Saturday, August 30, 2014

খাগড়াছড়ি কলেজের ছাত্রছাত্রীরা সাজেকের উজো বাজার ঘুরে আসলো



তারিখ: ৩১ আগস্ট, ২০১৪

খাগড়াছড়ি কলেজের ছাত্রছাত্রীরা সাজেকের উজো বাজার ঘুরে আসলো গত ৩০ আগস্ট। পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রশাসন-সেটলার-নিরাপত্তা বাহিনীকর্তৃক ভুমি বেদখল বিষয়ে সচেতন করতে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে এই সফর কর্মসূচির আয়োজন করা হয় বলে জানতে পারি।
তিনটি গাড়িতে করে কলেজের প্রায় ১৩৪ জনের মতো ছাত্রছাত্রী উজো বাজারে আসে। তারা পৌছলে পিসিপি ও যুবফোরামের সাজেক থানা শাখার কর্মীরা তাদের স্বাগত জানায়। এরপর অফিসে তাদের বসানো হয়।
এ সময় তাদেরকে উজো বাজারের আশেপাশের এলাকা কীভাবে রক্ষা করা হয়, সাজেকবাসীকে এই জায়গা রক্ষা করতে কী পরিমাণ রক্ত-ঘাম-শ্রম-সংগ্রাম করতে হয়েছে এ বিষয়ে বলা হয়।
এছাড়া এখনো বুদ্ধমূর্তি নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়ে কীভাবে সাজেকেরে উজো বাজার এলাকাকে প্রশাসন নিজের দখলে নিতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছে এ বিষয়ে তাদের ধারণা দেয়া হয়।

রাজনৈতিক সচেতনতা এবং নিবিড় সংগ্রাম ব্যতীত এবং ছাত্রযুব সমাজের সজাগ-সক্রিয় অংশগ্রহণ ব্যতীত জাতিসত্তার অধিকার-ভুমি বেদখল রোধ যে সম্ভব না এ বিষয়ে বলা হয়।
এছাড়া  ‍শুধুমাত্র লেখাপড়া ও আড্ডা, হাসিঠাট্টা, মোবাইলে গেম খেলা, দিনরাত গালগপ্পে মশগুল না থেকে শ্রমসাধ্য কাজও মাঝে মাঝে করা প্রয়োজন ইত্যাদি কথাও তাদের বলা হয়। তাদের বলা হয়, পাশের ভারতের রাজ্য মিজোরামে ছাত্রযুবকরা সপ্তাহের একদিন নিজেদের গ্রাম পরিষ্কার করে, তারা চার্চে গিয়ে শুধু ধর্মচর্চা করে না। বরং, কীভাবে একজন ছাত্র-যুবক অরো বেশি সচেতন হতে পারে, পড়ালেখায় মনোযোগী হবে, তার কী দায়িত্ব কর্তব্য এ বিষয়ে সেখানে তারা শিখতে পারে। এবং যারা সেখানে ছাত্রযুবকদের লেচকার দেয় তারা সবকিছু জেনেশুনে এসব লেকচার দেয়।
তাদের বলা হয়েছিল, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও গণতান্ত্রিক যুবফোরামের কর্মীরা শুধু মিছিল মিটিঙ করে না। তারা কয়েকদিন আগে ভাঙা রাস্তায় ইট বিছিয়ে রাস্তা্ মেরামত করেছে। তারা পাহাড়ের জঙলা-ঝাড় সাফ করেছে। তবে তাদের আরো বলা হয়নি যে, পিসিপি ও যুবফোরাম কর্মীরা আনারস চারা লাগিয়ে দিয়েছে। তারা একটি বাশ বাগানও করার চেষ্টা করছে। এবং তাদের আরো বলা হয়েছে পিসিপি ও যুবফোরাম কর্মীরা আগামীতেও শ্রমসাধ্য কাজ করবে।

