সম্মতিতে রিকো চাকমাকে সভাপতি, অংগ্য মারমাকে সাধারণ সম্পাদক ও ক্যহ্লাচিং মারমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করে ১৯ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। সভা থেকে সারাদেশ থেকে জরুরি অবস্থা তুলে নিয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া পাহাড়িদের ভূমি বেদখল ও বিভিন্নভাবে মানবাধিকার লংঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ২০০৮ সালে সংগঠনের ১৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা থেকে একটি লিফলেট প্রকাশ করে। এই লিফলেটের শিরোনাম ছিল- অব্যাহত ভূমি বেদখল-হামলা-জাতিসত্তা ধ্বংসের চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, শাসক চক্রের আন্দোলন ঠেকানোর গুটি হিসেবে ব্যবহৃত হবে না, পিসিপির পতাকাতলে সমবেত হোন, আসুন! পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লড়াই বেগবান করি।
লিফলেটে বলা হয় জরুরি অবস্থার সুযোগ নিয়ে ’প্রতিনিয়ত ভূমি বেদখলের মহোৎসব চলছে। পাহাড়িদের নিজ বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদ করে বহিরাগত বাঙালিদের বসিয়ে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া গ্রেফতার, নিপীড়ন-নির্যাতন, ধর্মীয় পরিহানির মতো ঘটনা অহরহ ঘটছে।
২০১০ সালের ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি ঢাকাস্থ পুরানা পল্টনের তাজুল অডিটোরিয়ামে সংগঠনের ১৮তম কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলন থেকে অংগ্য মারমাকে সভাপতি ও সুমেন চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। সম্মেলনে তিন পার্বত্য জেলা থেকে ২৪০ জন প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষক অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে বিদায়ী কমিটির সভাপতি রিকো চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চের আহবায়ক মাসুদ খান, সংস্কৃতির নয়া সেতু'র লিমন, প্রগতির পরিব্রাজক দলের মাহাবুব মোস্তফা রাসেল, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের পারভেজ লেনিন, বিপ্লবী ছাত্র সংঘের আশিষ, জাতীয় ছাত্রদলের আজিজুল ইসলাম, ল্যাম্পপোস্টের প্রিন্স মাহমুদ প্রমুখ। সম্মেলন উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. আকমল হোসেন। উদ্বোধনী আলোচনা সভা শেষে টিএসসি সড়কদ্বীপ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালী বের করা হয়।
২০১০ সালে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ২১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্রীয়ভাবে পালন না করে বিভিন্ন উপজেলায় একযোগে পালন করা হয়। মাটিরাঙ্গা, পানছড়ি, দিঘীনালা, মহালছড়ি, কাউখালীকে অনুষ্ঠিত উক্ত সভাসমূহ থেকে সভা সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি নগ্ন হস্তক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করা হয়। সভা থেকে বক্তাগণ সভা সমাবেশের উপর অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার দাবি জানান।
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ১৯তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় খাগড়াছড়িতে ১১-১৩ জানুয়ারি, ২০১২ সালে। কাউন্সিলে ২৩ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। নতুন কমিটিতে সুমেন চাকমাকে সভাপতি, থুইক্যচিং মারমাকে সাধারণ সম্পাদক, আপ্রুসি মারমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। কাউন্সিলের বিভিন্ন অধিবেশনে তৎকালীন বিদায়ী সভাপতি অংগ্য মারমা ও তৎকালীন বিদায়ী সহসভাপতি ক্যহ্লাচিং মারমা সভাপতিত্ব করেন।
কাউন্সিলের শ্লোগান ছিল- সমাজ ও জাতীয় আন্দোলনে বিভেদ সৃষ্টিকারী এজেন্টদের প্রতিহত করুন! আসুন, অধিকার আদায়ের আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের গৌরবোজ্জ্বল পতাকা উর্দ্ধে তুলে ধরি!
কাউন্সিল অধিবেশন থেকে বক্তারা বলেন, সরকার শুধু নিপীড়ন নির্যাতন করে ক্ষান্ত নয়। ছাত্র-যুব সমাজকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে মদ-গাঁজা-হেরোইন ইত্যাদি মাদক যুবসমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। বক্তারা নিপীড়ন নির্যাতনের বিরুদ্ধে পাহাড়ে সমতলে সমানতালে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
পিসিপির ২২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর(২০১১) শ্লোগান ছিল-গোলামী-লেজুড়বৃত্তি ও আত্মপ্রতিষ্ঠায় জাতির মুক্তি নেই, জাতীয় মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ছাত্র সমাজ জেগে ওঠো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধের ৭নং সেক্টর কমান্ডার প্রয়াত কর্ণেল কাজী নুরুজ্জামানের সহধর্মিনী ও মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর এমরিটাস ড. সুলতানা সারওয়াতারা জামান। বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি অংগ্য মারমার সভাপতিত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেনইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)-এর কেন্দ্রীয় সদস্য উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমা, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, বাংলাদেশ লেখক শিবিরের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সহযোগী অধ্যাপক হাসিবুর রহমান, হিল উইমেন্স ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় সহসভাপতি নিরূপা চাকমা ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি শান্তিদেব চাকমা।অনুষ্ঠানে সংহতি জানিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন খাসি স্টুডেন্ট ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিমল লংডকিরি, বিপ্লবী ছাত্র সংঘের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আশীষ শর্মা, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্যের জোট ভূক্ত সংস্কৃতির নয়া সেতুর কেন্দ্রীয় তথ্য প্রচার সম্পাদক আধ্যাপক জাহিদ হাসান ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্যের সমন্বয়ক সামিউল আলম। এছাড়া সান্তাল স্টুডেন্ট ইউনিয়ন, প্রগতির পরিব্রাজক দল (প্রপদ) ও ল্যাম্পপোষ্ট অনুষ্ঠানে সংহতি জানান।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক থুইক্যসিং মারমা এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুমেন চাকমা।
সমাবেশের উদ্বোধনী বক্তব্যে ড. সুলতানা সারওয়াতারা জামান বলেন, ’অনেক জায়গায় আন্দোলন হয়েছে এবং আন্দোলনে সফলতা এসেছে,আপনাদের আন্দোলন একদিন না একদিন নিশ্চয় সফল হবে। ’
২০১২ সালে সংগঠনের ২৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী খাগড়াছড়িতে পালন করা হয়। ইউপিডিএফ কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব চাকমা উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি সুমেন চাকমা। উপস্থিত ছিলেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাবেক সভাপতি অংগ্য মারমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রীনা দেওয়ান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আপ্রুসি মারমা। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক থুইক্যচিং মারমা। সভায় সচিব চাকমা বলেন, শেখ হাসিনা খালেদা জিয়া আমাদের অধিকার দেবে না। আমাদের অধিকার আদায় করে নিতে হবে। তিনি ভূমি কমিশনের বিতর্কিত কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানান।
২৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রচারিত লিফলেটের শিরোনামায় লেখা ছিল- আপোষহীন সংগ্রামের ২৩ বছর। সংখ্যালঘু জাতির উপর বাঙালি জাতীয়তা চাপিয়ে দেয়ার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল ও পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করুন।
লিফলেটের এক অংশে লেখা ছিল- পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ ঐতিহ্যগতভাবে কখনো অন্যায়ের কাছে মাথানত করে না। তাদের আত্মমর্যাদাবোধ ছিল প্রবল, কখনো কারো কাছ থেকে হাত পেতে কোন কিছু চেয়ে নিত না। এ উন্নত মূল্যবোধে পচন ধরিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে চলছে সুগভীর ষড়যন্ত্র।

