Thursday, July 31, 2014

সমঝোতা প্রশাসনই লংঘন করেছে, সাজেকবাসী নয়


প্রশাসন সমঝোতা লংঘন করেছে, সাজেকবাসী নয়

যে স্থানে বুদ্ধমূর্তি নির্মাণ করা হবে সেখানে বেদীর উপর গত ২৮ জুলাই সকালে আগে থেকে বানানো (বলতে গেলে অন্য এক গ্রাম থেকে ধার করে সিয়ে আসা) ছোটো সাইজের একটি বুদ্ধমূর্তি রেখে দিয়ে এসেছে সাজেকের এলাকাবাসী। এ নিয়ে প্রশাসন খুব টানটান ভাব দেখানোর চেষ্টা করেছে। ভাবটা ছিলো যেন, বিরাট কিছু একটা ‘অপরাধ’ ‘আইনের লংঘন’ ঘটতে যাচ্ছে বা ঘটে গিয়েছে। কোনো এক মিডিয়ায় সাজেক পুলিশ থানা প্রশাসনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে- যারা ‘সমঝোতা লংঘন’ করে ‘রিজার্ভ ফরেস্ট’ এলাকায় ‘বেআইনীভাবে’ বুদ্ধমূর্তি বসিয়ে দিয়েছে তারা ‘বহিরাগত’ এবং তাদের বিরুদ্ধে ‘মামলা’ দেয়া হবে ও ‘আইনগত ব্যবস্থা’ নেয়া হবে।

কিন্তু দ্ব্যর্থহীনভাবেই বলা যায়. সমঝোতা হয়েছিল ‘বুদ্ধমূর্তি নির্মাণ’ করা হবে না। তাই বলে আগে থেকে বানানো বুদ্ধমূর্তি অস্থায়ীভাবে সেখানে রেখে আসা যাবে না তা কিন্তু সমঝোতায় ছিলো না। সুতরাং সমঝোতা লংঘনের প্রশাসনিক অভিযোগ ধোপে টিকেনা। বরং একদল পুলিশ সাজেকের উজো বাজারে রেখে দিয়ে প্রশাসন নিজেই নিজেই সমঝোতা লংঘন করেছে মাত্র।

যাইহোক, বুদ্ধর্মর্তি বসিয়ে দিয়ে আসার পরে সাধারণ জনগণ সেখানে ধর্মীয় সভার আয়োজন করে। এ সময় যেসকল ভিক্ষূগণ উপস্থিত ছিলেন তারা হলেন- চিরসুখ ভিক্ষূ, জ্ঞানমিত্র ভিক্ষু, শ্রদ্ধারত্ন ভিক্ষু, রত্নশিরি ভিক্ষূ, মৈত্রীসার ভিক্ষু, মানবজ্যোতি ভিক্ষু, শীলপ্রিয় ভিক্ষু, সংঘদ্বীপ ভিক্ষূ, প্রিয়শ্রী ভিক্ষু, ত্রিরত্ন ভিক্ষু।
বেদীর উপর অস্থায়ীভাবে একটি বুদ্ধমূর্তি বসিয়ে রাখা হয়েছে। এতে জায়গাটির শ্রী বৃদ্ধি পেযেছে গুণিতক


সাজেকের একজন জানালো, দুপুরে দীঘিনালা বনবিহার থেকে যখন ভিক্ষুগণ গাড়িতে করে সাজেকের উজো বাজারে ধর্মীয় সভায় অংশ নিতে আসছিলেন তখন বাঘাইহাট আর্মি চেকপোস্টে ভিক্ষুদের বহন করা গাড়ি বেশ কিছুক্ষণ থামিয়ে রাখা হয়। পরে অবশ্য ছেড়ে দেয়া হয়।
ধর্মীয় দেশনা অনুষ্ঠান


ধর্মীয় সভায় ভিক্ষুগণ সকল সমস্যা মৈত্রীময় চিত্তে ধীরস্থির শান্ত থেকে মোকাবেলা করতে পরামর্শ প্রদান করেন।

সাজেকবাসী রাঙামাটি এমপি উষাতন তালুকদারের ভূমিকা দেখতে চায়

শুধুমাত্র সাজেকবাসীই কি উজো বাজারে বুদ্ধমূর্তি স্থাপনের সরকারী বাধাদানের প্রতিবাদ করে যাবে?  বিজিবি ক্যাম্প স্থাপন করে জুম্ম জনগণকে নিজ বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদের পয়াসের প্রতিবাদ কি শুধু সাজেকাবাসী করে যাবে? সাজেকবাসী রাঙামাটি তথা পার্বত্য চট্টগ্রামের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি উষাতন তালুকদারসহ সকল জনপ্রতিনিধিত্বশীল নেতৃত্বের ভূমিকা দেখতে চায়। তারা সাজেকাবাসীদের ভূমি অধিকারের লড়াই তথা নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার লড়াইয়ে একাত্মতা প্রকাশ করবেন বলে সাজেকবাসীর প্রত্যাশা।

সতর্ক থাকুন! নানা প্রচারণা, ‘অপ’ প্রচারণা চলবে

সতর্ক থাকুন! সাজেকবাসীর লড়াইকে ভিন্নখাতে নিয়ে যেতে নানা প্রচারণা-অপপ্রচারণা চলবে!