তাদেরকে বলা হয়েছিল, অধিকার আদায় করতে হলে শুধু অধিকার চাই, অধিকার চাই এই দাবি জানালে হবে না। বরং, অধিকার আদায়ের যোগ্যতা, শক্তিও থাকতে হবে। রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক-অর্থনৈতিক-সামাজিকসহ সকল দিক থেকে আমরা সংহত-সুদৃঢ হতে না পারলে আমরা অধিকার পাবো না। কেউ আমাদের এমনিতেই অধিকার দেবে না। আধিকার আদায় করতে হয়। অধিকার আদায়ের যোগ্যতা অর্জন করতে হয়।
ছাত্রছাত্রীদের সাংস্কৃতিক চেতনার মান উন্নত করার দিক বিষয়েও তাদের সাথে কথা বলা হয়।
তাদের বলা হয়, ফেসবুকে যারা ‘আই হেট পলিটিক্স’ লেখে তাদের তীব্রভাবে সমালোচনা করা প্রয়োজন। কারণ, আমাদের মতো নিপীড়িত নির্যাতিত জাতির রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক সচেতনতা অর্জন ব্যতীত সবকিছুই মূল্যহীন!
আশাকরি, আমাদের ভবিষ্যত যুবসমাজ সমাজ জাতিকে ভালবেসে সমাজ জাতি রক্ষার সংগ্রামে সদাসর্বদা জাগ্রত থাকবে।

Thursday, August 28, 2014

সাজেকের মনকুমার চাকমার দোকানে চায়ের দাম মাত্র ২ টাকা


মনকুমার চাকমা তার দোকানে বসে আছেন
 বাঘাইহাট বালুঘাট গ্রামের ৬০ বছরের বৃদ্ধ মন কুমার চাকমা। তার স্ত্রীর নাম কী প্রশ্ন করলে তিনি অনেক্ষণ চিন্তা করার পরেও নাম মনে করতে পারেননি। পরে বললেন, ঘরে বা গ্রামে তার স্ত্রীকে ‘বাঙোদি’ বলে ডাকা হয়। তোর স্ত্রী হয়তো লেখাপড়াই করেননি! তাই, ’ডাকনাম’ই তার আসল নাম।
 পোশাকি নাম তো তাদেরই প্রয়োজন যাদের ‘আলখেল্লা’ পরতে হয়! যারা বিবিধ ‘বিদ্যায়’ পারদর্শি বা যাদের ‘বিদ্যায়’ পারদর্শি হতে হয় তাদেরই তো দরকার ’পোশাকি’ ‘ভদ্রগোছের’ নাম! 


 (খ)
 মন কুমার চাকমার শনের ছাউনি দেয়া দোকান। তার দোকানে চা-পান-সিগারেট ও বিস্কুট পাওয়া যায়। 
সাথে কয়েক প্যাকেট বিস্কুট, চানাচুর কয়েক প্যাকেট আর কেউ বাড়ির পাকা, আধপাকা ফল বা সবজি-শাক বিক্রি করতে চাইলে কেউ কেউ তা তার দোকানের পাশে বেঞ্চে রেখে দিয়ে যায়। তিনি তা বিক্রি করে যা পান তা-ই দিয়ে দেন। 
তার দোকানের বিশেষত্ব হলো, অন্য দোকানে যেখানে চা ও পানের এক খিলির দাম ৫ টাকার কমে পাওয়া যায়না সেখানে তিনি এক কাপ চা বিক্রি করেন ২ টাকায়। পান ১ খিলি ২ টাকা।
বিস্কুট ও সিগারেটে তেমন লাভ তিনি রাখেন না। 

তার দোকানের কাস্টমারও বা খরিদ্দাররাও যেন নির্দিষ্ট করা। তার সমবয়সীরাই সেখানে চা পান সিগারেট খেতে যায়। তাকে প্রশ্ন করলাম দিনে কত টাকার বিক্রিবাট্টা হয়? তিনি বললেন শত টাকার মত।

(গ)
কিন্তু তারপর ও তার সংসার চলে। সংসারে এখন তিনি ও তার স্ত্রী মাত্র। তার এক ছেলে রয়েছে। বিয়ে করার পরে সে শ্বশুর বাড়িতেই থাকে বলে তিনি জানান।

Wednesday, August 27, 2014

DYF-PCP Volunteer team repairing a portion of ruined Brick Road



A team of PCP(Hill Students' Council) and DYF(Democratic Youth Forum) activists are volunteering to repair a Brick Road at Suriungnala Area of Sajek-Korengatuli road of Baghaichari.
The hilly portion of that road has gone to ruin so much that it was not safe to drive.
Today on 24th August, 2014 a Volunteer team took a hand and furnished the road successfully by putting brick at smashed portion and made the road as if driver got relieved!
Thanks to the DYF and PCP activist for their hard and intimate work.
We hope we could get more and more Volunteers to serve the most for the people.
It is to be noted that UPDF(United Peoples Democratic Front) supervised the volunteer work.

Sunday, August 10, 2014

স্ট্যাটাস ব্যক্তিগত !