২০১৩ সালে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ সংগঠনের দুইযুগ পূর্তি উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে বিশাল সমাবেশের আয়োজন করে। উক্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইউপিডিএফ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি প্রসিত বিকাশ খীসা। খাগড়াছড়ি নারাঙহিয়ায় খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত উক্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণফ্রন্টের সমন্বয়ক টিপু বিশ্বাস, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি সালমান রহমান। সংগঠনের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক থুইক্যচিং মারমা।
সমাবেশে ইউপিডিএফ সভাপতি প্রসিত বিকাশ খীসা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে কামান, বেয়নেট উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি আরো বলেন, পিসিপির নাম ভাঙিয়ে কেউ যেন ফায়দা লুটতে না পারে সেজন্য ছাত্রসমাজকে সজাগ থাকতে হবে।
দুই যুগ পূর্তি উপলক্ষে সংগঠন একটি লিফলেট প্রকাশ করে। লিফলেটের শিরোনামায় লেখা ছিল- পিসিপি প্রতিষ্ঠার দুই যুগ পূর্তিতে আহ্বান, জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার্থে আসুন, পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হই! লিফলেটের শেষে লেখা ছিল- যে শিশু একবার জেগে ওঠে, তাকে ঘুম পাড়াি গানে ঘুমানো যায় না। পার্বত্য চট্টগ্রামের ছাত্রসমাজ জেগেছে, তাদের আর হুমকিতে কিংবা প্রলোভনে বশীভূত করা যাবে না। দালাল-প্রতিক্রিয়াশীলদের দৌরাত্ম্যে আমরা ক্ষান্ত হব না। অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চলবে।
পরে খাগড়াছড়ির সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে ২২-২৩ মে দুইদিনব্যাপী ২০তম কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলে থুইক্যচিং মারমাকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিলাস চাকমা এবং সিমন চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করে ২৯ সদস্য বিশিস্ট নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। বিদায়ী কমিটির সভাপতি সুমেন চাকমা নতুন কমিটিকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
দ্রষ্টব্যঃ লেখাটি এখনো অসম্পূর্ণ। পরে আরো তথ্য সংগ্রহ করে বিশদ ও পূর্ণাঙ্গ করার চেষ্টা করা হবে।

Thursday, February 9, 2017

এগ্গো মানজে তা হুরোল-আন আহজেইএ

চীন দেজঅর এগ্গো পজ্জন। ভালকদিন বজর আগঅর লেঘা। বুওএই নাঙে একজনে ২২০০ বজর আগে এ গল্পবো লিক্কে।শিক্কে ল’বার মতঅ গল্প।
তা হুরোলআন আহজেইনেই ত্যা বেগঅরে সন্দেহ গরে
এগ্গো মানজে গাচ তা হুরোলআন আহজেইএ। হুরোল্ত্যআনদোআ ত্যা দারবো গাচ কাবিদঅ। তা হুরোলআন ত্যা ভালক জাগাত তোগেই চেলঅ। হালিক ন পেলঅ। কুদু ফেলেই ইচ্চে না কন্না চুর গুরি তা হুরোলআন নেজেইএ সিআন লোইনেই ত্যা চিদে গুরি চেলঅ। তা ঘরঅ কুরে এগ্গো গিরে থেদঅ। তারার এগ্গো গুরো শঅ এলঅ। আদিক্কেগুরি ত্যা তা ঘরঅ কুরে গুরো শঅবোরে দিঘিলঅ। তা মনান ভজমান সন্দেহ সন্দেহ গুজ্জে মন এলঅ। ত্যা মনে মনে সন্দেহ গুরিলঅ, তা ঘরঅ কুরে এ গুরো শ’বো-ই তা হুরোলআন চুর গুজ্জে। সিত্তুন ধুরি ত্যা সে গুরো শ’বোরে সন্দেহ চোঘে চে’দঅ। ত্যা দিঘিদঅ বা চিদে গত্ত, গুরো শ’বো চেহারাআনঅ চুরঅ ধক, আহদেদেও চুরঅ ধক, কধা কয়দেও চুরঅ সা’আন। ত্যা দিন দিন তারে সন্দেহ চোঘে চাআ ধল্লঅ।
হালিক কিজুদিন পরে ত্যা ঝারঅত জেইনেই  ত্যা হুরোলআন পেলঅগোই। মোনো মাধাত জিদু ত্যা গাচ কাবিবাত্তেই জেদঅ সিদু ত্যা তা হুরোলআন পেলঅগোই।
ত্যা তা হুরোলআন পেবার পরে হুব হুজি উইয়্যে। সে পরেত্তুন ধুরি ত্যা গুরো শ’বোরে আর সন্দেহ নহ গরে।
বরঙ ত্যা দিঘিলঅ, বা চিদে গুরিলঅ। গুরো শ’বো দ বুউত গম! তারে দঅ চুরঅ ধক ন লাগে। তা কধা কঅনা.আহদানা. মুঅ ভাবসাব বেক্কানি ত্যা গম চোঘে দেঘা শুরু গুরিলঅ।
চিগোন শিক্কেমুলক এ গল্পবোর মানে অহলঅদে আমি আমা মনগজা গুরিনেই বেক চিদেআনি গুরি। আমি মনঅত আমনঅ ধুক্কেন চিদে বানি থেইনেই কারঅজনঅরে মাবি বা তারে আমনঅ চিদে ধগে চিদে গুরি। আমি কারঅরে সেনোত্তই বিচ্চেচ বা অবিশ্বাস জেই, কারঅরে ত্যা জিদিক্কেন নয় সিদিক্কেন চিদে গুরি।
আমা হিল চাদিগাঙঅ রাজনীতি কধাইও ধুরি! আমি দি দ’লে তিন দলে কুজ্জ্যা বাজেই চিগোন কনঅ সমস্যাত্তেই। মরামরি মারামারি গুরিদেই সন্দ বা সন্দেহ গুরিনেই।
আরোগ্গো গল্প কধা ইওত কঙঅর। একজনে মাস্তর এলঅ। ত্যা এগ্গান বিদ্যা শেঘেদঅ। ধরা জোক সিআন গুপন বা গোপন বিদ্যা। ত্যা নিজেই নিয়ম বানেদঅ, শৃঙ্খলা থিগ গত্তঅ। আর যারা বিদ্যা শিঘা এদাক তারারে ত্যা সে নিয়মআনি কড়া গুরি পালেবার কদঅ। ত্যা শাস্তি দি’দঅ দড়মড় গুরি।
হালিক ত্যা দোরেদঅ, কনঅজনে তাত্তুন বেচ বিদ্যা শিঘিএ অহবঅ কি না। সেনোত্তেই ত্যা সতর্ক সজাগ গুরি থেদঅ। ত্যা দোলে দালে বিদ্যা শিক্ষ্যা শেঘেই ন দি’দঅ। জিবে তা উগুরে বা তাত্তুন বেচ শিক্যা লঅদঅ বা পারিদঅ বা পারিবার চে’দঅ সিবেরে ত্যা নানা বাবত্যা গুরি থ্যাগেবার চে’দঅ।
সিদিক্কেনগুরি তার দিন কাদিলঅ। তার বুউত শত্তুর অহলাক।
এ গল্পবোর এগ্গান শিক্যা অহলঅদে, একজনে জুনি আরঅগ জনঅরে শত্তুরঅ ধুক্কেন গুরি রিনি চাই, আর সেনজান গুরি তাল্লোই আচরণ গরে, বেবঅআর গরে তোইলে একসময় জ্যা বা জি’বে তারে বল দিবার কধা বা সহযোগী অহবার কধা কাইকুরে থ্যাবার কধা সিবে একসময় হয়তঅ তার শত্তুর ওই জাই বা শত্তুরঅ ধুক্কেন ওই জাই।
অকারণে সন্দ বা সন্দেহ গুরিনেই কারঅরে শত্তুর বানেনেই কী ই বা লাভ?!
যে লেঘাআনঅত্তুন এ লেঘাগান লিঘিবার উচ্চো পিওঙ: সিআরআই
But the fable ends with this: If you see the other guy as a potential rival and deal with him accordingly, you will turn a possible partner to a possible enemy.

