Thursday, October 31, 2013

আমার লেখা দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকায় অন্যের নামে ছাপানোর প্রতিবাদ পত্র(ইমেইলে দৈনিক পূর্বকোণে প্রেরিত)


বরাবর,
সম্পাদক
স্থপতি তসলিমউদ্দিন চৌধুরী
দৈনিক পূর্বকোণ
৯৭১/এ, সিডিএ এভেনিউ, পূর্ব নাসিরাবাদ, চট্টগ্রাম।

তারিখ: ৩০ অক্টোবর, ২০১৩

বিষয়: আমার একটি লেখা আপনার পত্রিকায় অন্যের নামে ছাপানো বিষয়ে আপত্তি ও প্রতিবাদ।

সূত্র: ২২ অক্টোবর; ২০১৩ এর দৈনিক পূর্বকোণ সংখ্যার আন্তর্জাতিক পাতা পৃষ্ঠা ৭। লেখার শিরোনাম- ভো নগুয়েন গিয়াপ-ভিয়েতনাম বিপ্লবের এক গণনায়কের নাম।

সম্মানিত;
আমার সম্মান ও শুভেচ্ছা নেবেন।
আমি মিঠুন চাকমা। মাঝে মাঝে ব্লগ ও ওয়েবসাইটে বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করি। কয়েকদিন আগে আমি ভিয়েতনামের বিপ্লবী নেতা ভো নগুয়েন গিয়াপের উপর একটি লেখা প্রকাশ করি।
উক্ত লেখা বিভিন্ন ব্লগ ও ওয়েবসাইটে প্রকাশের জন্য প্রেরণ করি। এবং আমার উক্ত লেখা বিভিন্ন ব্লগ ও ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, দৈনিক পূর্বকোণে আমার লেখাটি হুবহু প্রকাশিত হয়। কিন্তু লেখাটি আমার নামে প্রকাশ করা হয়নি। প্রকাশ করা হয়েছে “কল্যাণ চক্রবর্তী”র নামে।আমার লেখা অন্যের নামে আপনার পত্রিকায় প্রকাশিত লেখাটির ইন্টারনেট লিংক-:  http://dainikpurbokone.net/index.php/-lfontglfont-colorq5a5757qg-lfontg/2013-08-24-18-26-10/5950-2013-10-21-18-40-30

নিচে আমার উক্ত লেখাটি যে সকল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে তার লিংক প্রদান করছি।
লিংক ১: নতুন বার্তা ওয়েবসাইট- http://www.natunbarta.com/international-analysis/2013/10/05/48378/ec144089c0b113441e7ecff37e7d9878

লিংক ২: মঙ্গলধ্বনি.নেট ওয়েবসাইট- http://www.mongoldhoni.net/remembering-legendary-vietnamese-revolutionary-vo-nguyen-giap/

লিংক ৩: ব্লগ.সিএইচটি২৪.কম- http://blog.cht24.com/05/10/2013/308#.UnDhkKAUN18

লিংক ৪: পরিবর্তন ব্লগ- http://www.poriborton.com/blog/index.php/entry/2013-10-05-15-31-58


চট্টগ্রাম বিভাগের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত এবং স্বনামে ধন্য ঐতিহ্যবাহী একটি পত্রিকা দৈনিক পূর্বকোণে একজনের লেখা অন্যের নামে ছাপানোয় আমি খুবই দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে  এ বিষয়ে আমার আপত্তি ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
অতএব, উপরোক্ত বিষয়ে আপনার আন্তরিক সহযোগিতা পাবো এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।

বিনীত
মিঠুন চাকমা

ইমেইল: mithuncht@gmail.com


Wednesday, October 30, 2013

দেশের আইন-নীতি-এথিকস- টেনে টেনে যান ভাই টেনেটুনে থাকেন ভাই!

দেশে আইন যেদিকে টানবেন সেদিকে যাবে,

নীতি যেদিকে টানবেন সেদিকেই যাবে!

যৌক্তিকতা এবং অযৌক্তকতাকেও যেদিকেই টানবেন সেদিকেই যাবে!

এথিকসকেএ সেভাবেই পাবেন!

কিন্তু বাস্তব সমস্যার বাস্তব সমাধান,

দেখি এদিক সেদিক টানলেও আমরা পাই না!

কুছ পরোয়া নাই! কুছ পরোয়া নাই!

টেনে টেনে যান ভাই টেনেটুনে থাকেন ভাই!

Tuesday, October 29, 2013

পাহাড়ে আগুন জ্বলবে- পার্বত্য বাঙালি নাগরিক পরিষদের ঘোষনা

সিএইচটি২৪.কম খবর
৩০ অক্টোবর, ২০১৩

পার্বত্য চট্টগ্রামপার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের (সংশোধীত) আইন সংসদে পাস করা হলে পাহাড়ে আগু জ্বলবে বলে হুঁমকি দিয়েছে, পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা এবং উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি ইঞ্জি: আলকাছ আল মামুন ভুঁইয়া।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে গণমাধ্যমকে দেওয়া পার্বত্য নাগরিক পরিষদে বার্তা প্রেরক মো.খলিলুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিবৃতিতে একথা জানানো হয়।

বিস্তারিত বিবরণ পড়তে ক্লিক করুন: পরিবর্তন.কম

রাজনীতি এখন পরিণত হয়েছে কৌতুকে, তাই দেশে এখন কৌতুক অনুষ্ঠান করার দরকার হয় না




আমি চিন্তা করছিলাম বাংলাদেশে কেন এখন কৌতুক অভিনয় তেমন হয় না!

আসলে রাজনীতির রাজপথ-টিভি টকশোসহ সর্বত্র এত
কৌতুক আর কমেডি শো দেখা যায় যে,
টিভিতে আলাদা করে কমেডি শো বা কৌতুক অভিনয় বা কৌতুক নাটক বা

অনুষ্ঠান দেখার প্রয়োজনই বাংলাদেশের জনগণের হয় না

Monday, October 28, 2013

ভারত বিভাগের সময় পার্বত্য চট্টগ্রামের তৎকালীন নেতৃত্বের ভূমিকা

আলোচনায় কিছু পয়েন্ট যোগ করা দরকার মনে করছি-

স্নেহ কুমার চাকমা


##১.আনন্দ বিকাশ চাকমা শুধুমাত্র ধর্মকে উপজীব্য করে ভারতের সাথে না থেকে পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্ত হবার পক্ষে মত দেবার চেষ্টা করেছেন। অথচ, ভারতের অন্তর্ভূক্ত হবার বিষয়টি শুধুমাত্র ধর্মের জন্য ছিলো না। তাতে সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক অধিকারের বিষয়সমূহও অন্তর্ভূক্ত ছিলো, এবং সর্বোপরি ছিলো সংস্কৃতিগত বিষয়।

তাছাড়া, পাকিস্তানী শাসকশ্রেনী আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে হাজার মাইল দুরে, সংস্কৃতি-রাজনৈতিক-সামাজিক যে কোনো দিক থেকে তাদের সাথে আমাদের আত্মিক মিল ছিলো না। (এখানে বলা দরকার পূর্ব বাংলা কিন্তু পাকিস্তানী শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু ছিলো না।)।এ সকল বিষয় আনন্দ বিকাশ চাকমা সযত্নে এড়িয়ে গেছেন এবং ধর্মকেই প্রাধান্য দিয়ে পাকিস্তানে অন্তর্ভূক্তির পক্ষে অবস্থান রেখেছেন।


###২. স্নেহ কুমার চাকমা-ঘনশ্যাম দেওয়ান প্রমুখরা ভারতে অন্তর্ভূক্ত হবার জন্য আরেক কারণে চেষ্টা করেছিলেন- তা হলো, ভারত পাকিস্তান থেকে অধিকতর জনগণের অধিকার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এবং এমনকি সামন্ততন্ত্র বা রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বাতিল করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করার আশ্বাস বিভিন্ন অঞ্চলকে দিয়েছিল।(সংক্ষেপে বলছি। তাছাড়া, এখন আমার কাছে সূত্র উল্লেখের মতো বই হাতের কাছে নেই। অনেকদিন আগে এসব বই পড়েছি।) এতে চাকমা রাজন্য বা অন্য রাজাগণ পাকিস্তানে অন্তর্ভূক্ত হতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেননি।


#### ৩. আরেকটি বিষয়- সেটা হচ্ছে, তৎকালীন আমাদের সামাজিক-প্রতিষ্ঠিত এবং নতুন উঠতি নেতৃত্বের ভূমিকা কেমন ছিলো? সে ভূমিকা সঠিক ছিলো নাকি বেঠিক ছিলো? এ বিষয়ে আলোচনা অনেক বড় ক্যানভাসে করা দরকার বলে মনে করি। তবে দুয়েকটি পয়েন্ট উল্লেখ করছি।

জুম্ম জনগণ বা আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের তৎকালীন নেতৃত্বকে আমরা মোটাদাগে তিনভাগে ভাগ করতে পারি।

ক) রাজন্য নেতৃত্ব(এ অংশে রাজা নলিনাক্ষ রায় নেতৃত্বে রয়েছেন)।


খ) দেওয়ান নেতৃত্ব বা তৎকালীন সময়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি( এ অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন কামিনী মোহন দেওয়ান)

গ) নতুন উঠতি নেতৃত্ব( এ অংশে রয়েছেন স্নেহ কুমার চাকমা, ঘনশ্যাম দেওয়ান প্রমুখ)