#

তারিখ: ১০ আগস্ট, ২০১৪

রাত ১০.০০টা


আমি উপভোগ করি আমার দায়িত্ব ও কাজকে। আমি চেষ্টা করি দায়িত্ব ও কাজকে সঠিকভাবে করতে। মনেপ্রাণে বাস্তব কাজের সাথে সম্পৃক্ত থেকে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে চেষ্টা করি। এর্বং এই দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ কোনো ব্যক্তিক স্বার্থ চেতনাকে প্রশ্রয় না দিয়েই তা করার চেষ্টা করি। তবে এটা বলা যায় যে, কাজের মধ্যে ভুলচুক থাকা স্বাভাবিক। তবে চেতনে বা চেয়েশুনে ভুল করা থেকে বিরত থাকাতেই সবসময় চিন্তা ও দৃষ্টি থাকে এটা বলা যায়।


যে কাজ করছি...

যে কাজ করছি তা জনগণের সাথে, পার্বত্য চট্টগ্রমের জনগণের সাথে সম্পৃক্ত। বাস্তব কাজে, বাস্তবে জনগণের সাথে আছি, এই আনন্দবোধ যেমন সারাক্ষণ মনকে চাঙ্গা করে রাখে, তেমনি জনতার সাথে থাকতে থাকতে নানা কিছু দেখার জানার অভিজ্ঞতা অর্জনেরও সুযোগ থাকে নিশ্চয়!

আমি মফস্বল শহরে বড় হওয়া এক ....

জীবনের প্রথম বাক কেটেছে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের মফস্বলে আধাগ্রাম আধা শহর ধাচের এক জায়গায়। কখন যে সময় পেরিয়ে রাজনৈতিক জীবনেে এসেছি তা বুঝতেই পারিনি! এবং এতে দেখতে দেখতে কেটে গেল দশক-যুগ!

গ্রামের ‘ভিলেজ পলিটিক্স’-এর এক অনভিজ্ঞ মানুষ আমি!


গ্রামে যারা থাকে তারা জানেন, না জানলে অনুভব করেন, ভিলেজ পলিটিক্স কাকে বলে বা কতো প্রকার! আমি সেই ‘ভিলেজ পলিটিক্স-এর ’অ আ ক খ’ না জানা এক মানুষ। এখন যখন, দায়িত্ব ও কর্তব্যের কারণে সেই ‘ভিলেজ পলিটিক্স’র দেখা পাচ্ছি, এবং তার  ’একই অঙ্গে এত রূপ’ দেখতে পাচ্ছি, তখন একদিকে শিহরিত হচ্ছি(!) নুতন কিছু দেখে, অভিজ্ঞতার ঝুলিতে নতুন কিছু ভরাতে পেরে আমোদিত, বিম্বিত হচ্ছি নিশ্চয়ই আরো আরো অনেক বেশি!


ভিলেজ পলিটিক্স কী এবং কী ধরণের?
এই ভিলেজ পলিটিক্স-এর পাকে পঙ্কে ডুবে ছিল জেএসএস অথবা জেএসএস এর লড়াইয়ে ভিলেজ পলিটিক্স নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করে ছিল বৈকি! স্থানীয় নানা ধরণের কাজের সময় বা দৈনন্দিন নানা কার্যক্রমের সময় ভিলেজ পলিটিক্স নিশ্চয়ই নানাভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল জেএসএস শসস্ত্র লড়াইকালীয় রোমাঞ্চিত যুগে!

ভিলেজ পলিটিক্স কী ও কেমন তা বোঝানোর সাধ্য কি আমার রয়েছে!

শুধু বলা যায়, ভিলেজ পলিটিক্স হলো সুক্ষ কারিবিদ্যা যা ব্যবহার করা হয়, গ্রামে প্রভাব বিস্তারের জন্য, অন্যকে বা শত্রু বা বিরোধী পক্ষকে কাবু করার জন্যও তা ব্যবহৃত হয়।

 এতে সংগঠনকে বা সংগঠনের নেতৃত্বকে সুকৌশলে ব্যবহার করা হয় যেন ঐ দায়িত্ববান ব্যক্তিও জানতে না পারেন যে তিনি ব্যবহৃত হচ্ছেন!

গ্রামের নেতৃত্ব এই ভিলেজ পলিটিক্স ক্ষমতাকে পোক্ত কর তে ব্যবহার করতে পারেন, জমিজিরাত দখল করতে, কোনো বিচার বা শালিশকে নিজের পক্ষে আনার জন্যও এর ব্যবহার রয়েছে। সংক্ষেপে এমন কী নেই যাতে ভিলেজ পলিটিক্স ব্যবহার করা হয় না!