যেকোনো লড়াইকে পরাজিত করতে শাসকগোষ্ঠী প্রথমে নৈতিকভাবে লড়াইকে আঘাত করে। লড়াইয়ের নৈতিক ভিত্তি ধ্বংস করতে সচেষ্ট থাকে। তারপর নানা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে লড়াইকে কানাগলিতে নিয়ে যেতে চেষ্টা করে। অথবা, মূল লড়াইয়ে দিকে যেন দৃষ্টি নিবদ্ধ না হয় তার জন্য নতুন কোনো পরিস্থিতি বা প্রেক্ষাপটের ‘আমদানি’ ঘটানোর চেষ্টা করে।
এবং সাজেকবাসীর জায়গা জমি বাচানোর লড়াই, নাগরিক অধিকার রক্ষার লড়াই, ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার লড়াইকেও শাসকচক্র  ভিন্নখাতে নিয়ে যেতে সচেষ্ট রয়েছে বলেই বোঝা যায়।

প্রথমে, সমঝোতা লংঘনের অভিযোগ তারা তুলেছে। একইসাথে ‘বহিরাগত’দের দিয়ে ‘সকল সমস্যা’ হচ্ছে বলে তারা প্রচার চালাচ্ছে। এছাড়া তারা সাজেকে ‘সন্ত্রাস’ হয়, সাজেকে ‘অস্ত্র’ পাওয়ার বা উদ্ধারের ‘কল্পিত’ ঘটনাও প্রচারে নিয়ে আসতে পারে!
লড়াইয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য আরো নানা কিসিমের প্রচারণাও তারা করতে পারে! তারা সাজেকবাসী ‘অবৈধভাবে রিজার্ভ ফরেস্টের’ এলাকায় বসবাস করছে অভিযোগ তুলতে পারে। সাজেকবাসী ‘আইন মানে না’ ইত্যাদি অপপ্রচারণা চালাতে পারে! এছাড়া আরো কতো প্রকারের বিভ্রান্তি সৃষ্টি প্রয়াস তারা তো করতেও পারে! সুতরাং, সতর্ক থাকুন! সতর্ক হোন!

#Sajek #সাজেক আপেডেটতারিখ: ০১ আগস্ট, ২০১৪

সময়: সকাল ৭.১০ টা

Sunday, July 27, 2014

সাজেক আপডেট: সাজেকের প্রশাসনের কেউই ঈদের ছুটি পায়নি


তারিখ: ২৮ জুলাই, ২০১৪

সকাল ৬.০৫ টা

সকলকে শুভ সকালের চেতনাময় স্নিগ্ধ শূভেচ্ছা!

আজ সোমবার। সাজেকের উজো বাজারের সাপ্তাহিক বাজারবার। উজো বাজারের কয়েক কিলোমিটার দূরত্বের পাহাড়ি গ্রাম থেকে পাহাড়ি নারী পুরুষ তাদের উৎপাদিত জিনিসপত্র ফল ফলাদি, ছাগল গরু মোরগ ইত্যাদি হাতে করে বাজারে নিয়ে আসে দুএকটি টাকা উপার্জন করার জন্য। উজো বাজারটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মাত্র দুই বছর হলো। এরআগে বাঘাইহাট বাজারে তারা যেত। কিন্তু ২০০৭-২০০৮-২০১০ সালের সাম্প্রদায়িক হামলাকান্ডের পর সেই বাজারে পাহাড়িরা আর যায় না। তারা একত্রিত হয়ে বসিয়েছে উজো বাজার নামে নতুন বাজার। আজও নিশ্চয় বাজারে বিক্রেতারা আসবেন, আসবেন বেনিয়া ব্যবসায়ীরা।

শান্তিপূর্ণ থাকবে আজকের বাজারবার সবার কামনা এটাই!


তারা মামলা দিয়ে জেরবার হয়রানী করতে চেয়েছিল

তারা মানে, জুম্ম জনগণকে তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করতে চেয়েছিল, তারা মামলা দিয়ে জেরবার হয়রানী করে ভিটে থেকে উচ্ছেদ করতে চেয়েছিল। সেজন্য তারা একই সাথে মাত্র দুয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে উজো বাজারের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও গ্রামের কার্বারীকে সতকীকরণ নোটিশ জারি করেছিল।

তাতে তারা মানে জবরদখলবাজদের চাকুরেরা লিখেছিল- “আপনাকে এই মর্মে নোটিশ প্রদান করা যাইতেছে যে, নিম্নে বর্ণিত তপসীল ভূক্ত জায়গায় আপনি ঘর বাড়ী বাগান চাষাবাদ করার পায়তারা করিতেছেন। নোটিশ প্রাপ্তির পর হইতে আপনী ঐ সমস্ত কাজ থেকে বিরতি থাকিবেন। এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকিবেন। এই বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যেতে পারে। নোটিশ প্রাপ্তির পর থেকে কোন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ না করার জন্য বলা গেল।”

বাঘাইহাটের রিজার্ভ ফরেস্টের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: আলাউদ্দিন চিঠি দিয়েছিল ১৯ জুলাই, ২০১৪ ইং তারিখে আর বাঘাইছড়ি পুলিশ থানার অফিসার ইনচার্জ চিঠি দিয়েছিল ২২ জুলাই, ২০১৪। অর্থাৎ, তাদের যুগপৎভাবে একই উদ্দেশ্য ছিলো! তাদের উদ্দেশ্য ছিলো, শুধু ‘বুদ্ধমুর্তি’ নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়া নয়, তাদের পেছনের উদ্দেশ্যছিলো জুম্ম জনগণকে উজো বাজার ও তার আশপাশ থেকে উচ্ধে করা।

 ‘আইন’এর ভয় দেখিয়ে ’আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল’ থাকার ওজর দেখিয়ে তাারা এই কাজ করতে ছেয়েছে। কিন্তু এতবছর ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভন্ন জায়গা থেকে হাজার হাজার জুম্মজনতাকে তাদের নিজ বাস্তুভিটা থেকে ‘কোন আইন’এর ভিত্তিতে তারা উচ্ছেদ করেছে তার কথা তারা চেপে যায়!

দখলবাজ জবরদখলকারীদের প্রতি ঘোষনা! সাজেকবাসী ভুমিচ্যুত হতে হতে এমনিতেই জেরবার! সুতরাং তাদের জেরবার করার চেষ্টা মাঠে মারা যাবার সম্ভাবনা বেশি!

#সাজেক #সাজেক #সাজেক #সাজেক আপডেট !