লি চুমিঙে ভুদঅত্তুন স্যান্ডেলঅ বাড়ি হেলঅ

চিঙ নাঙে রাজা বংশঅর আমলঅত চীন দেজঅত সিনচেঙ নাঙে এগগান শঅরঅত এগগো মেজিসটেরেত এলঅ।  তার এগগো পো এলঅ। তা নাঙান এলঅ লি চুমিঙ। ত্যা হুব সাহজবলা এলঅ। ত্যা কিজু ন ডোরেদঅ।  তারার এগজন থাউইয়্যে কুদুম এলঅ। সিবে নাঙান ওয়াঙ চি লিআঙ। ওয়াঙ চি লিআঙঅর যে এগগান বড় ঘর এলঅ সিওত অমহদঅ বেচ ভুদ থেদাক ভিলি মানজে কোআকোহি গত্তাক।
লি চুমিঙ-এ এগবার সে বড় ঘরঅত বেড়েবাত্তেই গেলঅ।  তারে দিঘিনেই ওয়াঙ-এ ‍হুব হুজি অহলঅ। ত্যা তারে কঅলঅ-’আমা এ ঘরঅত তুই বেড়েবাত্তেই ইচ্চোচ শুনিনেই হুজি উইওঙ। ইদু তুই গাই গাই ন থেচ। ত সমারে তরে রেদোত সাঙেত দিবাত্তেই এগজন মানুজ পাধেই দিম। ‘ হালিক লি চুমিঙে তারে কলঅ, না না, মত্তুন সাঙেত র লাগিবঅ। মুই গাই থেই পারিম।। মত্তুন এ গরমঅ দিনওত গাই গাই থাগত্তে হুব গম লাগিবঅ। ইদু হুব হোলামেলা জাগা আঘে। চেরোকিত্তেত্তুন বুইয়্যের বাই। বারে বুইয়্যের হেই হেই থাগত্তে হুব গম লাগিবঅ।
তাত্তুন ভজমান গাই গাই থেবার পরানে কঅর। আর তাত্তুন ভুদ চেবার হুব পরানে কঅর। সেনোত্তেই ত্যা ওয়াঙঅরে সে কধাআন কুইয়্যে।
ওয়াঙেও আর কনকিজু ন কঅলঅ।  ভুদ কধাআন তুলিবার চেইনেইও আর ন তুলিলঅআর। দিন থাগত্তে ত্যা কামমো মানজোরে দিনেই ঘরঅ গুদি থিগথাগ গুরি দিলঅ। দোলে গুদি কাজেনেই ‍ঘুম জেবার বেবস্তা গুরি দিলঅ। সে সমারে সাচ সাচ অহদে সলাত বাত্তি জালেই দিনেই ত্যা তা আরেগ্গান থাইদে ঘরঅত জেলঅগোই।
ইন্দি লি চুমিঙে সাচ সাচ অহবার পর এগগো বাত্তি লোইনেই ঘরঅ চেরোকিত্তে হানঅক্কন গাই বেড়েই চেলঅ। ঘরআনঅ চেরেকিত্তে হালি জাগা বুউত আঘে। গাজবাজঅ কম। সেনোত্তেই চেরোকিত্তেত্তুন ফাগুনঅ বুইয়্যের এজে।  রেদোত রেদোত ত্যা এগ্গান জাগাত বুজিলঅ। চেরোকিত্তে কনঅজন নেই। কনঅ সারাশবদও নেই।  আস্তে গুরি আগাজঅত চানআন উদা শুরু গুজ্জে।  লি চুমিঙঅত্তুন এক্কা এক্কা ঘুম এজঙ এজঙ গরের। ত্যা ঘরঅ ভিদিরে সুমিলঅ। তারপরে গুদিত সুমি ঘুম জেবার জাগাত গেলঅ। ঘুম এত্তে সলাত ত্যা শুনিঅঅ হাঙদক দুরঅত কি েএগ্গগো লরের। থচ থচ গরের। গমে চেইনেই এক্কা এক্কা জুনঅ পঅরঅত ত্যা দিঘিলঅ টেবিলঅত ত্যা চা হেইনেই যে কাপপো রাঘেইয়্যে সিবে গাই গাই উগুরে উদানা শুরু গুজ্জে। সিবে গাই গাই পাক হেইনেই ঘুরা শুরু গুজ্জে। ইআন অন্য মানজে গাই গাই এগ্গান ঘরঅত দিঘিলে মুজজো জেবার অক্ত অহলাক্কুন। হালিক ত্যা এককেনাও ন ডোরেলঅ। চা কাপপো হাঙদক বাদে গাই গাই ঘুরানা থামিলঅ। সে পরে জিওত পোইরাক জালা উইয়্যে সে পততো উগুরে গাই গাই উদিনেই ঘুরানা শুরু গুরিলঅ। ত্যা সিন্দি হানক্কন রিনি চেই থেলঅ।  পোইরাকঅ পততো গুদি উগুরেন্দি হাক্কে ইন্দি হাক্কে উন্দি গাই গাই বেড়ানা শুরু গললঅ।
লি চুয়ােঙে সিআন চাআদে চাআদে কি গললঅ, সিন্দি চেইনেই চোক রাঙা গুরি কঅলঅ, ‘ভুদতো, তুই দ ভজমান বেচ গরর। মরে তুই ডর লাগেবার চত্তে, মরে তুই চিনঅচ? মুই কনঅ ভুদ ন ডোরাঙ সিআন তুই হবর ন পাচ?’ ইআন কোইনেই ত্যা বিচ্চোনওত্তুন একফাল দিইনেই ভুদতোরে ধুরিবাততেই গেলঅ।
ইন্দি ত্যা পিননেদ্যা কাবর চুবর কক্কে হুলি জিএগোই সিআনঅ মুক্কে তার হেআলঅ নেই। ত্যা কিএত কনঅ কাবর চুবর ন পিনিনেই ভুদতোরে ধরার চেরেত্তা গললঅ। ত্যা পোইরেক পততো মুক্কে জেইনেই ভুদতোরে ধুরিবাত্তেই গেলঅ। হানক্কন বাদে পেইরেকঅ পততো টেবিলঅত গাই গাই বুজিলঅ। ত্যা সে পোইরেকঅ পততো ধরা গেলা।
ধরা জাদে সলাত ত্যা থারেলঅ তারে কননা জানি তা বাঙ গালঅত এগেগো বড় ড়ুরি চুওর মারিলঅ। ভুদতো তারে চুওর মাজ্জে ভিলি ত্যা থারেলঅ। চুওর হেবার পরে ত্যা থারেলঅ, তা কিএত কনঅ কাবর চুবর নেই । তরাতাঙরি ত্যা বিচ্চোনওত্তুন কাবর চুবর আনিনেই পিনিলঅ। তারপর ত্যা ঘর দোর হুলিনেই বড়ে গেলঅ।  কুরে যে কামমো মানজো ঘর এলঅ তারে জাগেলঅ। তাত্তুন ত্যা এগগো বাত্তি আনিলঅ। বাত্তিবো জালেনেই ত্যা তা স্যান্ডেলআনি তোগা শুরু গুরিলঅ। হালিক এগ্গান স্যান্ডেল প্যালেও ত্যা আরেগ্গান স্যান্ডেল তোগেই ন পেলঅ।
রেত্তোবো ত্যা আরঅ বাত্তি মারেনেই ঘুম গেলঅ।  ভুদতো হালিক আর তা মুজুেঙে ভেদা ন দিলঅ আর। ত্যা বিন্নে পঅর অহয় সঙ ঘুম গেলঅ।
ঘুমঅত্তুন উদিনেই ত্যা গুদিবো দোলে রিনি চেলঅ। ত্যা দিঘিলঅ গুদিবো উগুরে চালঅ এক কিত্তে েএগগো কানা স্যারে তা স্যান্ডেলআন ধুলি ধুলি আগে। আর তা কুরে জে কামমো মানুচচো এলঅ ত্যা হেআল গুরিলঅ, লি চুমিঙঅ বাঙ গালঅত স্যান্ডেলঅ বারি ছবি ধুক্কেন লাগি আগে। তারা বুজিলাক, ভুদতো রেদো মাই লি চুমিঙঅরে তা নিজঅ স্যান্ডেলওই বাড়ি মাজজে।
মনেঅয় ভুদতো তারে কিচচু গুরি ন পারিনেই স্যান্ডেলঅ বাড়ি দিইনেই সে ঘরঅত্তুন জনমঅত্তেই ধেই জিএগোই। সে পরে আর সে ঘরঅত ভুদ দেঘা নহ জাই আর।