এমনকি অন্য গ্রামের সাথে সংঘর্ষেও তার ব্যবহার রয়েছে! নির্বাচনে বিজয়ী হতেও তার ব্যবহার রয়েছে।

এই ভিলেজ পলিটিক্স এর কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক লড়াই সংগ্রাম যে কতো ধারা উপধারায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রভাবগ্রস্ত শাপগ্রস্ত হয়েছে তার ইয়ত্তা তো দেবার সাধ্য নেই!

এই ভিলেজ পলিটিক্স ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতকেও প্রলম্বিত করছে
নানাভাবে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতকে প্রলম্বিত করছে এই ভিলেজ পলিটিক্স বা পলিট্রিক্স।

সংক্ষেপে এ্টাই আমার আজকের স্ট্যাটাস।
 সকল শুভাকাংখী স্নেহাস্পদ শ্রদ্ধাস্পদ অন্তর্জাল বন্ধুদের প্রতি আহ্বান, ভিলেজ পলিটিক্সের ফাদে পা দেবেন না!
সামগ্রিকভাবে সমাজের অকল্যান সাধন হয় এমন কোনো কিছুতে নিজেকে জড়াবেন না! বা ভিলেজ পলিটিক্সের পঙ্কিলে ডুববেন না!

Wednesday, August 6, 2014

প্রসংগ সম্প্রচার নীতিমালা: সবাই সমান, কিন্তু কেউ কেউ অারো বেশি সমান!

বেতার ও টেলিভিশনের সম্প্রচার নীতিমালা বাংলাদেশ সরকার মন্ত্রীসভার গত ০৪ আগস্ট সোমবারের বৈঠকে খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। প্রচার মাধ্যমে খসড়া নীতিমালার বিভিন্ন দিক প্রচারিত হলে মিডিয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ ও সচেতন জনসাধারণ এ নিয়ে নানা বক্তব্য ও সমালোচনা প্রদান করেছেন। এমনকি সম্প্রচার নীতিমালার খসড়া ঢাকায় পুড়িয়ে ফেলে সাংবাদিকদের দু’টি সংগঠন এই নীতিমালা না মানার ঘোষনা দিয়েছে বলে ইন্টারনেট মিডিয়ার মাধ্যমে জানা গেল।

সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে এত বিতর্ক সমালোচনা কেন শুরু হলো?

সম্প্রচার নীতিমালায় থাকা বক্তব্য বা বিষয়বস্তুই এই বিতর্ক ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে বলা যায়।

এতে থাকা যে সকল বিষয় বিতর্কের জন্ম নিয়েছে তা নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-

০১. সশস্ত্র বাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত কোনো বাহিনীর প্রতি কটাক্ষ বা অবমাননাকর দৃশ্য বা বক্তব্য প্রচার করা যাবে না।

০২. অপরাধীদের দণ্ড দিতে পারেন এমন সরকারি কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার মতো দৃশ্য বা বক্তব্যও প্রচার করা যাবে না।

০৩. জনস্বার্থ বিঘ্নিত হতে পারে এমন কোনো বিদ্রোহ, নৈরাজ্য ও হিংসাত্মক ঘটনা প্রচার করা যাবে না।

০৪. রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এমন সামরিক, বেসামরিক বা সরকারি তথ্য প্রচার করা যাবে না।

০৫. নীতিমালায় আরও বলা হয়, কোনো জাতি বা জনগোষ্ঠী, দেশের মর্যাদা বা ইতিহাসের জন্য ক্ষতিকর এমন কোনোকিছু, বিদেশি রাষ্ট্রের অনুকূলে যায় এমন কিছু প্রচার বা প্রকাশ করা যাবে না।

০৬. টক শোতে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন না করার কথাও নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়।

০৭. সেই সঙ্গে ব্যক্তিগত বিষয়ে ক্ষতিকর কোনোকিছু প্রচার বা প্রকাশ না করার কথা বলা হয়।
তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথমআলো

এই বিষয়বস্তুর দিকে খেয়াল রাখলে জর্জ অরেওয়েলের দ্য এনিমল ফার্ম বইটির কথা মনেপড়ে। সেই বইয়ে তিনি প্রাণীসমূহের রাজত্বে কথা বলেছিলেন। প্রতীকী অর্থে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন, ‘সাম্য’ বা ’সমতা’র কথা বলে আসলে ’শোষনের’ই রাজত্ব চলে। বাস্তবে রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থায়ও আমরা ’জনগণেণর কল্যাণে’র নামে ‘শোষনমূলক ব্যবস্থা’ই চলতে দেখি।

এতে অমনুষ্য প্রাণীর শাসকশ্রেনীর শাসনকর্তার এক আইনে বলা হচ্ছে- All animals are equal, But some animals are more equal than others.