বেড়ায় টাঙিয়ে রাখা বুদ্ধমূর্তির ছবি তারা ছুড়ে দিয়েছিল

গতকাল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা জানালেন, ২৪ তারিখের দিকে তিনি উজোা বাজরের দিকে যাচ্ছিলেন। এই সময় একটি আর্মি গাড়ি উজো বাজারের যেখানে বুদ্ধমূর্তি নির্মাণ করার কথা সেখানে এসে তারা থামলো। সেখানে বেড়ার ফাকে একটি বুদ্ধমূর্তি টাঙিয়ে রেখেছছিল আন্দোলনকারীরা। এক আর্মি সেই ছবি বেড়া থেকে খূলে নিয়ে তা মুচড়ে ফেলে দিলো পিচঢালা পথে। ‘জুম্ম’ সিদেসাধা মহিলা চেয়ে থাকলেন সেই ঘটনা। আর্মিরাও তাকে দেখে থাকলো। এরপর তারা চলে যাবার সময় তিনি তা পথ থেকে তুলে নিয়ে সম্মান ও শ্রদ্ধাবনত হয়ে তা আগের জায়গায় তুলে রাখলেন। আর্মিরা তাকে দেখে চলে গেল।

আর্মি পুলিশ প্রশাসনের কেউই ঈদের আনন্দ ছুটি ভোগ করতে পারেনি

কাল জানতে পারলা্ম, সাজেকে যেসকল আর্মি ও পুলিশ চাকুরি করছে তাদের কেউই ঈদের ছুটি পায়নি। তারা বড় সাধ করে তাদের নিজের বাড়িতে ঈদ করার জন্য সাজেক থেকে আনারস-কাঠালসহ নানা ফলফলাদি কিনেছিল। কিন্তু তা পচে গিয়েছে!
আত্মীয় পরিজনদের সাথে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে না পারায় তারা যেমন নিরানন্দে আছে তেমনি তারা ক্ষুব্ধ ক্রোধান্বিতও। কিন্তু এই বেদনার কথা তারা কাকে বলবে?

রাষ্ট্রযন্ত্র তো তাদের ’কেনা পালেয়ায়ান’ ‘পাহাড়াদার’ চৌকিদার ব্যতিত কিছুই মনে করে না!

সবাই ভালো থাকবেন।

চরিত্র নিয়ে কিছু কথা!

তারিখ: ২৭ জুলাই, ২০১৪

আজ চরিত্র নিয়ে কিছু কথা লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে যেখানে বলা হয়েছে- সম্পত্তি হারিয়ে গেলে কিছুই হারিয়ে যায় না, স্বাস্থ্যের হানি ঘটলে কিছুটা হারানো বোঝায়; কিন্তু যখন চরিত্র নষ্ট হয় বা হারিয়ে যায়, তখন সবকিছুই হারিয়ে গেল।

When wealth is lost, nothing is lost; when health is lost, something is lost; when character is lost, all is lost.

উদ্ধৃতিসূত্র: ব্রেইনিকুওটস ওরেয়বসাইট  
 এখন আসলে চরিত্র বলতে কী বোঝায়? 
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের একসময়ের প্রেসিডেন্ট এর চরিত্র বিষয়ক একটি উদ্ধৃতি এখানে কপিপেস্ট করছি- 
"Character is like a tree and reputation like its shadow. The shadow is what we think of it; the tree is the real thing."

আব্রাহাম লিংকন চরিত্র বা ইংরেজি ভাষায় কারেক্টারকে একটি গাছের সাথে তুলনা করেছেন, একটি সাথে গাছের ছায়াকে তুলনা করেছেন চরিত্রের কারণে একজন ব্যক্তি জনমানুষের বা তার পাশের জনের কাছ থেকে যে সম্মান-অপমান-মর্যাদা বা মান অর্জন করেন তার সাথে।
অর্থাৎ, একজন ব্যক্তির চারিত্র্য-বৈশিষ্ট্য যত পরিমাণে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন-গুণসম্পন্ন-সুদৃঢ-মানবিকতাবোধ সম্পন্ন-অকপট হবে তার মান-মর্যাদা-সম্মান তত বাড়বে বা ডালপালা-পাতাময় সেই গাছের ছায়া ততো বিস্তৃত হবে। 

চরিত্র বলতে আসলে কী বোঝায় তা এই উদাহরণের মাধ্যমে কিছু বোঝা গেলেও এই সংজ্ঞা কিন্তু ব্যবহারিক দিক থেকেই বেশি বোধগম্য বা কিছুটা প্রতীকী সংজ্ঞা হিসেবে এই উদাহরণকে ধরা যেতে পারে।

সচ্চরিত্র ভার্সাস দুশ্চরিত্র
চরিত্র অর্থে বাংলা ভাষায় সাধারণত ‘সচ্চরিত্র’ বা ’সৎ চরিত্র’ ও ‘ অসচ্চরিত্র’ বা ‘অসৎ চরিত্র’ ’দুশ্চরিত্র’ এই শব্দবন্ধই বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
সংজ্ঞাগতভাবে এই দুই বৈশিষ্ট্যকে পৃথক করা খুবই সহজ মনে হলেও কিন্তু বাস্তবে ’সচ্চরিত্র’ বা ’দুশ্চরিত্র’ এই দুই চারিত্র্য বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ব্যক্তি বা ব্যক্তিত্বকে  পৃথক করা অনেক ক্ষেত্রে দুরূহ বলেই বোধ হয়! 
 এবং অনেক ক্ষেত্রে তা নানা বাদানুবাদ ও বিতর্ককে উস্কে দেয়। 
কারোর কাছে একজন খুবই সচ্চরিত্রের ব্যক্তি আবার সেই ব্যক্তিই কিন্তু আরেকজনের কাছে তার বিপরীত চারিত্র্য বৈশিষ্ট্যে র অধিকারী হিসেবে ধরা দেয়াও বিচিত্র নয়! বিশেষ করে পুজির বা অর্থের বা ক্ষমতার আধিপত্যের এই যুগে এই বৈপরীত্য যেন সাধারন ব্যাপার!
কোনো সামাজিক ব্যক্তিত্ব সমাজের চোখে সুদৃঢ চরিত্র বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন হিসেবে হয়তো পরিচিত! কিন্তু হয়তো তিনি তার  ব্যবসাসূত্রে চাকুরিসূত্রে হয়তো একাধারে ঘুষ বাণিজ্যের ধারক বাহক অথবা কারো অর্থকড়ি তছরুপ করার হোতা হিসেবে পরিচিতও হতে পারেন! এভাবে সমাজে ’চরিত্রের’ বৈপরীত্য  যেন স্বাভাবিক ব্যাপার! 
এমন ধরণের উদাহরণ সমাজে অনেক দেখা যায়! 
রবিনহুড। তিনি সমসাময়িক সামন্তীয় শাসকদের চোখে পরিচিত ছিলেন ‘ডাকাত’ হিসেবে। কিন্তু তৎকালীন সাধারণ জনতার কাছে তিনি উদ্ধারকর্তা বা ত্রাণকর্তা হিসেবেই তো পরিচিতি পেয়েছিলেন!