 ###### ৪. তৎকালীন নেতৃত্বের ভূমিকা সংক্ষেপে উল্লেখ করছি-

১. রাজন্য নেতৃত্ব তৎকালীন সময়ে জনগনের কথা চিন্তা করেনি। তারা চিন্তা করেছেন নিজেদের গদি রক্ষা কিভাবে করা যায় তা নিয়ে। এবং তাই স্বাভাবিক ছিলো সে সময়ে। তাই তারা পরে পাকিস্তানেরই পক্ষ নিয়েছিলেন। কারণ এতে তাদের রাজশক্তি টিকবে। ভারতের অন্তর্ভূক্ত হলে তারা রাজত্ব হারাবেন।

২. কামিনী মোহন দেওয়ানের নেতৃত্বাধীন অংশটির ভূমিকা তখন নেই বললেই চলে। এ অংশটি রাজন্য ও স্নেহকুমার দুই অংশকেই সমালোচনা করেছে। কিন্তু তাদের সক্রিয় কোনো ভূমিকা সে সময় ছিলোনা। তবে কামিনী মোহন দেওয়ান যদি তার 'পার্বত্য চট্টলার এক দীন সেবকের কাহিনী' যদি লিখে না যেতেন তবে হয়তো আমরা ইতিহাসের কানাগলিতে হাতড়াতাম! এ জন্যই মাত্র তাঁকে ধন্যবাদ দেওয়া যায়। নেতৃত্বের ভুমিকা বিষয়ে তাঁর বা এ অংশের কোনো ভূমিকা নেই। তারা কথায় সিদ্ধ, কাজে বা বাস্তব ভূমিকায় নয়।

৩. শেষ অংশটির প্রতিনিধিত্বকারী হলেন, স্নেহ কুমার চাকমা, ঘনশ্যাম দেওয়ান প্রমুখরা। তাদের ভূমিকা কেমন ছিলো আরো কী হতে পারতো তা নিয়ে নানা আলোচনা চলতে পারে এবং এভাবে আলোচনা হলে বরং আমাদেরই সুবিধা হবে। আমরা ইতিহাস সচেতন হয়ে উঠবো। তবে তাদের ভূমিকা জনগণের পক্ষে ছিলো।

তারা জনগনেরই অধিকার চেয়েছেন। তাতে বা্ এই চাওয়ায় ভুল থাকতে পারে। কিন্তু তাদের আকাঙ্খাটাই তাদের সম্মানের জায়গা নির্দিষ্ট করে দেয়। আলোচনা চলতে থাকুক। আমরা চোক মু ফুত্যে হয়ে উঠি।

Sunday, October 27, 2013

সাহিত্য শিল্পকে যারা কৃত্রিম বলে অবজ্ঞা করে তারা সত্যকে জানে না

শিরোনামটি আমার মন্তব্য নয়। এই বক্তব্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। তিনি 'সত্য ও বাস্তব' নামে ছোট এক প্রবন্ধে তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ করেন (প্রবন্ধটির প্রকাশকাল জুন, ১৯৪১)। এই প্রবন্ধটি 'সাহিত্যের স্বরূপ' নামক প্রবন্ধ সমষ্টির  অংশ।

আজ আমি তাঁর এই লেখাটিকে উপজীব্য করে সাহিত্য শিল্পকে দেখার চেষ্টা করবো! পার্বত্য চট্টগ্রামের সাহিত্য বা শিল্পকে আমরা কীভাবে দেখবো তা এই ছোট প্রবন্ধে যেন উল্লেখ রয়েছে!

 মানুষ চায় মনের মতো
তিনি তাঁর এই প্রবন্ধে বলছেন-
মানুষ আপনাকে ও আপনার পরিবেষ্টন বাছাই করে নেয় নি। সে তার পড়ে-পাওয়া ধন। কিন্তু সঙ্গে আছে মানুষের মন; সে এতে খুশি হয় না। সে চায় মনের-মতোকে।
মানুষ কেন মনের মতো চায়?  রবি ঠাকুর বলছেন-
সে সম্পূর্ণ রূপ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে নি; তাই আপনার সৃষ্টিতে আপনার সম্পূর্ণতা বরাবর সে অর্জন করে নিজেকে পূর্ণ করেছে। সাহিত্যে শিল্পে এই-যে তার মনের মতো রূপ, এরই মূর্তি নিয়ে ছিন্নবিচ্ছিন্ন জীবনের মধ্যে সে আপনার সম্পূর্ণ সত্য দেখতে পায়, আপনাকে চেনে।
 তিনি আরো বলছেন-

বড়ো বড়ো মহাকাব্যে মহানাটকে মানুষ আপনার পরিচয় সংগ্রহ করে নিয়ে চলেছে, আপনাকে অতিক্রম করে আপনার তৃপ্তির বিষয় খুঁজছে সেই তার শিল্প, তার সাহিত্য। দেশে দেশে মানুষ আপনার সত্য প্রকৃতিকে আপনার অসত্য দীনতার হাত থেকে রক্ষা করে এসেছে। মানুষ আপনার দৈন্যকে, আপনার বিকৃতিকে বাস্তব জানলেও সত্য বলে বিশ্বাস করে না। তার সত্য তার নিজের সৃষ্টির মধ্যে সে স্থাপন করে। রাজ্যসাম্রাজ্যের চেয়েও তার মূল্য বেশি।

হ্যাঁ, রবি ঠাকুর সত্য কথাই বলেছেন! মানুষ তার আপন সীমাবদ্ধতাকে বা দীনতাকে সত্য বলে বিশ্বাস করতে চায় না বলেই সাহিত্যে তার স্বপ্নকে লালন করে, শিল্পে নিজের পূর্ণতাকে খুঁজে নিতে চেষ্টা করে। এবং এই সৃষ্টিই তাকে অমূল্য রতন দিয়ে দেয়! তার সাথে রাজ্যসাম্রাজ্যেরও যে তুলনা হয় না!
কী সেই সাহিত্য বা কী সেই শিল্প যা রাজ্য সাম্রাজ্যের চেয়ে দামি হয়ে ওঠে? কেন তা এত দামি হয়ে ওঠে?
নিজেকে বা নিজের চারিপার্শ্বকে পরিপূর্ণতা দেয়ার সাহিত্যিক প্রচেষ্টাই তো তার কাছে দামি মূল্যবান এমনকি সাম্রজ্যের চেয়েও! সাম্রাজ্য রাজ্য ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু সাহিত্য শিল্প যা সমাজের দর্পণ এবং একই সমাজ জাতির অপূর্ণতাকে পরিপূর্ণতা দেয়ার 'হাতিয়ার', তা শত শত বছর ধরে টিকে থাকে, শত শত বছর ধরে সেই সৃষ্টি সমাজ জাতিকে পথ দেখায়, পথের নিশানা দেয়।
এই বহমান অমূল্য সম্পদকে যে সমাজ বা জাতি অবজ্ঞা করতে চায় সে যে সত্যকেই জানে না!

রবি ঠাকুর বলছেন-
যেখানে মানুষের আত্মপ্রকাশের অশ্রদ্ধা সেখানে মানুষ আপনাকে হারায়। তাকে বাস্তব নাম দিতে পারি, কিন্তু মানুষ নিছক বাস্তব নয়। তার অনেকখানি অবাস্তব, অর্থাৎ তা সত্য। তা সত্যের সাধনার দিকে নানা পন্থায় উৎসুক হয়ে থাকে। তার সাহিত্য, তার শিল্প, একটা বড়ো পন্থা। 


'সাহিত্য শিল্পকে যারা কৃত্রিম বলে অবজ্ঞা করে তারা সত্যকে জানে না।' তারা জানে না সাহিত্য ও শিল্প বাস্তব এবং খুবই জীবন ঘনিষ্ট! এই জীবনকে আপনারা আমার কী চোখে দেখতে চাই? এই বাস্তব সত্যকে আমরা কীভাবে গড়তে চাই?

আপনাকে অতিক্রম করে কীভাবে আমরা নিজের জন্য, জাতি বা সমাজের জন্য তৃপ্তির-গর্বের-গৌরবের এক নিরবিচ্ছিন্ন জীবনবোধ উপহার দিতে পারি তাই কি আজ আমাদের সাহিত্যিক শিল্পী লেখিয়ে লেখকদের ভাবনার বিষয় হওয়া প্রয়োজন নয়? চলমানতাকে রূদ্ধ করা কি তার কর্তব্য? সে কি তবে বেঁধে নিতে চায়, বেঁধে রাখতে চায় বহমানতাকে?

বদ্ধ দুয়ার রূদ্ধ অবস্থাকে নয়, কৃত্তিমতাকে নয়, অসত্যকে নয়, পর বৃত্তিশীলতাকে নয়, পরশাল্যকে নয়! আসুন! সত্য ও বাস্তবকে তুলে ধরি! উচ্চে তুলে ধরি বহমানতাকে, বিকাশমানকে, ইতিহাসের চলমান বহমান স্রোতকে!ইতিহাস মানে তো তুমি আমি! আমরা! আমাদের মান মর্যাদা আত্ম মর্যাদা কেন তবে ভুলুন্ঠনে! স্রোত কে রূদ্ধ করে? কে?

প্রকৃত শিল্পী সাহিত্যিক বা লেখক কি তা হতে দেবে? না, কখনো ই নয়, কখনোই হতে দেবে না! ! !

কারণ শিল্প সাহিত্য কচুরিপানা থেকে জন্মায় না, জন্মায় না শেওলা থেকে...
তার জন্ম বাস্তব হতে, সত্য থেকে, সত্য চলমান...