’যখন বঙ্গভবনে ছিলাম’- আলোকিত হবার একটি বই


বইটি তেমন বড় নয়, মাত্র একশ’ দুই পৃষ্ঠার। আর ঘটনা যে তেমন আছে তাও নয়। মাত্র কয়েকটি ঘটনার সমাহার। তবে এইসব ঘটনা জাতীয় জীবনের ইতিহাসের সাথে সম্পৃক্ত। দেশের ইতিহাসের অংশ এইসব ঘটনা। এই সকল ঘটনাবলী যা ছিল অপ্রকাশিত সাধারণের মাঝে সেগুলো আজ লেখকের লেখায় প্রকাশিত হয়ে ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে।
ব্রিগেডিয়ার শামসুদ্দীন আহমেদ, একজন সেনা কর্মকর্তা। তিনি একসময় বেশ কিছুদিনের জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ভবন বঙ্গভবন-এ চাকরিসূত্রে অবস্থান করেছিলেন। সেখানে তিনি যা দেখেছেন, যেভাবে ঘটনাবলীকে বিশ্লেষণ করেছেন তা-ই আমরা তাঁর লেখায় দেখতে পাই। বইটির মুখবন্ধ লিখেছেন প্রখ্যাত লেখক ও শিক্ষক কবীর চৌধুরী। মুখবন্ধের প্রথম অধ্যায়ে তিনি লিখেছেন- প্রাসঙ্গিকভাবে লেখক নানা বিষয়ের অবতারণা করেছেন যা বিভিন্ন রুচির পাঠককে বিভিন্নভাবে আকৃষ্ট করবে। লেখক-পরিবেশিত বঙ্গভবন নির্মাণের ইতিহাস, স্থাপত্যকৌশল, বিভিন্ন কক্ষের বর্ণনা, সাজ-সরঞ্জাম, বঙ্গভবনের অতিথি-আপ্যায়ন এবং সেখানে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সরকারী ও আধাসরকারী অনুষ্ঠানাদির কথা ও আরো অনেক বিষয় কৌতূহলী পাঠককে তৃপ্ত করবে।
তিনি মুখবন্ধে লেখকের বিভিন্ন ঘটনার আরো অনেক বিষয় তিনি আলতো স্পর্শ করেছেন। তার মধ্যে জেনারেল এরশাদ ও তার স্ত্রী রওশন এরশাদের ‘পুত্রসন্তান লাভ, বঙ্গভবনের করিডোরের দেয়ালে নানাজনের ছবি থাকলেও শেখ মুজিবর রহমানের ছবি নেই, ‘হীন অনুকরণপ্রিয়তা’র কথা ইত্যাদি তিনি তুলে ধরেছেন।
এছাড়া এই বই পড়ে জানতে পারবেন একজন রাষ্ট্রপতি কিভাবে সামরিক আইন প্রশাসকের তল্পিবাহক হয়ে যান, জানতে পারবেন মুসলিমদের পবিত্র রমজান মাসে ইফতার আমন্ত্রণ নিয়ে জনগণের টাকায় বিলাসিতার কথা, অনেক নাম না জানা ব্যক্তির ক্ষমতার প্রতি মোহ, অর্থের প্রতি লোভ ইত্যাদির কথা। এবং একই সাথে নিশ্চয়ই অবিচল চারিত্রবৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ব্যক্তিত্বের কথাও এতে পাবেন।
তবে আমার কাছে সেগুলো সাধারণ তথ্য হিসেবে মনে হয়েছে। লেখক অভিজ্ঞতা বর্ণনাসূত্রে সেসকল তুলে ধরেছেন। কিন্তু তার বই ঘটনার বর্ণনার চেয়ে বেশি। এখানে ঘটনার বর্ণনা গৌণ হয়ে যায় যখন তাঁর উদ্দেশ্য আমরা জানতে পারি। লেখক বইয়ের ভূমিকা অংশে যা লিখেছেন তা তুলে ধরছি-
আমার বক্তব্য উপস্থাপনার ত্রুটি থাকতে পারে। আমার ভাব প্রকাশভঙ্গি সঠিক নাও হতে পারে সব জায়গায়। কিন্তু আমি যা বলেছি এবং যা বলতে চেষ্টা করেছি তার মধ্যে কোন ক্রুত্রিমতা নেই। সব আমার মনের কথা। আমার হৃদয়ের কথা। জীবনে ভাল-মন্দ, সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায় সম্বন্ধে আমার ব্যক্তিগত ধ্যান ধারণা ও চিন্তাভাবনা আছে যা আমি খুব সযত্নে লালন করি।
সেই ধ্যান-ধারণা থেকেই তিনি তার কর্মজীবনে অন্যায় দেখেছেন, দেখেছেন লোভ লালসা, ক্ষমতার মোহ, চাটুকারিতা। তবে তিনি তারপরেও নিজের নীতি নৈতিকতাবোধে অবিচল থেকেছেন। ব্যক্তির স্বার্থ না ভেবে ভাবতে চেযেছেন দেশের কথা, নীতির কথা, এথিকসের কথা, দায়িত্ববোধের কথা।
তিনি বলছেন-
আমরা অনেকেই ব্যক্তিগত স্বার্থ ও ক্ষমতার লোভে দলনায়ক বা দলনেত্রীর কাছে, রাষ্ট্রনায়ক বা সরকার প্রধানের কাছে এক একজন ফুলসাইজ ‘জি হুজুর’, ‘গোলাম হোসেন’ এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দ্বিধাবোধ করি না। ‘স্যার’ ও ‘ম্যাডাম’ কখনও ভুল করতে পারেন না এবং তাদের আদেশ অবশ্যই পালন করতে হবে, দেশ ও জনগণ জাহান্নামে যাক- এ ধরনের একটা মন মানসিকতা আমাদের মধ্যে প্রবলভাবে কাজ করছে।
তিনি ব্যক্তিগতভাবে তার চাকুরি জীবনে এই ধরনের ‘মন মানসিকতা’কে লালন করেননি বলে দাবি করেছেন।
তিনি তাঁর লেখায় তাঁর দৃষ্টিতে ন্যায়-অন্যায় ও ভাল-মন্দ ইত্যাদির বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর বইয়ে লেখার শেষে যা মন্তব্য করেছেন সে দৃষ্টিভঙ্গি এবং একটি মহৎ আদর্শের কথা তিনি বলতে চেয়েছেন। তাঁর বইয়ের শেষ বাক্যটি হল-
আত্মমর্যাদাবোধ ছাড়া অন্য জাতির লেজুড় হয়ে কোন জাতি বড় হতে পারে না।
ভূমিকা অংশে তিনি লিখেছেন-
অনেকে বলেন, জনগণ ভাল হলে তাদের নেতা বা নেত্রীও ভাল হবেন। এটা ভুল ধারণা। জনগণকে ভাল করার জন্যই ভাল, সৎ, চরিত্রবান মেধাবী ও দেশপ্রেমিক নেতা-নেত্রীর প্রয়োজন।
তিনি তাঁর বইয়ে যে ঘটনাবলীর বর্ণনা করেছেন তা তাঁর এই মহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই করেছেন। তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা দিয়ে যা দেখেছেন তার মূল্যায়ন করতে চেয়েছেন। আগামী দিনে যারা দেশের সত্যিকার ভাল মহৎ কিছু করার স্বপ্ন দেখেন ও তার বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকবেন তারা যেন এই অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারে সে চেষ্টাই তিনি করেছেন। ১৯৯২ সালে লেখা এবং ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত তার এই বই হয়তো নানা কারণে আরো অনেকের কাছে পৌঁছায়নি। তবে আমার ব্যক্তিগত অভিমত, এই বই হল তাদের জন্য যারা দেশের ভাল কিছু করার জন্য আপ্রাণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এই বই পড়ে দেশের শাসনকামীরা উদ্বুদ্ধ হতে পারবেন মহৎ কিছু করতে। এই বই আরো অনেক পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করুক এই প্রত্যাশা রইল।