সুতরাং, ব্যক্তি বা মানুষের চরিত্রকে দুইভাগে ভাগ করে সাধারণীকরণ করা সহজ কিন্তু বাস্তবে তার নানা বৈপরীত্যই যেন স্বাভাবিক!

চরিত্রের মান নির্ধারণের নিয়ামক বিষয়
চরিত্রের মান নির্ধারণের নিয়ামক বিষয় হিসেবে আমাদের সমাজে সাধারণত ‘সৎভাবে চলা’কে বোঝায়! এর মানে বোঝায় তিনি চুরি করেন না, ঘুষ নেন না, তিনি কাউকে ঠকান না ইত্যাদি। অথবা, বিশেষভাবে ‘তার চরিত্র ঠিক নেই’ বলতে বোঝায় সেই ’পুুরুষ’ বা ‘নারী’অন্য বিপরীত লিংগের সাথে ‘অবৈধ’ মেলামেশা বা সম্পর্ক নেই ।
নীরদ চন্দ্র চৌধুরী তার ‘আত্মঘাতী বাঙালী’ বইয়ে চরিত্র নিয়ে লিখেছেন-
চরিত্র সম্বন্ধে লিখিতে গেলেও শব্দতত্ত্ব আনিতে হইবে।চরিত্র বলিতে ইংরেজী শিক্ষা পাইবার আগে যাহা বুঝিত তাহা আচরণ, যেমন ‘মানব চরিত্র’, ‘স্ত্রী চরিত্র’ ইত্যাদি, সহজ অর্থ ছিল স্বভাব, যে স্বভাব মরিলেও যাইত না। ইংরেজী পড়িবার পর চরিত্র বলিতে বাঙালী যাহা বুঝিতে আরম্ভ করিল তাহা ইংরেজী ‘ক্যারাকটা’র কথাটার বিশিষ্ট অর্থ, নানা অর্থের এক অর্থ।সোজা বাংলা জিতেন্দ্রিয় হইলে যে চরিত্র হয়, সেরূপ চরিত্র। (পৃ-১৫৯)
নীরদ চন্দ্র চৌধুরী তার সমসাময়িককালের এবং বলা যায় বর্তমান কালের ‘চরিত্র’ বিষয়ে যে ধারণা, ইন্দ্রীয় সুখবোধ দ্বারা পরিচালিত না হওয়া, অথবা বলা যায় চারিত্রিক শুদ্ধতা রাখাটাই সচ্চরিত্রের লক্ষণ হিসেবে বোঝানো হয়ে থাকে বলে মত প্রকাশ করেছেন। উপরে উদ্ধৃত পরিচ্ছদের বা প্যারাতে তিনি আরো লিখেছেন-
এই অর্থে ‘চরিত্রবান’ ও ‘চরিত্রহীন’ দুইটি বাক্য বাংলায় ব্যবহৃত হইতে আরম্ভ হইল। তাই ‘চরিত্রহীন’ শব্দের রূঢ় অর্থ হইল লম্পট।

কিন্তু এই নিয়ামক বা পয়েন্টের মাধ্যমেেই কি শুধু চরিত্র নির্ধারণ করা হয়ে থাকে?


চরিত্রের মান কী দিয়ে নির্ধারণ করা যায়?

উপরের নিয়ামক বিষয়সমূহ চরিত্রের মান নির্ধারণে নিয়ামক হিসেবে বলা হলেও ব্যক্তিগতভাবে আমার মতে‘চরিত্র’র মান হিসেবে তার দৃঢতাবোধ-একাগ্রতাবোধ-মানবিকতাবোধ-অকপটতা-কথায় কাজে মিল থাকা-দায়িত্ব কর্তব্যবোধ ইত্যাদি গুণাবলী বা মানকে বিবেচনায় নিয়ে পরিমাপ করা নিতান্ত প্রয়োজনীয়।
শুধুমাত্র ‘সততা’ অথবা বা এবং ‘অবৈধ মেলামেশা’ এই মানদন্ড নিয়ে ‘চরিত্র বিচার’ করলে বোধকরি আমরা গতানুগতিক একই পাকে বা পঙ্কে নিমজ্জিত থাকার সদিচ্ছাই প্রকাশ করবো!