 

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, ফোনালাপ এবং ড্রিবলিং পলিটিক্স

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে কিভাবে এককথায় বর্ণনা করা যায়?

আসলে এক কথায় ছেঁড়া পালের নৌকার মতই আজ বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা।
নির্বাচান কিভাবে কোন সরকারের অধীনে হবে তা মূল সমস্যা বলে মনে হলেও মূল সমস্যা কিন্তু তা নয়। সমস্যা সমাধান শুধু তাতেই নিহিত নয়।
আসলে দেশের সমস্যা হচ্ছে বাঙালি জাতীয়তাবাদের আর বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের মধ্যে 'ধনুর্ভাঙা পণ' বিবাদ! এই বিবাদ বর্তমানে দুই ক্ষমতামদমত্ত স্বার্থবাদীদের মধ্যে।

প্রসঙ্গ ফোনালাপ
শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার মধ্যে ফোনালাপ নিয়ে ২৬ অক্টোবর দিনভর নানা নাটক-নাটিকার মঞ্চস্থ হলো। এবং শেষমেশ শেখ হাসিনা খালেদা জিয়াকে ফোন করলেন মোবাইলে, অফিসিয়াল ল্যান্ডফোনে নয়।

প্রথমত, বলা যায়, এই ফোনালাপ তারা নিজেদের মন থেকে করেননি। দেশের ভেতরে এক বাইরের চাপের কারণেই তারা করেছেন। এবং সেজন্যেই তাতে প্রাণ ছিলো না , ছিলো না আন্তরিকতা। ছিলো শুধু লোক দেখানো ভাব!
দ্বিতীয়ত, ফোনালাপের আগে তারা 'হোম ওয়ার্ক' করেননি। তারা ফোনালাপের আগে আলোচনার বিষয় ঠিক করতে পারতেন। সেটা তারা করেননি। সমস্যাকে চিহ্নিত না করে সমাধান কিভাবে আসবে? নির্বাচন তো সমস্যা নয়!

এই ফোনালাপ বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের অর্বাচীনতাকে একটু কড়মড়ে করে তুলে ধরলো।

বিশেষ করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন অংশটি এতে আরো বেশি অর্বাচীনতা দেখালো! (ভুল বললাম না তো! )
খালেদা জিয়া দুয়েক পয়েন্টে সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত দিতে পারতেন!
খালেদা জিয়ার দরকার ছিলো সুনির্দিষ্টভাবে কথা বলা। বিরোধীদল হিসেবে এবং টানা ৫ বছর নানা সরকারী নিবর্তন সহ্যকারী হিসেবে তিনি অনেক কথা বলতে পারতেন। এককথায় প্রাথমিক কিছু শর্ত দিতে পারতেন!
যেমন,প্রথমেই তিনি লেভেল প্লেইং ফিল্ড সৃষ্টি করার জন্য অনুরোধ জানাতে পারতেন। সরকার তো এখন গণমাধ্যম-প্রশাসনসহ সকল ক্ষেত্রেই দলীয়বৃত্তকে শক্তিশালী করেছে!
এই সকল বিষয়কে যদি আগে ঠিক করা না হয় তবে সংলাপই তো ব্যর্থ হবে!(এটা আমার সরলীকৃত মত মাত্র!)

ড্রিবলিং পলিটিক্স এখনো চলছে!
কিন্তু আমরা এসব কিছুই দেখলাম না! বরং, একটি বহ্বারম্ভে লঘূক্রিয়া হতে দেখলাম!
ড্রিবলিং এখনো চলছেই! রিং ক্রিং ক্রিং ড্রিবলোমেসি আপাতত সবাইকে আশা জাগিয়েছে তা মন্দ নয়।

তবে ফেয়ার খেলা চাইলে ভালো রেফারিও দরকার রয়েছে! এমনকি দর্শকের ভূমিকাও ভালো থাকা চাই!

আপাতত যা চলছে চলুক!

ড্রিবলিং ড্রিবলিং ড্রিবলিং
গোল! হাততালি!
উফ! একটুর জন্য ! দুয়ো দুয়ো!


বিদ্র: এ সকল কথা সাধারণের এক মতামত মাত্র!

Saturday, October 26, 2013

ডেলও বুদ্ধি আর চোলও বুদ্ধির হারা!

মুই ম লেঘাআনঅর হেডিং দোঙ- ডেলও বুদ্ধি আর চোলও বুদ্ধির হারা! লেঘাগান বাংলাদেজঅর চলেত্তে পলিটিক্যাল অবস্তা লোনেই।
২৫ তারিগ' পরে বাংলাদেজঅর পলিটিক্যাল অবস্তা অন্যধুক্কেনগুরি বুদুল্যে। আওয়ামীলীগ সরকাজ্যার মেয়াদ ২৫ অক্টোবর ফুরেইয়ে। ইক্কে তারা ইলেকশনঅ কাউন্টডাউন চলের। এ সময়অত এইনেই ওপোজিশনঅ নেতা হালেদা জিয়া ডিকলেয়ার গুজ্জে যে, যে সরকার আঘে সিবে অবৈধ, অর্থাৎ ইললিগেল। হালেদা জিয়া গ্যাল্লে ২৫ তারিক ঢাকা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানঅ জদামেলাত এ কধাগান কুইয়ে। সে পরে ত্যা ৬০ ঘনতার এসত্রাইক ডাক্কে।

ইন্দি, দিএকদিন আগে কোনো এগ্গান জাগাত সরকারঅ নেতা সুরনজিত সেনগুপ্ত কুইয়ে, যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কুনঅ সময় হালেদা জিয়ারে ফুন গুরি পারে। সিআন লোনেই সুরনজিতে আগ বাড়েনেই কধা কুইয়ে কিনে সরকার দলঅ নানা জনঅত্তুন কধাও শুন্যে ভিলি কোই পারা জিএ(লিংক- বিডিনিউজ২৪.কম)। কিন্তু ইচ্চে(২৬ অক্টোবর, ২০১৩) বিল্লে সাজন্যা মাদান ঘিচ্চেক ঘিচ্চেক গুরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনালোই বিরোধী দলঅত নেত্রী হালেদা জিয়ার কধা উইয়ে।
এ কধাবাত্তাত শেখ হাসিনা হালেদা জিয়ারে তার ৬০ ঘনতার এসত্রাইক বাদ দিবাত্তেই কোজুলি গুজ্জে আর ২৮ তারিক গণভবনঅত রেদোত হালেদা জিয়ারে ভাত হেবাদ্দেই নিমনত্রণ গুজ্জে।

শেখ হাজিনা আর হালেদা জিয়ার এনজান গমে কধাবাত্তা কনা দেঘিনেই ব্যাগে আঝা দেঘদন। আমিও দেজঅর গম আঝা গুরি পারি। আঝা গল্লে হতি দ নেই।

হালিক, ইওত এগ্গান রাজনীতি দেঘা জা'র! 

মত্তুন যা মনে উইয়ে সিআন লেঘঙর-

 ১. শেজেনদি আজলে সুরনজিতঅ দেলঅ পলিটিক্স হাদিলঅ বিরোধী দলেও সে পলিটিক্সঅত পুরিনেই ইক্কো বললো তা কোর্টঅত আনিলঅ। ইক্কো, হালেদা জিয়া জ্যোপ দি পেবঅ! হালিক ত্যা বা বিরোধীদলে কি রেডি?
আজলে সরকারঅর বর্তমান অবস্তারে বিরোধীদলে কোন জাগাত নেজেবঅ সিআন লোনেই চিদে এবঅ থিদির থাদার। তারা চিদে গরদন, বেচ ঝামেলা বাজেবার চ্যালে তারা ন পারিবাক। বরং থুগুরিউনোর দবদবা বাড়িবার সম্ভাবনা আঘে।

বরং নির্বাচন গুরিলে তারা তিগি থেবাক। তারা সরকারঅতঅ জেই পারিবাক।

২. সরকারে ইক্কো চা'র তারে নৈতিকভাবে যে 'অবৈধ সরকার' ভিলি বিরোধীদলে বানেবাত্তেই চা'র সিআন তারা ফিরন্দি চালান দিনেই জুনি নিজরে নৈতিকভাবেও বৈধ সরকার দাবি গুরি পারন তবে তারা র কাম গরদে সুবিধে অহবঅ। সেনত্তেই শেখ হাজিনা হালেদারে ফুন গুরিলঅ।

৩. হরতাল দাগিবার আমেজ ইক্কে জেনজান আঘে, সিআন অহলদে ভজমান দড়মড়। ইক্কে বিরোধীদলে সিআনঅত বেচ গুরুত্ত দ্যে। ইক্কে সরকাজ্যা জুনি তেম্বাঙঅ নাঙ গুরি এক্কেনা অহলেও বিরোধী নেতাকোরমীউনো ভিদিরে দড়অ মনআন নরম গুরি দি পারে তোইলে সরকারঅর লাভ। শাানদি ব্যাগে চান।

৩. আজলে দোনো পক্ক চেরেত্তা গরদন যে, মানজো সিদু আর বিদেজঅ সিদু তারা জাতে নিজঅ ভাবমুরতি গম রাগেই পারন।

কয়েকদিনঅ ভিদিরে কী ওই পারে? 