সত্যিকারের ভাল মনের মানুষ এবং একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন লেখক বা মানুষের লেখা পড়লে আমরা সবাই উপকৃত হবো এই প্রত্যাশা। বইটির নাম ‘যখন বঙ্গভবনে ছিলাম’। প্রকাশক- আগামী প্রকাশনী। প্রথম প্রকাশ- ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৩। বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা- ১০২।

তুরস্ক দেজঅর পজ্জন বা কিত্তেএ:: তিনআন প্রশ্ন’র জ্যোপ

নিবেদিত কল্যাণকামী শাসকই হলেন যোগ্য শাসক 

কোনো এক দেজঅর এগজন রাজার কধা।  রাজা ভালক বজর ধুরি রেজ্য শাজন গুরি ইচ্চে।  ইক্কো ত্যা বুড়ো ওই জিএগোই। আগঅ ‍ধুক্কেন মানজোর সুখ দুগ চেই ন পারে। নানান জনে নানান সুখ দুগ সমস্যার কধা লোইনেই এজন। তারার সমচস্যা চেবার মতন মন ত্যা আর দিই ন পারে আর। ইন্দি ত্যা ইক্কো চোঘেনদিও কম দ্যাঘে। কানএনদিও কম শুনে। কিইএতঅ আগঅ ধুক্কেন বল নেই। হানক্কন বোই  থ্যালে গাই গাই বল পঅরে। কিইএআন বলবলা ন পাই আর। ইঙিরি ত্যা আর রেজ্য শাজন গুরিবার মন দিই ন পারে। ত্যা ভালক দিন ধুরিনেই মনে মনে চিদে চাত্তা গুরিলঅ,এবারা রেজ্য শাজন তাজন বাদ দিইআ পুরিবঅ। তাআ তিননো পো আঘঅন। তারাত্তুন কারে রেজ্যর দায়িত্ব সারি দি পারা জেবঅ সিআন লোইনেই ত্যা চিদে গরা শুরু গুরিলঅ।  ত্যা মনে মনে কঅলঅ, তিননো পো’ওশা ভিদিরেত্তুন েবেগঅত্তুন বেচ গেআনি গুনি দায়িত্ববান একজনঅ আহদঅত রেজ্যর শাজন সারি দি পারিলে হুব গম ওলুন। বুড়ো কালঅত ঝারঅত দূরঅত জেইনেই ধরমঅ করমঅ গুরিনেই নিরিবিলি গুরি দিন কাদেই দিই পাললে হুব গম লাগিলু। 
ইআন চিদে গুরি ত্যা থিগ গুরিলঅ, তা তিননো পোওরে বুদ্দির পোরিক্কে লোও পুরিবঅ।  পোল্লেম ত্যা তা দাঙর পোওবোরে  দাগিলঅ।  তা দাঙর পোওবো বিন্নে মাদান তা বাবঅ ঘরঅত এলঅ। রাজা তা পোওবোরে কলঅ, ; পুত, মুই দ বুড়ো ওই জিওঙগোই।  তিনকাল দিগিলুঙ। আরঅ যা আঘে সিআন দ্যাক্কে দ্যাক্কে জেবঅগোই। মর বিদেয় লবার অক্ত ইচ্চে। মুই চাঙঅত্তে তোমা তিনজনঅ ভিদিরেত্তুন জে পোওবো বেচ গেআনি গুনি দায়িত্ববান তারে এই রেজ্যর ভার দি দিম। ‘ 
কধাআন শুনিনেই দাঙর পোওবোত্তুন হুব রাজা অহবার ধারাচ অহলঅ। ত্যা তা বাবঅরে হুব কোচ পানাআহ দেঘেলঅ। 
তা বাবে তারে কলঅ, পুত, মর তিনআন কধার জ্যোপ তত্তুন দিআ পুরিবঅ। জুনি তুই এই কধার জ্যোপ ধগেধাগে দিই পারঅচ, তোইলে মুই মনে গুরিম তুই রেজ্যর ভার লবার মতন জোগগো আঘচ। 
দাঙর পোওবো কলঅ, বাবাআ, তুই ত কধাআন পুজোর গুরি পারিবে। 
রাজা তারে কঅলঅ, আচ্চা কোই চাআদে, পিত্তিমি ভিদিরে চেরোকিত্তেন্দি সুবুল পিঙুল কী জিনিচ আঘে? আর বেগঅত্তুন বেচ ধাবা দিই পারেদে জিনিচচান কি? সে সমারে বেগঅত্তুন বেচ দোল জিনিচ পিত্তিমি ভিদিরে কুবান? 
দাঙর পোওবো কলঅ, বাবাআ, আ সিআন হুব উচ্চো কধা। ত প্রশনআন দ হুব উচ্চো! বেগঅত্তুন বেচ সুবুল পিঙুল জিনিচচ্চান অহলঅদে দ তুই! ত ধুক্কেন সুবুল গম ভালেদি চাউইয়্যে আ কন্না এ পিত্তিমিত আঘে!?
আর বেগঅত্তুন বেচ ধাবা দিইনেই জেই পারেদে ত ঘোড়াবো।  বেগঅত্তুন বেচ দোল অহলঅদে আমা মাআ, মানে ত মোককো। 
দাঙর পোওবোর জ্যোপ শুনিনেই রাজা তারে কিজু ন কলঅ। ত্যা কলঅ, থিগ আঘে তুই জাআ। 
সে পরে রাজা তা মাঝ্যাঙ পোওবোরে দাগি পাদেলঅ।  তারেও ত্যা দাঙর পোওবোরে জিআনি কুইয়্যে সিআনি কলঅ। তারপরে তারে সে তিনআন কধার জ্যোপ পুজোর গুরিলঅ। 
প্রশনআনি শুনিনেই তা মাঝ্যেঙ পোওবো তা বাবঅরে কলঅ। বাবাআ, ত কধার জ্যোপ দ হুব উচ্চো। তুই দ হবর পাআচ বাবাআ, মুই ওলুঙ্গে এ রেজ্যর বেগততুন বেচ গেআনি, গুনি আ দায়িত্ববান বুঝিয়ে সুঝিয়্যে।  সেনোত্তেই পিত্তিমি ভিদিরে মুই-ই ওলুঙগে চেরোকিত্তেন্দি সুবুল পিঙুল মানুচচো।  আর বেগঅত্তুন চে ধাবা দি পারেদে মঅ শিগের গুরিয়্যে কুগুরবো। তারে তুই বানা শিগেরবো দেঘেই দিলে অহয়, ত্যা ধাবা দিইনেই ঝাবাদাত শিগের ধুরি আনি পারে। তর তিন নম্বর প্রশনঅ আনঅর জ্যোপ অহলদে, ম মোককো অহলঅদে এই পিত্তিমির বেগঅত্তুন বেচ দোল মিলেবো।
রাজা তা মাঝ্যাঙ পোওবোর জ্যোপ শুনি কঅলঅ, থিগ আঘে পুত, ম প্রশনঅর জ্যোপ তত্তুন দ পেলুঙ। তুই ইক্কো বারে জা।  আর ত চিগোন পোওবোরে ম ঘরঅত এবাত্তেই কঅ। 
তা মাঝ্যাঙ পোওবো হুব আহঝি রুজি গুরি বাড়ে গেলঅ। ত্যা তা গুরো ভেইবোরে তা বাবঅ ঘরঅত দি পাধেলঅ। 
রাজা তা চিগোন পোওবোরে জেএ সে তিনআন কধার জ্যোপ ধুরিলঅ। 
তা পোওবোরে ত্যা কলঅ, মুই ত দি ভেইওরে জেএ তিনআন কধার জ্যোপ পুজোর গুজ্জোঙ। তারাত্তুন বেচ দোলে থিগগুরি  জুনি তুই জ্যোপ দিই পারঅচ, তোইলে তরে মুই রাজা বানেম। 
তারপর রাজা তারে সে তিনআন কধা পুজোর গুরিলঅ। 
তা চিগোন পোওবো তিনআন প্রশনঅ শুনিনেই হানক্কন মন দিনেই ভাবি চেলঅ।  তারপরে ত্যা তা বাবঅরে কলঅ, বাবাআ, এ পিত্তিমিত বেগঅত্তুন বেচ সুবুল পিঙুল জিনিচ অহলঅদে আমা হেতহিত্তিআনি, আমি যে চাষবাস গুরি সে জাগাআনি।  হেতহিত্তি গুরি আমি জে ফজল পেই সিআনি হেইনেই আমি বাজি থেই। সেনোত্তেই সিআনি অহলঅদে সুবুল পিঙৃল। 
তা বাবে তা বেগঅ চিগোন পোওবোত্তুন তার দার্শনিক কধার জ্যোপ শুনিনেই হুব হুজি অহলঅ। ত্যা কলঅ, বাআ বাআ, তুই দ হুব দোলে ম কধার জ্যোপ দি পাজ্জোচ। আচ্চা, তোইলে তা পরে কধার জ্যোপ দ্যা চাঙ। 
তা চিগোন পোওবো কলঅ, পিত্তিমিত বেগঅত্তুন বেচ ধাবা দিইনিই জেই পারেদে আমা চোক আর আমা মনআনি। আমা চোঘোন্দি আমি জিআন দিঘি সিআন ঝিমিদঅত দিঘি। আর আমা মনআনদোই আমি জিদু মনে কঅয় সিদু জেএই পারি। 
আর তনি নম্ব জ্যোপ অহলাদে, আমা পিত্তিমির বেগঅত্তুন বেচ দোল জিনিচচ্চান অহলদে আমা এই মোন মুড়ো সরা গাঙ নাল গাজ বাজে ঘিরি থিইয়্যে এই জাগাগান, আমা পিত্তিমিআন। 
আমা এই জাগাগানঅত বেক্কানি আঘে। রেত আঘে দিন আঘে। তারা আঘঅন, চান আগে, বেল আগে, জুনি আঘঅন, আঘঅন নানা বাবত্যা পেক পুক জুক অহরিঙ চঙরা আরঅ কতকিজু।  গোদ বজরবো ধারাদেঘোলি বারিজে, গরমকাল, জারকাল এজে। ইআনি বেক্কানি আঘে কিনে পিত্তিমিআন হুব দোল লাগে, পিত্তিমিআনঅত জনম ধুরি বাজি থেবার পরানে কঅয়। পিত্তিমি আন ইরিই জেবার পরানে ন কঅয়। 
বুড়ো রাজা তা চিগোন পোওবো কধা শুনিনেই হুব গম পেলঅ। ত্যা বুজিলঅ, তা এই চিগোন পোওবোই এ রেজ্য দোলেদালে চালেই পারিবঅ। তারপর ত্যা সময় গুরি রেজ্যর উজির নাজির পাইক পেয়াদা সইন্য সেনাবদি বেককুনোরে দাগিনেই তা চিগোন পোওবোরে তা রেজ্যর রাজা বানেলঅ। 
আর তা বাগি পোউনোরে ত্যা জাগা জুমি তেঙা পোইঝে দিলঅ। তারাও জ্যাএন নিজঅর ভালেদ গুরি পারঅন সে বেবস্তা গুরিলঅ। 
সে পরে ত্যা সুগে মুরি গেলঅ।
আর ইন্দি তা চিগোন পোওবো রেজ্যর বেগ প্রজাউনো সুখ দুঘঅর ভাগ লোইনেই বেগঅরে কোচ পেইনেই রেজ্য শাজন গরা ধুরিলঅ। দিনে দিনে তার শাজনঅর নাঙ পিত্তিমির চেরোকিত্তে ফুলঅ তুমবাচঅ ধুৃক্কেন সিদি পুরিলঅ। 