Saturday, July 26, 2014

সাজেকবাসীর যাবার আর কোনো পথ নেই

 #‎Sajek‬ ‪#‎সাজেক‬
আপডেট
তারিখ: ২৬ জুলাই, ২০১৪
রাত ৯.২৪ টা
সাজেকবাসীর পক্ষ থেকে সকলকে শূভেচ্ছা! আপনারা যারা অনলাইন-অফলাইনে সাজেকবাসীর জায়গাজমি রক্ষার সংগ্রামকে সকলদিক থেকে সহায়তা করেছেন, করার চেষ্টা করেছেন তাদের সকলকে সাজেকবাসী শুভেচ্ছা জানাচ্ছে!
আজ তেমন কোনো খবর নেই! তবে এখনো দিনে এবং রাতে সাজেকের উজো বাজারে পুলিশ পাহাড়ায় থাকে। এখনো দিনে এবং রাতে সেনাবাহিনীর টহলযান যুদ্ধংদেহী হয়ে টহল দিয়ে যায়! প্রতিটি দোকানের দিকে তাদের ‘সামরিক’ চোখ শাসিয়ে যায় সকলকে।
আজও রাতে তারা এসেছিল। এবং হয়তো আরো আসবে!
এবং সাজেকের উজো বাজারের জনগণও এখনো তাদের সতর্ক টহল জোরদার করে রেখেছে। তাদের মনে এখন নানা আশংকা দানা বাধছে!
তারা সেই ২০১০ সালের রক্তাক্ত দিনগুলোর কথা এখনো মনে রেখেছেং!! তাই তারা সবসময় সজাগ সতর্ক থাকতে চায়।
আজ একজনের সাথে আলাপ করলাম। সে জানালো, তার বুক কেদে ওঠে যখন সে ভাবে এই জায়গা ছেড়ে তাকে চলে যেতে হচ্ছে। সে বললো, মরণ পর্যন্ত সে সাজেক ‪#‎উজোবাজার‬ -এ থেকেই লড়বে!
তাদের যে যাবার কোথাও পথ নেই!
সাজেকবাসীর হয়ে সবার প্রতি আহ্বান রইল-
সাজেকের জায়গা জমি বাচানোর লড়াইয়ের সাথে থাকৃুন!

Tuesday, July 22, 2014

সাজেক আপডেট: সেনা টহলযান টহল দিচ্ছে, জনগণ বুদ্ধমূর্তি তৈরীর স্থানে অবস্থান নিয়েছে

উজো বাজারে চলছে সেনা টহল, জনগণ বুদ্ধমূর্তি তৈরির স্থানে অবস্থান নিয়েছে




সাজেকের উজো বাজারে এখন সকাল ১১.০০টার দিকে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। খাগড়াছড়ি থেকে মহিলা পুলিশ আনা হয়েছে। দীঘিনালা-বাঘাইছড়ি সীমান্ত ১০নাম্বার এলাকায় দীঘিনালা পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। উজো বাজারের বুদ্ধমুর্তি তৈরীর স্থানে রয়েছে ৪০ জনের উপর পুলিশ। সেনা টহলযান ৩টি কি ৪টি বাজারের এদিক ওদিক টহল দিচ্ছে। একই সাথে বিভিন্ন গ্রাম থেকে জনগণ-নারী-যুব জনতা উজো বাজারে বুদ্ধমূর্তি তৈরীর স্থানে আসছে।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে জনগণ বুদ্ধমূর্তি তৈরীর স্থানে বসে আছে। দূরে পথ দিয়ে চলে যাচ্ছে সেনা টহলযান। পথের পাশেই পুলিশ বসে আছে।
 
থেমে নেই বুদ্ধমূর্তি নির্মানের কাজ। সাইনবোর্ড দেয়া হয়েছে। নির্মাণের ভিত্তি গতকাল ছিলো একফুট, এখন উচ্চতা বেড়েছে কয়েকফুট!

কিছুক্ষণ পরে বাঘাইছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আসবেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তিনি কী বলবেন!?
তিনি কী আইন দেখাবেন! নাকি অনুরোধ করবেন!? তিনি কি প্রশাসনের চোখ রাঙানি দেখাবেন!?
নাকি তিনি ১৪৪ ধারা জারির পথ ধরবেন!?
নাকি তিনি বিজিবি ক্যাম্প স্থাপনের জন্য এলাকার জুম্ম জনগণকে উচ্ছেদের ব্যবস্থা নিতে চাইবেন!?
আমরা অপেক্ষায় আছি!!

রাঙামাটির সাজেকবাসীর জায়গা জমি রক্ষার সংগ্রামে শরীক হোন!

জায়গা জমি রক্ষার সংগ্রামে শরীক হোন!
সাজেকের রাতের খবর(২২ জুলাই, ২০১৪)
সারাদিন আজ বাঘাইছড়ি প্রশাসন তথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী পুলিশ বাহিনীর বিশাল ফোর্স নামিয়ে দিয়ে সাজেকের উজো বাজারের জনতাকে বুদ্ধ মূর্তি নির্মাণে বাধা দিতে যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে।
এভাবে জনগণকে বুদ্ধমূর্তি নির্মাণের ক্ষান্ত রাখতে না পেরে বিকাল থেকে দীঘিনালা-বাঘিইছড়ি থেকে পুলিশ আর্মি ফোর্স (সংখ্যা আনুমানিক ২০০/২৫০)এনে উজো বাজারে কাছে জমায়েত করে রেখেছে।
এখন রাত আটটার দিকে ৩০/৪০ জনের আর্মির একটি দল উজো বাজারে মহড়া দিচ্ছে।
জনগণ এখনো উজো বাজারের কাছে যেখানে বুদ্ধমূর্তি নির্মাণ করার কথা সেখানে জড়ো হয়ে অবস্থান করছে।
যারা অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে শরীক হতে চান- যারা লড়াই সংগ্রাম করে মাথা উচু করে বাচতে চান- তাদের অনুরোধ-আহ্বান- যে যেখানেই থাকুন না কেন, সাজেকবাসীর সাথে থাকুন, তাদের পাশে দাড়ান-বিভিন্ন স্থানে মিছিল মিটিং সভা সমাবেশ প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করুন!
জায়গা জমি রক্ষার সংগ্রামকে উৎসাহিত করুন!

Sunday, July 20, 2014

২৭টি আনারস চারা রোপন করে দিয়ে শুরু হলো উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করার কাজ!