# # ইআন দেঘা যায়, গমে নির্বাচন অহলে এ অবস্তাত আওয়ামীলীগে ন জিনিবঅ।  আর নির্বাচন তা অধীনে গুরি পারিলে ত্যা কিজু এগ্গান গুরিনেই তিগি থেবার চেরেত্তা গুরিবঅ। ত্যা যে কুনোভাবে অহলেও অহয় সরকারঅত তেই বা অন্যভাবে নানাধুক্কেন গুরি জিনিবার চেরেত্তা গুরিবঅ।

### বিরোধী দলে দ সিআন অহবাদ্দেই ন দিবঅ। তারাও চেরেত্তা গুরিবাকে জেকুনোভাবে নিরবাচনঅত জিনিবাদ্দেই। হালিক ইক্কে সরকারে জে অবস্তাত আঘে বা প্রশাসন যে অবস্তাত আঘে সে কারণে নিরবাচনঅত জিনদে তার কঠিন অহবঅ।

#### তারে চেরেত্তা গুরি জেবাক নানা ধুক্কেনগুরি এগে অন্যরে নরম বা দুরবল গুরিবাদ্দেই।

##### অরতাত যে ড্রিবলিং পলিটিক্স চুলিবঅ। (হবরঅত দিঘিলুঙ, ২৮ তারিক শেখ হাজিনা জে নিমনতরন গুজ্জে সিওত হালেদা জিয়া ন জেবঅ। কারণ সে দিননোত এসত্রাইক। দাঘিলে ২৯ তারিক জেবঅ)

অরতাত আমি আরঅ কয়েকদিন সং রিনি চেই থেবং। কী অহয় সে পরে হবর পেবঙ! 
তবে, দেলও পলিটিক্স যে এবঅ হাদে বা এবঅ দেলও পলিটিক্সই জে ফ্যাক্তর সিআন ইচ্চে সং দেঘা গেলঅ। চোলও পলিটিক্স এবঅ গম কিজু গুরি ন পারের!


(লেঘাগান লিঘিলুঙ চাঙমা ভাচঅন্দি। মনঅ কধা অত্তে অত্তে নিজঅ ভাচঅন্দি কনা দরকার! মুই 'জানিয়্যে' হোলেবাদ্দেই এ লেঘা নহ লেঘঙ। বানা চাঙমা ভাচ চয্যা বা চজজা গুরিবাদ্দেই লিঘিলুঙ) 




রিং ক্রিং ক্রিং ড্রিবলোমেসি


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফোন করেছেন বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে। ফোন করেছেন দুপুর একটা থেকে আধঘন্টা ধরে।

যে সময়ে ফোন করেছেন সে সময়টি হচ্ছে সরকারী নিয়ম মতে লেইজার টাইম বা দুপুরের খাবার বিরতির। কিন্তু খালেদা জিয়া ফোন রিসিভ করেননি।বোধকরি সে সময় তিনি সরকারী নিয়মমতে খাবার বিরতিতে ছিলেন! অথবা অন্য কারণেও তিনি ফোন ধরতে পারেননি।

বিরোধীদলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আজ ২৬ অক্টোবর রাত নয়টায় বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া গুলশানে দলের কার্যালয়ে উপস্থিত থাকবেন। অনুরোধ জানানো হয়েছে, সে সময়ে শেখ হাসিনা যেন ফোন করেন।

এ নিয়ে এখন পত্রিকা নিউজ মিডিয়া সরব! 


এসব দেখে আমি দিলাম ফেসবুকে নিচের স্ট্যাটাস!

এতদিন শুনলাম পিংপং ডিপ্লোমেসির কথা, বল কার কোর্ট থেকে কার কোর্টে এ নিয়েও কথা শুনেছি। এখন শুনছি 'রিং ক্রিং ক্রিং' কার রিসিভার থেকে কার রিসিভারে...

এখন চলছে ড্রিবলিং ডিপ্লোমেসি! মেসির মতো সবাই ড্রিবলিং করেই যাচ্ছেন!

দেখা যাক কী হয়!

শেষের গোলটা কে দেয়!শেষ বাঁশি ....

জনতা হাত তালি দিতে, দুয়ো দিতে বা হল্লা করতে কিন্তু প্রস্তুত! অথবা ... নতুবা....

Friday, October 25, 2013

চাঙমা কবিতা নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে: বিপ্লব এবং কবিতার বিকাশ আমার কাছে সমার্থক



ফেসবুক গ্রুপে চাঙমা কবিতা নিয়ে আলোচনা চলছে। আলোচনা করা হচ্ছে বাংলা ভাষায়। আলোচনায় যারা অংশ নিয়েছেন তাদের অনেকের মতামত বা মন্তব্য আমার চোখে পড়েনি, অর্থাৎ আমি সব মন্তব্য পড়িনি। 

কিন্তু, হেগা চাঙমা সিএইচটিবিডি ফেসবুক গ্রুপে আলোড়ন খীসার একটি ছোট মন্তব্য শেয়ার করেছেন। মন্তব্যটি হলো-

 প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট-রা বলছেন চাকমা কবিতা নাকি এখনো শিশু, শুরুর পর্যায়ে রয়েছে, আপনাদের কি মনে হয় ?

আলোচনার সময় কে বা কোন ব্যক্তি বা কেউ হয়তো 'চাঙমা কবিতা এখনো শিশু পর্যায়ে রয়েছে' মন্তব্য করায় তিনি এই উদ্ধৃতি দিয়ে বিতর্কের অবতারনা করতে চেয়েছেন।

আমার মনে আছে অনেক বছর আগে যখন আমি ভার্সিটির ছাত্র ছিলাম তখন একটি ছোট লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদকের তাগাদায় চাঙমা কবিতা নিয়ে কিছু একটা লিখেছিলাম। কিন্তু হাতের কাছে সেই লিটল ম্যাগাজিনের সংখ্যাটি না থাকায় কী লিখেছি তা তুলে ধরতে পারছি না।

তবে ওই লেখায় আমি ১৯২৯ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকাম রাজপরিবার থেকে প্রকাশিত(সম্ভবত) 'গৈরিকা'র যুগ থেকে শুরু করে ষাট-সত্তর দশকের চেতনামূলক কবিতা-গান রচনা, আশির দশকের "ধিবেধিব্বে অক্ত' বা 'বদ্ধাবস্থার যুগ'  ও নব্বই দশকে 'জ্বলি ন উধিম কিত্তেই' থেকে শুরু করে শুন্য দশকের সামান্য বর্ণনা করে আলোচনাটির ইতি টেনেছিলাম। তবে কী সিদ্ধান্ত টানতে চেয়েছিলাম সে কথা মনে নেই।


চাঙমা কবিতার কালাকাল বা বর্তমান অবস্থা বিচার
 আজ(২৫ অক্টোবর) আলোড়ন খীসার মন্তব্যটি দেখে সংক্ষিপ্ত একটি মন্তব্য করেছি। তা-ও নিচে তুলে ধরছি- 

বিষয়টিকে সামগ্রিকভাবে একটি জাতিসত্তার ভাষা-সংস্কৃতির বিকাশের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে নিজস্ব একটি মূল্যায়ন এখানে শেয়ার করছি সংক্ষিপ্তভাবে। আসলে একটি সমাজ বা জাতির ভাষা বা তার সংস্কৃতির বিকাশের পর্যায় এমন নয় যে, শুধু একটি ক্ষেত্র বা শুধু কবিতাই বিকশিত হবে অন্য ক্ষেত্রগুলো বিকশিত হবে না। আসলে এটাই স্বাভাবিক যে, যেমনটি কবিতার বিকাশ হবে তেমনটি বিকাশ হবে গল্প-উপন্যাস-নাটক-সংগীত বা সমাগ্রিকভাবে ভাষাটিরও। কিন্তু চাকমা ভাষার ক্ষেত্রে তা কেন হচ্ছে না? প্রাথমিকভাবে বলা যায় এবং খুবই ডগমেটিকভাবে যে, ভাষার বিকাশ হচ্ছে না, কারণ রাজনৈতিক অধিকারহীনতা! কিন্তু কেউ তো 'চামেচ দিনেই ভাত হাবেই ন দিবাক' এই বিষয়টির দিকে খেয়াল করলে দেখা যাবে, বিকাশের 'বামনাবস্থায়' রয়েছে আমাদের সাহিত্য, তা কবিতা থেকে শুরু করে সকলকিছু। এই বামনাবস্থা থেকে মুক্তির উপায় কী?
আমার কাছে চাঙমা ভাষা বা সাহিত্য বা কবিতার বর্তমান অবস্থাকে "শিশুকাল" বলে মনে হয়না। এ বিষয়ে হেগা চাঙমার নিচের বক্তব্যের সাথে আমার সহমত পোষণ করছি। হেগা চাঙমার বক্তব্য- 

আর আপত্তিটা এখানেই যে কেউ যখন দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ঠিত হয়ে একে শিশু হিশেবে দেখতে চায়, ভূলাতে চায়... ভূলে যায় দায়িত্ব...
 আমাদের সীমাবদ্ধতা

আমাদের কী কী সীমাব্ধতা রয়েছে বা আমরা নিজের ভাষা সাহিত্য নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে আমরা কী কী সীমাবদ্ধতার চর্চা করি তার দিকে খেয়াল করে আমার কাছে মনেহয় চাঙমা কবিতা সাহিত্য বা ভাষার বিকাশের সীমাবদ্ধতা তো সেখানেই নিহিত! যেমন,

 এক. আমরা চাঙমা সাহিত্য বা ভাষা বা কবিতা নিয়ে আলোচনা করি আমাদের নিজের ভাষা দিয়ে নয়! নিজের ভাষার বিকাশ এক পর্যায়ে না গেলে কিভাবে ভাষা বা সাহিত্য বা কবিতার বিকাশ হবে!? চর্চা করলেই তো বিকাশ হবে ভাষা বা কবিতার!