## পজ্জন বা কিত্তেএ’র নীতিকধা- যোগ্য উত্তরসূরী থিগ গুরিবাত্তেই উত্তরসূরীরে জোগ্য গুরিবার চেরেস্তা গরা পরে। 









Sunday, January 15, 2017

ইচ্ছা বা চাওয়া

তারিখ: ০৬ জানুয়ারি, ২০১৭
চেয়েছি আকাশ অনন্ত যাতে চোখ জুড়োবে
যা দেখে মহান মহতের সাধনার পরশ পাওয়া যাবে।
ছুঁতে চেয়েছি পাহাড় বা সুউচ্চ শিখরকে
যার গা ছুঁয়ে চলে গেছে অনাবিল বিশুদ্ধ বাতাস
যে ছিল অনড় অটল।
স্পর্শে স্পর্শে নিজেকে স্নিগ্ধ, সৌম্য বা শান্ত সমাহিত করতে চেয়েছি, অবারিত আকাংখায়।
পেতে চেয়েছি গভীর এক নদী সাগর অতলকে
যেখানে সূর্য তার তাপ ও আলো বিদ্ধ করতে গিয়ে রিক্ত হয়েছে বা হয়েছিল।
আমি এক অজানা অজ্ঞাত বা দুর্জ্ঞেয়র উপর ঝান্ডা উড়াতে চেয়েছিলাম, সত্যিই তো আমি তা-ই চেয়েছিলাম!
সময়ের সীমিতি বা তার সীমাকে আমি চেয়েছিলাম তুচ্ছ বা তুচ্ছাতিতুচ্ছ ব্যবচ্ছেদে বিবর্ণ করতে।
আমি চেয়েছিলাম তোমাকে, তুমি নিজেকে চেয়েছিলে!
তারপর অমোঘ নিয়মে
নিজেকে সিক্ত করতে থাকি এই *আমি*!
এক সময় আমার বোঝাপরা হয়
আমি দুলতে থাকি
নিজেকে চিনতে থাকি, বুঝতে থাকি জানার আর কী আছে বাকি।
এবং তারপর
যা হবার তা-ই হল, যা ছিল স্বাভাবিক, বাস্তবিক
তারপরও আমি থেকে গেছি নি:সীমতায়!
কে আমি তবে, তবে তুমিই বা কে?
বুঝে নিও অক্লেশে হতে গিয়ে ক্লিশে!!!