মাত্র ২৭টি আনারস চারা! এক ব্যক্তির অনাদরে রাখা আনারস বাগান থেকে চারা তুলে নিলাম আমরা! তারপর সেগুলো একটি ঝলায় ভরে হাতে একটি তাগল/দা নিয়ে রওনা দিলাম। কিছুক্ষণ হেটে গিয়ে গঙ্গারাম নদীর ধারে আসলাম। সেখানে পাড়ে রাখা নৌকা দিয়ে নদী পার হলাম। নদীর পাশেই রামঅছড়া গ্রামের সীমানা শুরু।
 পাহাড়ি পথ বেয়ে গেলাম দিলদাজ্জে বাপ-এর বাড়িতে। সেখানে তার পরিবারসহ সবাই তখন ছিলো। তারা দুপুরের বিশ্রাম নিচ্ছিলো। তাদের বললাম- আমরা এসেছি আপনার বসতভিটার কাছে চারটি আনারস চারা লাগিয়ে দিতে। তাকে বললাম- আপনার বসতভিটার চারপাশে কেন এত ঝাড়? অনুরোধ করলাম কয়েকদিনের মধ্যে যেন তিনি তার ঝাড় পরিষ্কার করেন। তারপর ঝাড় পরিষ্কার করে চারটি মাত্র আনারস চারা লাগিয়ে দিলাম। তাদের একটি আনারস ধরিয়ে দিলাম। বললাম এই আনারসটি খাবেন। এবং বললাম, ভবিষ্যতে যদি বেড়াতে আসি তবে যেন আনারস বা অন্য কোনো ফল আপনার কা্ছ থেকে খেতে পাই। 
একদিন নিশ্চয় আনারস চারাগুলো বড় হবে, রসে টুম্বুর ফল ধরবে!

এরপর গেলাম শোভারানী বাপ-এর বাড়িতে। তাকে ডাকলাম। তিনি আসলেন। তাকে আমরা বললাম, আপনার বাড়িতে তো কয়েকদিন আগে বেড়াতে আসলাম! কিন্তু কোনো ফলই তো খাওয়াতে পারলেন না! এবার আপনার বসতভিটার পাশে ১৬টি আনারস চারা লাগিয়ে দিয়ে যাচ্ছি। ভালভাবে পরিচর্যা করবেন! এরপর আমরা জায়গা পরিষ্কার করে আনারস চারাগুলো লাগিয়ে দিলাম। তিনিও আমাদের সাথে থেকে তাগল ফাগারা ধরে সহযোগিতা করলেন। তাকে দুটো আনারস কাটতে বললাম। আমরা সবাই মিলে তা খেলাম। 
এই সময় দেখা হলো শশাংক চাকমার সাথে। তার সাথেও উৎপাদনের গুরুত্ব, বসতভিটার চারপাশে খাবার জাতীয় ফল-পাওর লাগানোর কথা বললাম। তিনিও আমাদের সাথে শরীক হলেন। 
এবার আমরা সাজেকের উজো বাজারে ফেরত আসার সময় উজ্জ্বল চাকমার বাড়িতে বসলাম। আমরা তার বসতভিটায় চারটি আনারস চারা লাগিয়ে দিলাম। তার বাড়ির পাশে তার আজু(দাদু)-র ঘর। উজ্জ্বলের হাতে তিনটি আনারস চারা ধরিয়ে দিয়ে বললাম, চারাগুলো যেন সে তার আজুর বসতভিটায় লাগিয়ে দিয়ে আসে। 

 ফিরে আসলাম সাজেকের গঙ্গারাম উজো বাজারে। 

সাজেকের সাধারণ জনগণ সহজ সরল। তেমনি অধিক সহজ সরল তাদের জীবন! দুবেলা দু’মুঠো খাবার পেটের জন্য জোগাড় করার পরে তারা আর তেমন যে চিন্তা ভাবনাই করে না! তাই উৎপাদন করে পরিশ্রম করে নিজের ভাগ্যের উন্নতি করার চিন্তাই যেন তারা করেন না! আর এই দুশ্চিন্তাহীন জীবন যাপনকেই আমরা বলি ‘আলজি’ অলস কুড়ে হয়ে থাকা! 

কিন্তু তাদের শুধু উপদেশ নির্দেশ না দিয়ে তাদের সাথে থেকে তাদের সুখে দু:খে সহসাথী হয়ে তাদের জীবন যাপন বৈশিষ্ট্য বদলে দেয়ার চেষ্টা কি আমরা করতে পারি না! 

সাজেকবাসী উৎপাদনে উৎসাহিত হয়ে নিজের জীবন পদ্ধতি নিজেরাই একসময় বদলাবে এই আশাই আমরা করি! 
আমাদের কাজটি তেমন বড়ো মাপের নয়। তারপরও তো কাজ! 
আজকের চারা রোপন কাজে আমরা যারা একসাথে ছিলাম তারা হলো- জেনেল কার্বারী, বীররঞ্জন চাকমা, ইন্দ্র চাকমা, কল্পরঞ্জন চাকমা। 

Friday, July 18, 2014

সাজেকের লোকজন না খেয়ে আছে এই তথ্য নিয়ে কিছু কথা

কয়েকদিন আগে দৈনিক পথম আলো পত্রিকায় হাড় জিরজিরে বেশ কয়েকজনের ছবিসহ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু ছিলো- রাঙামাটির দুর্গম এলাকা সাজেকের লোকজন খাদ্যের অভাবে ভুগছে। এ নিয়ে আরো বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয় বিভিন্ন মিডিয়ায়। 
খবরটি স্থানীয় সরকারী প্রশাসনকে নাড়া দিলে আমি এ বিষয়ে কৌতুহলী হয়ে পড়ি। নানাভাবে এ নিয়ে তথ্য নিতে চেষ্টা করি। কিন্তু সময়ের অভাবে এ নিয়ে লেখালেখি করা হয়ে উঠেনি। এখনো বিস্তারিত লেখার মতো সময় হয়তো পাওয়া সম্ভব নয়!
তারপরও পয়েন্ট আকারে এ নিয়ে লেখার চেষ্টা করছি।
সাজেকবাসী উৎপাদিত ফসলের ন্যয্য মূল্য চায়, তারা তাদের শ্রমের ন্যায্য পাওনা পেতে চায়