দুই.  আমরা যদি চাঙমা ভাষার চর্চা বা বিকাশের দিকে খেয়াল করি তবে দেখি, আমাদের নিজেদের ভাষার কোনো পত্রিকা নেই। বলা হয়ে থাকে জাতিসত্তার বিকাশ তার ভাষা বা সংস্কৃতির বিকাশের সাথে অনেকটা সম্পৃক্ত। যদি দৈনন্দিনভাবে একটি চলিত বা চলতি ভাষার চর্চার ক্ষেত্র থাকতো তবেই না সেই ভাষার বিকাশ হতো। এবং একই সাথে হোত তার কবিতা-গল্প-প্রবন্ধ-নিবন্ধ-উপন্যাস বা সকল কিছুর বিকাশ।
যতদিন পর্যন্ত এই সীমাবদ্ধতা আমরা কাটিয়ে তুলতে না পারবো ততদিন পর্যন্ত ভাষার বিকাশকে কেউ 'শিশুকাল' বলে ঠাউরাবে বা কেউ বলবে 'বামন অবস্থা', অথবা কেউ কেউ কিছুটা আত্মতৃপ্তি তুলে বলতে পারে, আমরা এগিয়ে যাচ্ছি! চাঙমা কবিতা অনেক সমৃদ্ধ!
এভাবে আমরা তিন. চার. পাঁচ বা ছয় তারও বেশি সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করতে পারি। তারপরে সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে তুলতে পারলে ভাষার বিকাশ কেন হবে না!?


আসলে কবিতা অর্থ কী?
কবিতা নিয়ে আলোচনার আগে কবিতার মানে বা কবিতা বলতে আসলে কী বোঝায় তা নিয়ে আলোচনা করা হয়তো প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে আমি তত্ত্বগত বা একাডেমিকভাবে খুব কম জানি। এই বিষয়ে আলোচনা করলে চাঙমা ভাষায় 'বুড়ো হুদুগুলোত নক ফুদানা ধুক্কেন' হবে বলেই মনে হয়।

বিপ্লব বা সংগ্রাম বা প্রতিরোধ আর কবিতা সমার্থক

 কিন্তু রাজনৈতিক চেতনাগত দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে বলতে পারি যে, কবিতা মানে বিপ্লব, কবিতা মানে নতুন কিছু!
বেশ কিছুদিন আগে ফেসবুকে নোট আকারে ছোট করে লেখা একটি মন্তব্য এখানে শেয়ার করছি-

আজ চট্টগ্রামের ডিসি হিল দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। ডিসি হিলে প্রবেশ গেটে ডান দিকের দেয়ালে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে একটি কয়েক লাইনের কবিতা লেখা হয়েছে। পাশে তাঁর ছবি রয়েছে ' ঝাকরা চুলের বাবরি দোলানো'।হঠাৎ আমার মনে হলো এই ভারতবর্ষে তো আর কোনো কবিকে দেখিনা!

বাংলাদেশ নামে এই দেশে "স্বাধীনতা তুমি .. .... .... " দিয়ে যে কবিতা...
টি লিখেছিলেন তারপরে এখনো হয়তো কবিতা লেখা হয়। কিন্তু সত্য বলছি, আমি আর সেই কবিতার আমেজ পাইনা।

কবি হতে হলে কবিতা লিখেতে গেলেও যে রূদ্রদিনের রক্তিম লাল উথাল-পাথাল বিপ্লব লাল লালে লাল কিছু্র দরকার হয়!

নতুন কোনো কবিতা মানেই তো নতুন কোনো বিপ্লব, উত্থান-পতন-উত্তাল-উদ্বেলিত দিন! সেই উত্তাল উদ্বেলিত বিপ্লব তো এখন হাতের কাছে নেই! কবি তবে কীভাবে সৃষ্টি হবে!?

আমরা আমাদের নিজেদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে তুলি। তারপরে ভাষা বা কবিতার বিকাশ কেন হবে না তা নিয়ে চ্যালেঞ্জ ঘোষনা করতে পারি!

শুরু করার মাধ্যমেই মাত্র কিছু করা যায়! 



Thursday, October 24, 2013

ভো নগুয়েন গিয়াপ: ভিয়েতনাম বিপ্লবী সংগ্রামের ইতিহাসে এক গণনায়কের নাম!

Giap
জেনারেল ভো নগুয়েন গিয়াপ মারা গেলেন ১০২ বছর বয়সে। গত শুক্রবার ০৪ অক্টোবর, ২০১৩ ভিয়েতনামের হ্যানয়ের এক সামরিক হাসপাতালে তিনি মারা যান। তাকে নিয়ে তার জীবন নিয়ে আমার সংক্ষিপ্ত একটি লেখা।
তাকে বিবেচনা করা হয় ইতিহাসের অন্যতম একজন সমর বিষয়ক কলাকুশলবিদ হিসেবে।  ফ্রান্স ও আমেরিকা সাম্রাজ্যবাদকে ভিয়েতনাম থেকে হটিয়ে দিতে তিনি সামরিকভাবে ভিয়েতনাম বিজয়ের ক্ষেত্রে স্থপতির মতো ভূমিকা রেখেছিলেন।
ভিয়েতনামে হো চি মিনের পর দ্বিতীয় নেতা হিসেবে তিনি বিবেচিত হন। তিনি আক্ষরিকভাবে বা আনুষ্ঠানিকভাবে কোন সামরিক প্রশিক্ষণ নেননি। কিন্তু ভিয়েতনামের সশস্ত্র বিপ্লবী গেরিলা যুদ্ধের তিনি ছিলেন সর্বাধিনায়ক। তিনি প্রথম সামরিক বিষয়ে পাঠের হাতেখড়ি ছিলো হ্যান্ড গ্রেনেডের মেকানিজম বিষয়ে একটি এনসাক্লেপেডিক এন্ট্রি থেকে।
 
বিপ্লবী বো নগুয়েন গিয়াপের জন্ম
১৯১১(মতান্তরে ১৯১২) সালের ২৫ আগস্ট তিনি উত্তর ভিয়েতনামের কুয়াঙ বিন প্রদেশের আন জা নামে এক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার পিতার নাম ভো কুয়াঙ নিঘিয়েন(Vo Quang Nghiem)। তার পিতা ছিলেন একজন শিক্ষাজ্ঞানসম্পন্ন একজন কৃষক এবং একজন জাতীয়তাবাদী। তিনি তার পুত্র ভো নগুয়েন গিয়াপকে ফ্রান্স সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই  করতে উদ্বুদ্ধ করতেন। অর্থাৎ, ছোটকাল থেকেই তিনি সংগ্রামী আবহে বেড়ে উঠেছিলেন।
তাই যুব বয়স থেকেই গুপ্ত জাতীয়তাবাদী সংগঠনে যোগ দেন।
গিয়াপ ১৯৩৭ সালে হ্যানয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনৈতিক অর্থশাস্ত্রের উপর লেখাপড়া করেছিলেন। একই সাথে তিনি থান লঙ স্কুল নামে একটি স্কুলে শিক্ষকতাও করতেন। সেখানে তিনি ইতিহাস বিষয়ে শিক্ষা দিতেন। তিনি সেখানে খুবই প্রাণবন্তভাবে ফ্রান্সের ঐতিহাসিক বিপ্লব নিয়ে ছাত্রদের বোঝাতেন বলে জানা যায়।
তার নেপোলিয়নের সামরিক কলাকৌশল সম্পর্কেও বিশেষ ধারণা  ছিলো। তার একজন ছাত্র স্মরণ করে বলছিলেন যে, তিনি ফ্রান্সের এই অধিপতির নানা যুদ্ধ পরিকল্পনা স্মরণ করে বলে দিতে পারতেন।
এঝাড়া তিনি তখন লেনিন, মার্ক্সের লিটারেচার পড়তেন। মাও সেতুঙের রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশল নিয়েও তিনি লেখাপড়া করেছেন। তিনি সে সময়ে আন্ডারগ্রাউন্ড জার্নালিস্ট হিসেবেও কাজ করেছিলেন। তিনি ফ্রেঞ্চ ভাষা অনর্গল বলতে পারতেন।
ভিয়েতনাম কম্যুনিস্ট পার্টির সদস্য
১৯৩৮ সালে তিনি হো চি মিনের ইন্দোচীন কম্যুনিস্ট পার্টির সদস্য হন। ১৯৩৯ সালে তিনি পালিয়ে চীনে যান। সেখানে তিনি হো চি মিনের সাথে দেখা করেন।
১৯৪১ সালের মে মাসের দিকে  হো চি মিনের নেতৃত্বে এক বৈঠকে বিভিন্ন সংগ্রামীদের নিয়ে যুক্তভাবে  ভিয়েতমিন নামে সংগঠন গড়ে তোলা হয়। এর পূর্ণাঙ্গ নাম ছিলো ভিয়েতনাম ডক লাপ ডং মিন হোই বা ইংরেজিতে League for the Independence of Vietnam।  এই বৈঠক থেকে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত  নেয়া হয়। ঠিক করা হয়, সশস্ত্র বাহিনী গঠন করা হবে, বিপ্লবী ঘাঁটি গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে, বিপ্লবের কাজ দ্রুততার সাথে এগিয়ে নিতে হবে এবং সশস্ত্র অভ্যুত্থানের জন্য প্রস্তুতি গ্রহন করতে হবে।
গিয়াপ সামরিক বাহিনী গঠন করতে ভূমিকা গ্রহণ করেন। এবং তিনি জাপানী দখলদারদের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ শুরু করতে ১৯৪৪ সালে ইন্দোচীনে ফিরে আসেন।
তিনি গেরিলা পদ্ধতিতে অর্থাৎ, হিট এন্ড রান পদ্ধতিতে লড়াই শুরু করেন। গেরিলা পদ্ধতির যুদ্ধ সম্পর্কে তিনি তার এক লেখায় লেখেন-
গেরিলা যুদ্ধ হচ্ছে উন্নততর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও অস্ত্রশস্ত্রে দিক থেকে সুসজ্জিত একটি আগ্রাসী সেনাদলের বিরু্দ্ধে একটি নিপীড়িত ও অর্থনৈতিক দিক থেকে পশ্চাৎপদ এক দেশের ব্যাপক জনসমষ্টির প্রতিরোধ সংগ্রাম। সেই সংগ্রামে প্রত্যেক গ্রামবাসীই হচ্ছে এক একজন যোদ্ধা, এবং গ্রামগুলো হচ্ছে দুর্গের মতো।