বাংলা করলে দাড়ায়, প্রাণীজগতের সবাই সমান, তবে কিছু প্রাণী অন্যদের চেয়ে আরো বেশি ‘সমান’। অর্থাৎ, সাম্য বা সমতার কথা বলা হলেও আদতে অসাম্য বা অসমতাকেই এই শাসনব্যবস্থায় জারি রাখা হয়েছে।

এখন আমরা সম্প্রচার নীতিমালার দিকে খেয়াল করি। তাতে প্রতি পদে পদে আমরা দেখতে পাবো, প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি, আইন রক্ষাকারী বাহিনী বা ব্যক্তি, রাষ্ট্রীয় সংস্থা বা সংগঠনসমূহ বা ব্যক্তিগণ যেন সবসময় ‘মোর ইক্যুয়েল দেন আদারস’! তবে জর্জ অরওয়েলের উদ্ধৃতি থেকে ‘Animal’ শব্দটি বাদ দিয়ে শুধু ‘Man’/ ‘Men’ বসিয়ে দিলেই হবে!

এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য আর করছি না!

Monday, August 4, 2014

আমাকে বলা হলো হতাশার মানে কী!?

 (ক)
আমাকে বলা হলো একদিন তুমি কি হতাশার মানে বলবে!?
বলা হলো, এই পৃথিবীর সবকিছু কেমন যেন হতাশার!
কেমন যেন পৃথিবী নিস্তরঙ্গ, অচল ঠাটেবাটে!
আমি বললাম, হতাশার মনে তো জীবনপাত,
তারমানে পাট চুকালো আশা বেচে থাকার!

(খ)
আমি বললাম, আশার ঘনঘটা, আশার দোলাচল
আশার মোহমায়া, আশার চিকচিক আভা
অথবা, আশার কালো নিকষ অন্ধকার!
এসবই আমার পছন্দের!
আমি হতাশা, আশাহীনতা, দুরাশা, নিরাশার
চাষাবাদ করি না।
যদি সম্ভব হয়, আমি হাটি হেটে যাই,
নি:শ্বাস নিই, নি:শ্বাস ফেলি!
তারপরও আমি হতাশার চাষ করি না!

(গ)
পরে আমায় বলা হয়!
তারপরও তো কিছু নেই আশা দেখার!
 বরঞ্চ আশাহীনতার উল্কি ঝলকায়
পলকে পলকে বেচে থাকার চেতনা
মরে বাচার অচেতনতায় পর্যবসিত হয়!

(ঘ)
আমি বলি!
চেতনা হারানোর মানে তো আগুন না থাকা!
আমি আগুনে আগুনে জীবনকে অনুভব করি!
আমার কাছে চেতনা না থাকার কোনো মানে নেই!
আমি আশা প্রত্যাশার সাথে বাসা বাধি!
আশা প্রত্যাশা আমার খেলার সাথি!
তাই,
আমি চেতনায় শান দিই!
আমি এক ঝলকায় বলি খুব চিৎকারে
হতাশার কোনো মানে নেই!
হতাশার কোনো চেতনা নেই!
হতাশায় কোনো আগুন নেই!
তার মানে তো তার জীবন ধুকধাক নেই!

এই যে বিপুলা পৃথিবী! এই যে গনগনে আভা!
এই যে ফিনকি জ্বলা লালে লাল!
এই যে, গতিময়তা, এই যে পথচলা!
এই যে ঠাটবাট, এই যে, ঘুম থেকে জাগা, জেগে ঘুমানো!
সবই একই দিকে ধাবিত! আর
সেই ধাবমানতার লক্ষ্য হলো চেতনা!
সেই ধাবমানতার উদ্দেশ্য হলো-
আগুনের আচ উপভোগ করা!
সেই ধামবানতার নিয়তি হলো-
হতাশাকে ঝেড়ে ফেলা!
এভাবে আরো কত কী উপমা আমি তোমায় দেবো!?