সাজেকের লোকজন কি আদৌ না খাদ্যের অভাবে ভুগছে?
রাঙামাটির সাজেক হলো পাহাড় পর্বতময় এক এলাকা। এখানে সমতলীয় এলাকার ধান্যজমি নেই। এই এলাকার লোকজনের অধিকাংশই জুমচাষের উপর নির্ভরশীল। জুমচাষ সাধারণত শুরু হয় ফেব্রুয়ারি থেকে। প্রথমে পাহাড় পরিষ্কার করা হয়। তাতে আগুন দেয়া হয়। তারপর কয়েকেদিন তা রেখে দেয়া হয়। এতে আগুনে পুড়ে যা ছাই হয়ে যায় তা মাটির সাথে মিশে গিয়ে মাটির উর্বরতাশক্তি বাড়িয়ে দেয়। এরপর এপ্রিল মে মাসের দিকে বীজ রোপেনের কাজ শুরু হয়। এখন জুলাই মাসে জুমে ধানের চারা তিরতির করছে। তবেে এখনো ধানে শিষ আসেনি। এছাড়া অন্য চারাও বাতাসে নাচতে থাকতে। তবে এ সময় একমাত্র মামরা-চিন্দিরে বা মরিচ জাতীয় ফসল আসতে থাকে। এবং তা বিক্রি করেই জুমচাষীদের সংসার চলে।
জুন ও জুলাই মাসের এই সময়ে সাজেকের জুমচাষী লোকজন একটু অভাবে ভোগে তা নিয়ে সন্দেহ রাখা যায় না। তবে তারা যে না খেয়ে মরে যায় বা হাড় জিরজিরে হয় তা কিন্তু নয়! 
সাজেকের রুইলুই মোনের ৮ নং গ্রামের কার্বারীকে এ নিয়ে প্রশ্ন করছিলাম। তিনি বললেন- এই সময়ে প্রচুর রোদ পড়ে। বৃষ্টিতেও ভিজতে হয়। একই সাথে তাল মিলিয়ে জ্বরের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। তিনি জানালেন, এখন ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা দিচ্ছে। এই সময়ে একবার অসুখে পড়লে লোকজন এমনিতেই কাহিল হয়ে হাড় জিরজিরে হয়ে যায়। কিন্তু সাজেকের লোকজন যে একদম না খেয়ে থাকে তা কিন্ত নয় বলে তিনি জানান। 
মাজালঙ বাজারে সপ্তাহ বাজারে আসা ভুওছড়ি গ্রামের শান্তি বিকাশ চাকমাকে এ নিয়ে প্রশ্ন করলাম। তিনি জানালেন, তাদের গ্রামে ৪০০ পরিবারের মতো বসবাস করছে। এলাকাটি দুর্গম এবং ভারতের সীমানার কাছাকাছি। গ্রামের সবার আর্থিক অবস্থা তেমন যে ভাল তা নয়। এই সময়ে অনেকেই খাদ্যের অর্থকষ্টে ভোগে। এই সময়ে বাশ-গাছের ব্যবসা বন্ধ থাকে। ফলে লোকজন কিছুটা অসুবিধায় পড়ে। তবে সাজেকের লোকজন যে না খেয়ে থাকে তা তিনি মানেন না বলে জানালেন। 

তার কাছ থেকে জানতে পারলাম তাদের গ্রাম থেকে এলাকাবাসী মামরা চিন্দিরে মরিচ নিয়ে মাজালঙ বাজারে আসে। কিন্তু ফসলের ন্যায্য দাম তারা পান না। মামরা ফলের কেজিপ্রতি দাম মাজালঙে মাত্র ১০ টাকা। কিন্তু এই ফলই এখন দীঘিনালা খাগড়াছড়িতে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে। অন্য ফসলের দামও তেমন বেশি নয়।

এরপরে মাজালঙ বাজার ঘুরে দেখলাম। দেখলাম জুম থেকে উৎপাদিত ফসল নিয়ে জুম্মনারীরা পসরা সাজিয়েছেন। কিন্তু মাজালঙ বাজার তো তেমন বড় বাজার নয়! কে কার জিনিস কিনবে! 
জুম্ম কুদুগুলো বা লাউ একটি দাম মাত্র ১০ টাকা!। বেগুন কেজিপ্রতি ৩০ টাকা! চারটি ছোটো ছোটো মুক্কে বা ভূট্টা সিদ্ধ করে বাধা হয়েছে। দাম ১০ টাকা। ওজোন শাক নামে এক জুম্ম শাক-এর কয়েক আটির দাম এক ব্যবসায়ী হাকাচ্ছেন মাত্র ৫ টাকা! কাল্লোঙটি মাটিতে না নামাতেই জুম্ম কুমুরো আনা এক নারীকে বললাম কুমুরোর দাম কতো? বললো ২৫ টাকা! দুপুর গড়াতেই এই কুমরোর দাম ১০-১৫ টাকার বেশি ঠেকবে বলে মনে হলো না! 
জুমচাষীরা এত কষ্ট করে যে জিনিস উৎপাদন করলেন তার ন্যায্য দাম না পেলে তারা কিভাবে তাদের সংসার চালাবেন?!

কিন্তু এদিকে খেয়াল করলাম- প্রশাসন থেকে শুরু করে চেয়ারম্যান মেম্বার ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার লোকজন চাল ডাল চান্দের গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছেন সাজেকে! তাদের উদ্যেশ্য যে তারা সাজেকবাসীকে ‘সহযোগিতা’ করবেন! 

এ যে সাজেকবাসীকে অপমান করার সামিল! 
এ যে সাজেকবাসীর কঠোর শ্রমের মূল্য না দিয়ে তাদের ‘আলঝি’(অলস/কুড়ে) করে রাখার ‘প্রাণান্তকর’ প্রচেষ্টা! 