Giap2
ফ্রান্সের পরাজয়(ভিয়েতনামের বিপ্লবী বাহিনী কর্তৃক ফ্রান্সের পরাজয়)
১৯৪৫ সালের ০২ সেপ্টেম্বর হো চি মিন গণ প্রজাতন্ত্রী ভিয়েতনাম গঠনের ঘোষনা প্রদান করেন। এং গিয়াপ অভ্যন্তরীন মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগলাভ করেন।
ভিয়েতনাম দেশকে  ফ্রান্স স্বীকৃতি দিলো। কিন্তু দেশের দক্ষিণ দিকের চাল ও রাবারের উৎসের উপর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে গড়িমসি করলো। এজন্য আন্তর্জাতিক ব্যবসার উপর ট্যারিফ বা শুল্ক আরোপ করলো।
কম্যুনিস্ট পার্টি প্রতিরোধ সংগ্রাম শুরু করলো। গিয়াপ হাজার হাজার গেরিলা যোদ্ধাকে টংকিং পাহাড়ে সংগঠিত করলো এবং ফ্রান্সের বাহিনীর বিরুদ্ধে শুরু হলো সশস্ত্র গেরিলা পদ্ধতির লড়াই।
ফ্রান্স লাওসের সীমান্তের কাছে  ভিয়েতনামের দিয়েন বিয়েন ফু নামক জায়গায় সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করলো। সেখানে ১৩ হাজারের অধিক সৈন্যের সমাবেশ ঘটালো। ফ্রান্স এভাবে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে নিজের কর্তৃত্বকে নিরাপদ মনে করেছিল। কিন্তু এই নিরাপদ  সেনা ঘাঁটিতেই গিয়াপ চালালো ব্যাপক আক্রমণ।
গিয়াপ আমেরিকার তৈরী ভারি মেশিনগান সংগ্রহ করেছিল তা ফ্রেঞ্চ বাহিনীর জানা ছিলো না। গিয়াপ তা পাহাড়ের উপর স্থাপন করলো, নিচের শত্রু ঘাঁটিতে তাক করে রাখলো।
ফ্রেঞ্চ বাহিনী ভ্যালীর ভেতরে আটকা পড়ে রইলো। টানা ২ মাস হামলার সহ্য করার পরে এবং ৪০০০ হাজার সৈন্য হারাবার পরে ১৯৫৪ সালের  মে মাসের ৭ তারিখ  ফ্রেঞ্চ বাহিনী পরাজয় মেনে নিলো। এবং এই পরাজয় ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক শাসনের সমাপ্তি টানার বার্তা দিলো।
গিয়াপ দিয়েন বিয়েন ফু-য়ের লড়াই নিয়ে বলেছিলেন- পশ্চিমের জন্য এটি ছিলো প্রথম দুঃসহ এক পরাজয়। এটি উপনিবেশের ভিত নাড়া দিয়েছিলো এবং জনগণকে মুক্তির যুদ্ধে শরীক হতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। এটি  ছিলো আন্তর্জাতিকাবাদী সভত্যার সূচনা বিন্দু।
ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রায় ৩ লাখ ভিয়েতনামী মারা যায়। ফ্রান্সের পক্ষে মারা যায় ৯৪ হাজার।
ভিয়েতনামে নতুন করে আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের হস্তক্ষেপ


১৯৫৪ সালে যুদ্ধ বিরতি স্বাক্ষরিত হলো। এতে ভিয়েতনাম দুইভাগে ভাগ হলো। এই যুদ্ধবিরতি মতে  গণভোটের মাধ্যমে ভিয়েতনামের ভবিষ্যত ঠিক করার কথা।

কিন্তু গণভোট অনষ্ঠিত হলো না । দক্ষিণ ভিয়েতনামকে কব্জায় রাখতে ফ্রান্স ও আমেরিকা সেখানে পুতুল এক সরকার বসালো। এরই প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিনের জাতীয়তাবাদীরা গঠন করলো ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট যা আমেরকিার সৈন্যদের কাছে ভিয়েত কঙ নামে পরিচিত ছিলো। উত্তর ভিয়েতনামের সহায়তায় দক্ষিণ ভিয়েতনামে প্রতিরোধ সংগ্রামে গতিবেগ বৃদ্ধি পেলো।
তখন দক্ষিণ ভিয়েতনামে আমেরিকার সৈন্যবাহিনীর সংখ্যা ১৬ হাজারের উর্দ্ধে ছিলো।
এই দুর্বার গতি দেখে আমেরিকা ১৯৬৪ সালের মার্চ মাসে দক্ষিণ ভিয়েতনামের সাথে এক আঁতাত গড়ে তুলে সরাসরি ভিয়েতনামে হস্তক্ষেপের পথ প্রশস্ত করলো।

দক্ষিণ ভিয়েতনামে কম্যুনিস্টদের প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় আমেরিকা দক্ষিনের প্রশাসনকে সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান শুরু করলো।

১৯৬৫ সালে ভিয়েতনামে আমেরিকান বাহিনী অবতরণ করলো। এবার গিয়াপ উত্তরের বাহিনীকে দক্ষিনের ভিয়েত কঙ বাহিনীকে সহযোগিতা করার ব্যবস্থা করলো।

গিয়াপ বিশ্বাস করতেন, ভিয়েতনামে আমেরিকার প্রলম্বিত যুদ্ধ করার সামর্থ্য নেই। তিনি বলতেন-প্রলম্বিত যুদ্ধ মানেই তাদের জন্য বিরাট পরাজয়।তাদের নৈতিক বল ঘাসের চেয়ে নিচে।


টেট নগুয়েন ডান বা ভিয়েতনাম লুনার নিউ ইয়ারের প্রতিরোধ
ভিয়েতনাম আমেরিকার সৈন্যবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ছে।

লনার নববর্ষ বা টেট এর মিল রেখে ১৯৬৮ সালে ভিয়েত কঙ এবং ভিয়েতনামের উত্তর অঞ্চলের বাহিনী একসাথে ৪০টির বেশি প্রদেশের রাজধানীতে আক্রমণ করলো। তারা সায়গনে ঢুকে গেল এবং এমনকি আমেরকিান এম্বেসিতেও প্রবেশ করলো।

তবে ১৫ হাজার সৈন্য মারা যাবার পরে আমেরিকান বাহিনী ঘটনাক্রমে তাদের পিছিয়ে দিতে সক্ষম হয়। কিন্তু এই হামলা আমেরিকার জন্য মানসিক দিক থেকে একটি বিরাট ধাক্কা। এ কারণে তাদেরযুদ্ধ থেকে পশ্চাদপসর করে আমেরিকায় ফিরে আসতে বাধ্য হতে হয়। প্রায় ৮০ হাজার ভিয়েতনামী যোদ্ধা এই যু্দ্ধে অংশ নেয়।আতার মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার যোদ্ধা হয় আহত হয় বা নিহত হয়।
পরের বছর থেকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নিক্সন ভিয়েতনাম থেকে আমেরিকান সৈন্য সরিয়ে নেয়া শুরু করেন।
গিয়াপের নেতৃত্বে দক্ষিণ ভিয়েতনাম দখল করা সম্ভব হয় ৩০ এপ্রিল ১৯৭৫ সালে। সায়গনে আমেরিকার পুতুল সরকারের পতন ঘটে।
এরপর সোস্যালিস্ট রিপাবলিক অব ভিয়েতনাম গঠনের ঘোষনা প্রদান করা হয়।
এক হিসাব মতে আমেরিকা এই যদ্ধে তাদের ৫৮ হাজার সেনা সদস্যকে হারায়। ভিয়েতনামের পক্ষ থেকে শহীদ হন মোট ২৫ লাখের অধিক। ভিয়েতানামে তখন জনসংখ্যা ছিলো ৩কোটি ২০ লাখের মতো।