সময় ও অসময়ের বাহাস


তারিখ: ০৯ জানুয়ারি, ২০১৭
দুর্দান্ত সব ফাগুন-চৈত্র-বৈশাখ সেগুলো ছিল
এলোমেলো বাতাসের হাওয়ায় ওড়া মন উথালপাতাল সেইসব দিন ছিল!
মনের দাগে কালিমা ছিল না, ছিল না তাপদাহে পুড়ে যাওয়ার ভাবনা!
ছিল না বরষায় চুপসে যাওয়া
উন্মাতালে পাগলপারা হবার কথাওনা।
দিনগুলো ছিল না গোনার সময়!
এখন এই অসময়ের সময়ে ভাবি বসে
ভাবনা যা আসে তাই নিয়ে!
এখন সময়ের অসময়ে শীতের পৌষ মাঘে চৈত্রের তাপদাহে নিরালে আড়ালে বা জনজমায়েতের ঝঞ্জাময়ে বরষায় কোনো এক ফাঁকতলে
তালমাতাল এক অস্থিরতায় চোখ বুঁজে বা না বুঁজে খোলা চোখে মনহারা দিনযাপনে
আমি সময় গুনি অসময়ের কোপানলে!!
সময় ও অসময় সব ঝঁটা হ্যায়!
যাচ্ছি যেমন যাবো তেমন
এমনই তো জীবন জীবিকা তা-ই।
সব ঋতু আজ আসুক যাক
দিন ও রাত ফিরতি যৌবন পাক
আমি এঁকে যাই এক পাখির ঝাঁক
উড়ে উড়ে জীবন শুন্যে মিলাক।
আমি এঁকে যাই এক পাখির ঝাঁক উড়ে উড়ে জীবন ভবিতে মিলাক।

ন ডোরানদে মানজো সিদু ভুদতুনউনে দেঘা দি ন পারন

চীন দেজঅত চিঙ নাঙে এক রাজা আমলঅত ই চিনু নাঙে এগগো লেঘ্যিয়্যে এলঅ। ত্যা এ ভুদঅ পজ্জননো তা বাপ ইআও এনঅত্তুন শুন্যে। ইআও শুন্যে তা আজু বাপপো জুন শেঙঅত্তুন।  জুন শেঙে আরঅ কাআত্তুন শুন্যে সিআন হবর পাআ ন জাই। তবে এ পজ্জননো কধা জেক জেক কধা, ইওত কোনো মিঝে কধা নেই।
ঙি চেঙ নাঙে এগ্গান শঅরঅত চিআঙ স্যান মাঙ নাঙে একজনে এলঅ। ত্যা এলঅ হুব সাহজী, বলীবন্দ। হালিক ত্যা এলঅ অমহদঅ একবুচ্যা, আর মাধাবোত ঘিলু এলঅদে কম। সে বাদেও ত্যা এলঅ হুব নাদা, থাউইয়্যে ন এলঅ ত্যা। একবার ত্যা কোনো একজনঅত্তুন শুনিলঅ, তারাা শঅরঅ কুরে শুঙ তিঙ পো নাঙে একজনে ভুদঅ বেআর হুরি থাউইয়্যে উইয়্যে।
এ কধাআন শুনিনেই তাআত্তুন ভুদঅ বেআর গুরি থাউইয়্যে অহবার পরানে কঅলঅ।  ত্যা মনে মনে কঅলঅ, মুই দ সাহজবলা আঘঙ, আর বলঅ আঘে মঅর অমহদঅ। সুঙ মানুজচো ‍জুনি ভুদঅ ধুরিনেই বেআর গুরি থাউইয়্যে ওই পারে, সালেন মুিই কিত্তেই ন পারিম? ত্যা কলঅ, ভুদতুনউনোরে মুই পত্তি রেদোত ধুরিম, তারপর তারা কিএত স্যাপ(থুথু) ফেলেই দিম। সে পরে তারা ছাগল অহবাক। আর তারা ভুদ ওই ন পারিবাক। পরে তারারে বাজারঅত নেজেনেই বিজি দিলে মুই থাউইয়্যে ওই পারিম। মুই থাউইয়্যে অহলে থাআজা মদ হেই পারিম আর হাজি হেই পারিম।
ইআন চিদে গুরি ত্যা কুদু ভুদ আঘন সে হবর ধরা শুরু গললঅ। ত্যা হবর পেলঅ চিঙচেঙ নাঙে এগগান শঅরঅত ভুদ আঘঅন। সিদু ভিলি মরা মানজোরে যে জাগাত রাঘানে সে কুরেকারে ভুদঅ জালাই কনঅজনে সাচসাচ অহবার পরে থ্যাঙঅ ন দোন।  এ কধা শুনি ত্যা সিদু জেইনেই ভুদ ধুরিবঅ চিদে ‍গুরিলঅ।
চিআঙে স্যান মাঙ গাচাচোই এগগো লুধিক বানেলঅ। আর সমারে লঅলঅ এগ্গান লাম্বা দুড়ি। তারপরে ত্যা চিঙচেঙ শঅরঅত জেলঅ। সিদু জেইনেই রেদোত ত্যা মরা মানুজ রাঘান্দে সিদু রেদোত আহদি আহদি গেলঅ। ত্যা লুগেই লুগেই ভুদতুনউনেও হবর ন পাআন পারাআ মরা মানুজ রাঘান্দে জাগাত জেইনেই চেরোকিত্তে বেড়ানা শুরু গললঅ।  হালিকক একবার দিবার তিনবার চেরবার ত্যা চেরোকিত্তে ঘুরি বেড়েনেইও ভুদঅ পাদা বা হবর নন পেলঅ। ভুদতুনউনে তা মুজুঙে নয়ও এলাক।
সে পরে ত্যা সে শঅরঅত এগগো জমিদারঅর পুরোন এগ্গান ঘরঅত গেলঅ। সিদু ভালক বজর আগে জমিদারজে ভালকজনঅরে মারেই ফেলেইএ।  সিওত ভুদঅ ডরে কনঅজনে ন জেদাক। সিদু চিআঙে রেত্তোবো গাই গাই রেদ কাদেলঅ। হালিক দিবে তিননো পেজা আর কয়েগগো উন্দুর ধাবা দেনার রঅ বাদে ত্যা কোনো কিজুই ন  শুনিলঅ, ন দিঘিলঅ। ভুদতুনউনে তা মুজুঙে দেঘাও ন দিলাক। ত্যা ভজমান মনত দুগ পেলঅ। আর পেরেশান অহলঅ।
তারপরেও ত্যা আহল ন সারিলঅ। ত্যা আরেকদিন রেদোত ভজমান ডাঙর এগ্গান তারুম ঝারঅত গেলঅ। সিআন ভজমান তারুম ঝার এলঅ। মানজে কদাক, সিদু শদে শদে ভুদ থাআন। চিআঙে সিদু ঘনদা কে ঘনদা বুজি থেলঅ, হাপ দি থেলঅ। হালিক ত্যা বানা ঝারঅ পজুপেকক বাদে কিচচু ন দিঘিলঅ। একবার বানা ভালুদ্দুরঅত পঅর ‍গুরিবার এগগো চেরাগ জলেত্তে কিজু এগ্গান দিঘিনেই ত্যা সিদু ঝাদিমাদি জেইনেই চাইওইদে সিআন কিচচু নয়।
ত্যা গোদ রেততো সিদু কাদেনেই বিন্নে পঅর ওইনেই আঝা সারি দিনেই ঘরঅ মুক্কে আহদা ধললঅ। ইঙিরি ত্যা আরঅ নানা জাগাত মাহজমুলো ঘুরি বেড়েলঅ। হালিক ভুদঅ মাজারাও ত্যা লাআপ ন পেলঅ। বানা পেরেশানি হেলঅ।
আঝা সারিনেই ত্যা তা শঅরঅত ফিরি এলঅ। তা এ অবস্তা দিঘিনিই শঅরঅর গেআনি ‍বুদ্ধিবলা মানজে তারে কলাক, ‘চিআঙ, গোদা জিঙানিআন ঘুরি বেড়েলেও তুই ভুদঅ মাজারা লাআপ ন  প্যাবেএ। ভুদতুনউন ত ধুক্কেন সাহজবলা মানজো মুজুঙে ন এবাক। তারা জ্যাক্কেনে হবর পিওন তুই ভুদতুনউনোরে ধুরিনেই তারারে স্যাপ সিদি দিইনেই তারারে ছাগল বানেনেই বাজারঅত বিজি দিবে তারা ইক্কো মুজজো গ্যালেও ত মুজুঙে ন এবাক আর। তুই আঝা সারি দ্যা।
তবে চিআঙে এনজান রমচক্র গুরি ভুদ তোগা লামিবার পরে চিঙচেঙ শঅর আর তা কুরেকারে জাগাআনিত ভুদঅ জালা আর ন এলঅ আর। তা ডরে ভুদতুনউনে বেএক দুরঅত ধেই জিওন্দোই। সেনোত্তেই তা শঅর আর কুরেকারে মানুজচুন তারে হুব বাইনী গুজ্জোন।
এ গলপবো বা পজ্জননো শুনিনেই আমি হবর পেলঅঙ ন ডোরাইদে মানজে ভুদ ন দেঘঅন। সাহজবলা মানজে ভুদ ন দেঘঅন। ভুদ দেঘঅন্দে পাদারাআ মানজে।