এ যে প্রশাসন সরকার তথা ’মানবদরদীদের’ ভন্ডামি!

সাজেকবাসীকে ’হাত পেতে’ দিনযাপন করার জন্য কি তারা বলছেন!? 

এতসব দয়া দক্ষিণা দান ত্রাণ প্রদান মানবিকতা না দেখিয়ে এই যে সাজেক এলাকার জনগণ এত কষ্ট করে জুম্ম ফসল উৎপাদন করে তার ন্যায্য দাম প্রাপ্তির নিশ্চয়তা করে দিতে কি এই সরকার প্রশাসন মানবদরদীরা কোনো উদ্যোগ নিতে পারেন না!? 
তারা সেই উদ্যোগ নেবেন এই আশা রইল। 

এবং লোকজনের মধ্যে ভিখারী স্বভাব জাগ্রত না করিয়ে তাদের শ্রমের মর্যাদা দিয়ে তাদের মানুষ হিসেবে নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সবাই সচেষ্ট থাকবেন এই প্রত্যাশা রইল। 

Thursday, July 3, 2014

শুধু পাহাড়িদের জন্য ১৪৪ ধারা!

সিএইচটি২৪.কম
বৃহস্পতিবার; ০৩ জুলাই, ২০১৪
পার্বত্য চট্টগ্রাম:
পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের অন্যতম সদস্য তদেকমারা কিজিঙে বৌদ্ধমূর্তি তৈরীর স্থান পরিদর্শনের সময় কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করলেন, ১৪৪ ধারা শুধু কি পাহাড়িদের জন্য? পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের সদস্যগণ আজ বাঘাইছড়ির বঙলতুলির তদেকমারা কিজিঙ পরিদর্শনে যান। সেখানে তাদের সাথে এলাকার কয়েকশত পাহাড়ি নারী পুরুষ যোগ দেয়। এ সময় পাহাড়ি ছাড়াও শতাধিক সেটলার উক্ত এলাকায় অবস্থান নেয়।
সুলতানা কামাল তদেকমারা কিজিঙে বৌদ্ধমূর্তি নির্মানের স্থানে ঢুকতে গেলে কর্তব্যরত এক পুলিশ কর্মকর্তা বলে ওঠেন, প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে, এত লোকজন ঢোকা যাবে না। জবাবে সুলতানা কামাল পুলিশকে বলেন, আপনি তো আইনের লোক। তিনি তখন দূরে দাড়িয়ে থাকা শতাধিক সেটলার বাঙালিরে দিকে আঙুল উচিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠেন, ১৪৪ ধারা কি তবে ঐ দূরে দাড়িয়ে থাকাদের(সেটলার বাঙালি) জন্য নয়? এই প্রশ্ন পুলিশ কর্মকর্তাকে করলে পুলিশ কর্মকর্তা থতমত খেয়ে ওঠে এবং কোনো জবাব না দিয়ে বলে, আপনারা ঢুকতে পারবেন, ওরা(পাহাড়ি) নয়।(উল্লেখ্য, প্রশাসন কোনো স্থানে ১৪৪ ধারা জারি করলে সেখানে ৪ জনের অধিক লোকজন একত্রিত হতে পারবে না বলে আইনে লেখা রয়েছে। কিন্তু অধিক সংখ্যায় সেটলার একত্রিত হবার পরও পুলিশ কর্মকর্তা তাদের বিষয়ে কথা না বলায় সুলতানা কামাল এই প্রশ্ন তোলেন)।
এ সময় তিনি পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করেন, এলাকায় মসজিদ রয়েছে কি না। পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, দুইটি মসজিদ রয়েছে। একটি সেনাবাহিনীর জন্য এবং আরেকটি দুই পরিবার সেটলারের জন্য। এ সময় সুলতানা কামাল বলেন, যেস্থানে মসজিদ বানানো হয়েছে সেই স্থান রিজার্ভ ফরেষ্টের অন্তর্ভুক্ত  কি না। পুলিশ কর্মকর্তা হ্যা বলে জবাব দেন। এ সময় সুলতানা কামাল বলেন, মাত্র দুই পরিবারের জন্য রিজার্ভ ফরেস্টে এলাকায় মসজিদ থাকতে পারলে তবে কেন ৪৫০ পরিবার পাহাড়ি বা জুম্ম পরিবারের জন্য মন্দির বা বৌদ্ধমূর্তি তৈরী করা যাবে না। এ প্রশ্ন করলে পুলিশ কর্মকর্তা তা এড়িয়ে যান।
উল্লেখ্য সিএইচটি কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল গত ২ জুলাই থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিদর্শনের জন্য আসে। সফরের অংশ হিসেবে আজ প্রতিনিধি দলটি দীঘিনালার বাবুছড়া ও বাঘাইছড়ির তদেকমারা কিজিঙে সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য যায়।

Wednesday, July 2, 2014

লড়াইয়ের মানে!

লড়াইটা সাজসুন্দর নুদিনাট্যার স্থান নয়!

লড়াইটা ফিটফাট ভিতর সদরঘাটের সাজন নয়
লড়াইটা নাকি সুরে পলকা হাওয়ায় ভাসা নয়

লড়াইটা অন্তর্জালে বাকবাকুম পায়রা নয়!

লড়াইটা রেততো সাত আহল বিন্নে এক আহল নয়!

লড়াইটা পিঠ দেখিয়ে সটকানো নয়!

লড়াইটা হাতখূলে গান গাওয়া নয়!

লড়াইটা বুকসটান দাড়িয়ে থাকাও তো নয়!

লড়াইটা মিঝে কধা নয়!

তাহলে লড়াইটা কি?

লড়াইটা হলো ইতিহাস!

লড়াই হলো লড়ে যাওয়া!

লড়াই করা মানে হতাশ না হওয়া!

লড়াই মানে আশার আলোর হাতছানি!

লড়াই হলো সবকিছু যার কিছু নেই!

লড়াই কি তার বর্ণনা যে আমি দিতে জানি না!