Giap3
সংগ্রামী ও বিপ্লবীর জীবনাবসান
স্যোসালিস্টভিয়েতনাম গঠিত হবার পরে গিয়াপ প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এবং ১৯৭৬ সালে ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি ৬বছর পরে দায়িত্ব থেকে অবসর নেন।
তিনি সামরিক স্ট্রাটেজির উপর কিছু বই লেখেন। এবং কমপক্ষে একজন ইতিহাসবিদ তাকে ওয়েলিংটন, রোমেল এবং ম্যাক আর্থারের মত নেতাদের সমকক্ষ হিসেবে তুলনা করেন।
সৈন্যবাহিনীকে উজ্জ্বীবিত করার সামর্থ্যের জন্য তার বাহিনীর সৈন্যদের কাছে তিনি “অগ্নিগিরি” হিসেবে পরিচিত ছিলেন, কিন্তু এই নামটি বিশ্ব পরিচিতি পায়নি।
তিনি মারা গেলেন ১০২ বছর বয়সে। ০৪ অক্টোবর ২০১৩ সালে। তার প্রথম স্ত্রী মারা গিয়েছিলেন ফ্রান্সের কারাগারে। তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী বিয়ে করেন ১৯৪৯ সালে।  তার নাম ডাঙ বিক হা। তার ৪ সন্তান রয়েছে।
সংগ্রামী জীবন বেছে নেয়া বিষয়ে জেনারেল গিয়াপ এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, যখন আমি তরুন-যুবক ছিলাম তখন আমি স্বপ্ন দেখতাম একসময় আমাদের দেশ মুক্ত হবে এবং আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারবো। এবং আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।
স্বপ্ন পূরণ হবার পরে্ অনেক বছর বেঁচে থাকার পরে সমাপ্ত হলো বর্ণাঢ্য এবং বিশ্বে আলোচিত এক জীবনের।

তথ্যসূত্র:
১. http://www.thanhniennews.com
২. http://www.nytimes.com
৩. http://www.bbc.co.uk

প্রসঙ্গ ভেজাল ঔষধ, ঔষধ বিক্রেতাদের ধর্মঘট এবং আমার অভিমত

র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বিভিন্ন ঔষধ মার্কেটে অভিযান চালায়। এ সময় ৫কোটি টাকার অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ জব্দ করে আদালত। এছাড়া ২৮টি ঔষধের দোকান সিলগালা করে দেয়া হয়। ১কোটি ২৮ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয় এবং আটক করা হয় ১০৩ জনকে।(খবরের সূত্র: বিডিনিউজ২৪.কম)
এই আকস্মিক অভিযান, আটক, দোকান সিলগালা করে দেয়া, জরিমানা ইত্যাদির প্রতিবাদে কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ০৩ অক্টোবর সারাদেশে ঔষধের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষনা দেয় এবং ঔষধ ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ করে দেয়। উক্ত সংগঠনটি ১৬টি দাবিও তুলে ধরে বলে জানা যায়।
এই কর্মসূচির ফলে রোগিদের ব্যাপক অসুবিধা হয়। যাদের জরুরি ঔষধের প্রয়োজন পড়ে তারা ঔষধ না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে।
সিউজ ওয়েবসাইটের সূত্র মতে আমরা জানতে পারি, ঔষধ ব্যবসায়ীদের এই ধর্মঘটের কারণে সরকার ঔষধ ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনায় যায়। এবং গ্রেপ্তাকৃত ব্যবসায়ীদের মুক্তি ও সিলগালাকৃত দোকান খুলে দেবার আশ্বাস দেয়।
এই জরুরি জনস্বার্থ সংশ্লষ্ট বিষয়টি নিয়েকিছু কথা বলা প্রয়োজন বলেই কিছু লেখার চেষ্টা করছি। কয়েকদিন আগে ঔষধ বিক্রিতে কর্মরত এক ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে জানতে পারলাম, ঢাকার জিঞ্জিরায় এখন নকল ঔষধ তৈরী করা হয়। তার কথা শোনার পর আমি হাঁ হয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকলাম! সে জানালো এসব নকল ঔষধগুলো খুবই নিন্মমানসম্পন্ন।
এছাড়া সে জানালো, সরকারকে কর ফাঁকি দিতে দেশের বাইরে থেকে ঔষধ আনা হয় অবৈধভাবে। এবং, দেশে পাওয়া যায় না; কিন্তু খুবই প্রয়োজনীয় ঔষধও অবৈধভাবে আনা হয়।
তার কথা শোনার পরে এবং ঔষধ ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট বা তাদের বিরুদ্ধে হঠাৎ অভিযান এইসব নিয়ে কিছু সংক্ষিপ্ত মন্তব্য না করে আর পারছি না!
১. একক গোষ্ঠীর হাতে ঔষধ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা দরকার-
ঔষধ শিল্পের মতো একটি ব্যবসা কখনোই একক গোষ্ঠি বা সিন্ডিকেটের হাতে রাখা বা রেখে দেয়া ঠিক হয়নি। এই শিল্পে যে সরকারেরও কিছু নিয়ন্ত্রণ অন্তত থাকা দরকার তা এখন সরকার এবং সচেতন জনগণের বোঝা প্রয়োজন বলে আমি মনেকরি।
২. হঠাৎ অভিযান চালানো কি ঠিক হয়েছে?
এখানে বলা দরকার সরকারের প্রশাসনযন্ত্রের এমন অনেক উৎসাহী কর্মকর্তা আছেন যারা হঠাৎ এমন কাজ করেন, যা আপাতভাবে ভালো বলে প্রশংসাও পায়। কিন্তু এই কাজগুলো যদি প্রশাসন কর্তৃক কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও পরিকল্পনামাফিক করা হতো তাহলে তার ফল আরো ভালো হতো বলেই বিশ্বাস। আমি বলতে চাচ্ছি, প্রশাসনের একক ব্যক্তির দ্বারা স্থিরিকৃত না হয়ে বা একক ব্যক্তির স্বতপ্রণোদিত প্রশাসনিক কাজ হাতে না নিয়ে আমাদের প্রশাসনের দরকার সমন্বিতভাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করা। এতে ভুল বা ঠিক কাজ হাতে নিলে প্রশাসনের জবাবদিহিতাও বাড়বে।
কিন্তু একক সিদ্ধান্তের কারণে অনেকে এই সকল অভিযানের কাজ করার কারণে অনেক সময় ভুলভ্রান্তি হলে সেই প্রশাসনিক ব্যক্তিই দোষী সাব্যস্ত হয়। যেমন উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কয়েক বছর আগে ঢাকায় এক প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তি ভেজাল বিরোধী অভিযান চালান। কিন্ত এক পর্যায়ে তিনি ব্যাপক সমালোচিত হন। এতে তার ভালো কাজের মূল্যায়ন সরকার করতে পারেনি। সুতরাং, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অগোছালো না হয়ে আরো সমন্বিত হওয়া দরকার বলে মনে হয়।
প্রশাসন ভেজাল ঔষধবিরোধী অভিযান চালিয়েছে তাকে আমরা অপরিকল্পিত প্রশাসনিক কর্মসূচি বলে ভাবতে চাই না। বরং, এই সময়ে যে ভেজাল বা নকল ঔষধবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে তাকে সরকারের প্রশাসনিক সমর্থন দেয়া দরকার বলে আমার মনেহয়। এই ধরণের কর্মসূচি বা অভিযান পরিচালনার আগে প্রচার প্রচারণা বা জনমত গঠনমূলক কা বা কর্মসূচি সরকারের করা দরকার ছিলো, তা নির্দ্বিধায় বলা যায়।
এখন এই সময়ে এসে সরকার সবদিক বিবেচনা করে এই সকল কাজ হাতে নেবে বলে আমরা আশা করি।
এ ধরণের কাজে এগিয়ে গিয়ে আবার পিছিয়ে আসা মানে প্রশাসনের দুর্বলতাকেই দেখিয়ে দেয় মাত্র।
হঠাৎ এ অভিযান করা ঠিক হোক তা একক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেই হোক বা সামষ্টিক সিদ্ধান্তই হোক প্রশাসনের ভেজালবিরোধী অভিযান কার্যক্রমকে এখন পেছানো ঠিক হবে না বলে আমার ব্যক্তিগত অভিমত।
৩.অনৈতিকতার কাছে সরকার মাথানত করতে পারে না
অবৈধ ঔষধ ও ঔষধ ব্যবাসায়ী আটকের পরে সরকার যদি তা থেকে পিছু হটে তাহলে আমরা সাধারণ জনগণ কি শিক্ষা পেলাম? ঔষধ ব্যবসায়রিা কী শিক্ষা পেল? আন্দোলন করলে অনৈতিক দাবিও যদি আদায় করা যায় তবে জনতা কি শিক্ষা পাবে? সরকার এর মাধ্যমে কী বার্তা দিতে চায়?
এটা সর্বজনবোধ্য যে, নকল বা ভেজাল ঔষধ বিক্রয় বা তৈরী করা নৈতিকতার দিক থেকে এমনকি স্বাস্থ্যগত দিকে থেকেও গুরুতর অপরাধের সামিল। এখন সরকার আন্দোলনের চাপে পড়ে যদি মাথানত করে তাহলে তা যে ঠিক কাজ হবে না তা বলাই বাহুল্য।
সরকার ইতিবাচকভাবে এই সমস্যার সমাধান করতে নাান পদক্ষেপ নিতে পারে। কিন্তু কোনোমতেই ভেজাল বিরোধী অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এমন কিছু করলে কিন্তু সরকার ভিন্ন এবং খুবই নেতিবাচক বার্তাই দেবে যা দেশের জন্য শুভকর হবে না।
সংক্ষেপে আমি এসকল কিছু মন্তব্য করলাম। এ বিষয়ে ফেসবুক সামাজিক মাধ্যম সোচ্চার ভূমিকা নেবে বলে আমার বিশ্বাস।
একজন নাগরিকের এভাবেই বিভিন্ন ইস্যুতে ভূমিকা রাখা দরকার বলে আমি মনেকরি।
ধন্যবাদ
মিঠুন চাকমা