Saturday, January 14, 2017

লাজ পিইয়্যে ভুদঅ গপ


ইবে এগগো ভুদঅ গল্পঅ বা পজ্জন।  চীনঅ ভুদঅ পজ্জন। পজ্জননোত লেঘা আগে, তাই তুঙ উয়ান নাঙে একজনে তা আজুত্তুন এ পজ্জননো ‍শূনন্যে।  তা আজু শুনন্যে আরঅ তা আজুত্তুন।  ইঙিরি সে আজুবো আরঅ শুনন্যে তা আজুত্তুন। কোই পারা জাই, পজ্জননো ভালক বজর আগঅর। একুনে চের পাচশত বজর আগঅর অহবঅ এই পজ্জননো।  সিওত লেঘা আগে ভালক বজর আগে তাই তুঙ ইয়ানঅর গেআদি(জ্ঞাতি) এগজনে একবার শঅরঅত বেড়েবাত্তেই জিইয়ে। সিদু ত্যা মানজে ন থানদে এগ্গান ঘরঅত রেত কাদেই পিইয়্যে। যে ঘরঅর ত্যা এলঅ  সিআন এলঅ সারা ঘর। সিওত কনঅজনে নন থেদাক। মানজে কধাক সিওত এগগো ভুদ ভালক বজর ধুরি থেদঅ। মানজে সিওতত থ্যালে ভুদতো তারারে ডর লাগেদঅ। মানজে ডরে সিওত ন থেদাককোই। হালিক তাই তুঙ ইয়ানঅর এ গেআদি মানুজচো ভুদপেরেত কিচ্চুই ন ডোরেদঅ। 
ত্যা সে ঘরআনঅত বিল্লে বিল্লে পরঙ উইয়্যেগোই। তারপরে ত্যা সিওত  বিচ্চোন বেজেনেই ঘুম জেবার বেবস্থা গুজ্জে।  রেদ অহদে অহদে ভালককন পর জ্যাক্কেনে তার ঘুম এজঙ এজঙ অহর স্যাক্কেনে ত্যা দিঘিলঅ ভুদতো ঘরঅ ভিদিরে ইচ্চে। ভুদতো এইআই তা কিয়্যেআন ফুলােনা শুরু ‍ গুজ্জে। হানককন পরে ত্যা দিঘিলঅ ভুদতো ঘরঅ চালঅ দেগেনঅ সঙ লাম্বা ওই জিএগোই। তাই তুঙ ইয়ানঅর গেআদিবো ভুদতোরে ন ডোরেনেই ত্যা চেরাগগো জালেনেই ভুদতোরে চাআনা শুরু গললঅ। ত্যা  দিঘিলঅ, ভুদতো ভুজুমো ওইনেই তারে ডর লাগেবার চাআর। আর ভুদতো তারে অমহদঅ রাগ ডেগেনেই কলঅ, তুই ভিলে মরে ন ডরাচ, তুই ভিলে ভুদ ন ডোরাচ?
তাই ‍তুঙঅ গেআদিবো ভুদঅ কিত্তে রিনি চেইনেই কঅলঅ, না দ ন ডোরাঙ দঅ। 
ভুদতো সিআন শুনি আরঅ রমসমঅ রাগ ডেগেনেই নাগঅনদি বনবন নিজেচ সারিলঅ। মুওততুন আগুন বাইর গুরিনেই তারে ডর ডেগেনেই কঅলঅ, ইক্কে মরে চাআ।  এবঅ মরে তর ডর গরেদে ধুক্কেন ন লাগে?? 
তাই তুঙঅ গেআদিবো কঅলঅ, আ কোই, তরে দ মুই এক্কেনাও ন ডোরাঙঅর! তরে দ মত্তুন ডর গরে পারা ন লাগের। 
সিআন শুনিনেই ভুদতো আমক অহবার অবস্তা অহলঅ। এধক বজর সঙ ত্যা দিঘি ইচ্চে মানুচ্চনে তারে দিঘিলে মাত্তর ডরে কী গুরিবাক কী ন গুরিবাক অহন, তারা ডরে মুজজো জেবার অক্ত অহয়। আ এ মরনঅ মানুচচোরে এধক ডর দেঘেবার চেরেস্তা গুরিনেইও তারে ত্যা ডর দেঘেই ন পাললঅ। 
ত্যা এক্কা এক্কা লাজানা শুরু গললঅ। তাই তুঙ অর গেআদিবোরে ত্যা পিঠ পোচচো দোঙ দোঙ গুরি কঅলঅ, আ তুই দ ইচ্চে মরে লাজঅত ফেলেলে।  মুই দ লাজে কুদু মুক লুগেই রাগেম কোই ন পারঙঅর। 
ভেই, তুই মরে এক্কেনা এ লাজঅত্তুন বাজাআ। মরে ন ডোরেলেইও এক্কেনা ডোরাঙ ডোরাঙ ভাব গরনা! ইধিক্কেন গুরি তরে ডর ভোরেই দি ন পারিলে দ মঅর মান সম্মান ন থেবার অকতঅ অহবঅ!
তাই তুঙ অর গেআদিবো সিআন শুনিনেই কলঅ, মুই তরে ন ডোরেলে তরে ডোরাঙ ডোরাঙ মুও গুরি ন পারিম। 
ভুদতো তা দি আহত জুড় গুরি তাই তুঙঅর গেআদিরে সেলাম গুরি আরকবার কুজুলি গুরিলঅ, ত্যা জ্যাআন তারে ডরাই পারা গরে। হালিক তাই তুঙঅ গেআদিবো ভুদতোরে পাত্তাই ন দিলঅ। 
এ অবস্তা লাআপ পেইনেই ভুদতো ভজমান অগমান পেলঅ। ত্যা নিজঅ মনে মনে কঅলঅ, এনজান আগাত্যা রকবেঙা তাইপঅর মানুচ মুই েআর নহ দেঘঙআর। ন আরিবো আর! ইদু থেই ন আরিবোআর! মত্তুন এ ঘরঅত্তুন ধেই জা পুরিবগোই। এনজান শতান মানুচ্চোই থেই ন পারিবো। ইআন কোইনেই ভুদতো ব’নিজেচ ফেলেইনেই বুইয়্যেরঅত মিঝি গেলঅ। সিত্তুন ধুরি সে সারা ঘরআনঅত আর ভুদতুদ কিজু দেঘা নহ জাই আর।