নুপি লান: মনিপরী ইতিহাসে নারীদের গৌরবময় প্রতিরোধ সংগ্রামের নাম


25_The_first_nupilal_1904_(women_agitation_against_british)


(প্রথম মনিপুরী নারী সংগ্রাম বা নুপি লান। ছবিতে দেখা যাচ্ছে মনিপুরী নারীরা দরবার হল ঘিরে রেখেছে।)
ছবি সৌজন্য: ইপাও.নেট
তারিখ: ০২ অক্টোবর, ২০১৩
মিঠুন চাকমা

নুপি লান একটি মনিপুরী শব্দগুচ্ছ। এর অর্থ হচ্ছে নারীদের সংগ্রাম। মনিপুরী মহারাজ ও ব্রিটিশ সরকারে বিরুদ্ধে মনিপুরী নারীরা এই সংগ্রাম সংঘটিত করে। মনিপুরে এ সময় ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলো মি. জিম্পসন(১৯৩৩-১৯৪৫)। মনিপুরী সরকারের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক শোষনমূলক নীতির বিরুদ্ধে মনিপুরী নারীরা এই সংগ্রাম করেছিল।  এই সংগ্রামের কারণে শেষপর্যন্ত মনিপুরী সরকার শাসনতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক সংস্কার করতে বাধ্য হয়েছিল। এই সংগ্রাম মনিপুরের ভবিষ্যত লড়াইকেও প্রভাবিত করেছিল। মূলত ভারতের চাল ব্যবসায়ী মারোয়ারীদের স্বার্থে ব্রিটিশ রাজ কর্তৃক চাল মনিপুর রাজ্যের বাইরে রপ্তানীর কারণে এবং এই সময় কৃত্রিমভাবে মনিপুরে চাল বা খাদ্যের সংকট শুরু হওয়ায় মনিপুরী নারীরা এই সংগ্রাম করতে বাধ্য হয়েছিল।

মনিপুরী সমাজে নারীদের অবস্থান

নুপি লান বা নারীদের সংগ্রাম নিয়ে আলোচনার আগে মনিপুরী সমাজে নারীদের অবস্থান বা গুরুত্ব নিয়ে কিছুটা আলোকপাত করা প্রয়োজন। মনিপুরী সমাজে মনিপুরী নারীরা অনেক আগে থেকেই উৎপাদিত দ্রব্য বা খাদ্যদ্রব্য বিক্রয়ের ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলো। সমাজে খাদ্যদ্রব্য ও কাপড়চোপড়ের ব্যবসাসমূহ নারীরাই নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কারণে সমাজের মধ্যে তাদের জীবনযাপনের স্বাধীনতাও রয়েছে। খইরাম্বাদ বাজার যা ইমা কেইথেল নামে সমধিক পরিচিত, এই বাজারের ব্যবসা বাণিজ্য বা ক্রয়-বিক্রয়ের যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ নারীদেরই হাতে। মহারাজা খাগেমবা ১৫৮০ সালে এই বাজারটির প্রতিষ্ঠা করেন।

যুদ্ধসংঘাত ও তার কারণে মনিপুরী সমাজে নারীদের ভূমিকা

মনিপুরে বিভিন্ন সময়ে বড় বড় যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ১৮১৭ সালে বার্মার শাসকরা মনিপুর রাজ্য আক্রমণ করে। প্রায় ৭ বছর ধরে এই যুদ্ধ স্থায়ী হয়। এই যুদ্ধের কারণে মনিপুরের অনেক যোদ্ধা মারা যায়। এতে মনিপুরী সমাজে পুরুষের সংখ্যা কমে যায়।
এরপর ১৮৯১ সালে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে মনিপরীরা সংগ্রাম করে। এতেও অনেক মনিপুরী পুরুষ মারা যায়। ফলে মনিপুরে পুরুষের সংখ্যা কমে যায়, এবং নারীর সংখ্যা বেশি বেড়ে যায়।
এতে নারীদের ভূমিকা বাড়তে থাকে। ব্যবসাসহ নানা কাজে নারীরা জড়িয়ে পড়তে থাকে। এই সময় মনিপুরে সামাজিকভাবে বহুপত্নীক বিবাহ প্রথা সিদ্ধ হয়।

মনিপুরী ইতিহাসের কিছু অংশ
১৮৯১ সালে মনিপুরী রাজ্য ব্রিটিশ রাজের পদানত হয়। এই বছরের ২৫ এপ্রিল খোংজাম এলাকায় ব্রিটিশের সাথে মনিপুরী মহারাজার যুদ্ধ শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত তিনদিন ধরে যুদ্ধ চলার পরে মহারাজা কূলচন্দ্র সিংহ-এর বাহিনী ব্রিটিশদের হাতে পরাস্ত হয়। এ সময় তিনি ২০০ অনুচর নিয়ে চীনে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্রিটিশ সৈন্যের হাতে ধরা পড়েন। রাজকুমার টিকেন্দ্রজিৎও এ সময় আটক হন। পরে ১৩ আগস্ট ১৮৯১ সালে ব্রিটিশ সরকার তাদের ফাঁসিতে ঝোলায়।

১৯০৭ সালে চুরাচান্দ নামে এক বালককে মহারাজা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। মনিপুর রাজ্য শাসন করার জন্য ব্রিটিশ রাজ দরবার নামে প্রশাসনিক-রাজনৈতিক প্লাটফরম গঠন করে। এতে ব্রিটিশ রাজ তার মনোনীত ব্যক্তিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে একজন প্রশাসক নিয়োগ করতেন। এই দরবারের উপরই মূলত মনিপুর রাজ্য পরিচালনার ভার দেয়া হয়।তবে মাহরাজারও নিজস্ব ক্ষমতা ছিলো।

ব্রিটিশ রাজ মনিপুরের ক্ষমতায় আরোহনের পরে মনিপুরী সৈন্যদের উপর নানা ধরণের নিবর্তনমূলক আইন জারি করে। ব্রিটিশ সৈন্যদের রসদ বহন করার কাজে তাদের নিয়োগ করা হয়। যদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে মনিপুরী জনগণের কাছ থেকে মাথাপিছু কর ধার্য করে। যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ব্রিটিশ রাজ মনিপুরীদের কাছ থেকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা আদায় করে। 

ব্রিটিশ রাজের আমলে মনিপুর থেকে চাল রপ্তানী
 নুপি লান বা নারী সংগ্রামের পূর্বলগ্ন সংঘটিত হতে থাকে

ব্রিটিশ রাজ ক্ষমতায় আসার পরে মনিপুর থেকে চাল রপ্তানী শুরু হয়। রাজ্যে ফ্রি ট্রেড পলিসি চালু করা হয়।
এই পলিসির আওতায় মনিপুর থেকে বছরে ৩৫ হাজার মন চাল রপ্তানী করা হয়। কিন্তু এই রপ্তানীর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ থাকে মারোয়ারী নামক ভারতীয় ব্যবসায়ীদের হাতে। এই সময় তারা মনিপুরের তুলা ব্যবসা, হস্তশিল্প সামগ্রীর ব্যবসায়ও একচ্ছত্র কর্তৃত্ব কায়েম করে।

চাল রপ্তানীর খতিয়ানে দেখা যায় ১৮৯৭-৯৮ সালে মনিপুর থেকে চাল রপ্তানী করা হতো প্রায় ২৫ হাজার মন। ১৯২২-২৩ সালে তা বেড়ে দাড়ায় ৮০ হাজার মনে। ১৯৩১-৩২ সালে ২ লাখ ৭৭ হাজার মন চাল রপ্তানী করা হয়। ১৯৩৭-৩৮ সালে তা বেড়ে দাড়ায় ৩ লাখ ৭২ হাজার মনে।
এরপর ১৯৩৯ সাল আসে। এসময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামাও বাজতে শুরু করে। মনিপুর রাজ্যে এই বছরে প্রচন্ড খরা দেখা দেয়। এছাড়া ফসল তোলার সময় শিলাবৃষ্টির কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এবং ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
মনিপুরী জনগণ যেহেতু অধিকাংশই কৃষি সংশ্লিষ্ট পেশায় জীবিকা নির্বাহ করতেন, তাই তারা এতে অর্থকষ্টে ভুগতে থাকেন।এই সুযোগে মারোয়ারীরা চালের মজুদ গড়ে তোলে।যেন কমদামে চাল বিক্রয় করতে বাধ্য হয় সে ধরণের ব্যবস্থা তারা করে। মনিপুর রাজ্যজুড়ে কৃত্রিম দুর্ভিক্ষাবস্থার সৃষ্টি হয়। চাল বাইরে রপ্তানী করার কারণে মনিপুরে চালের সংকটও দেখা দেয়।
এই অবস্থার দিকে খেয়াল রেখে মনিপুরী দরবার প্রশাসন ১৯৩৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর চাল রপ্তানীতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কিন্তু তারপরও চুক্তি অনুযায়ী তৎকালীন আসাম রাজ্যের  কোহিমায়(বর্তমানে নাগাল্যান্ড রাজ্যের অন্তর্গত) অবস্থিত ব্রিটিশ সেনা ব্যারাকে চাল রপ্তানী করতে বাধ্য হয়। এদিকে মহারাজার ব্যাপক চাপের ফলে চাল রপ্তানী আবার শুরু হয়ে যায়।

লগ্ন এসে গেল নুপি লান বা নারী সংগ্রামের!

এখানে বলা দরকার মনিপুরে নারীদের লড়াই যেন স্বাভাবিক এক বিষয়! এই লড়াইয়ে অনেক ক্ষেত্রে নারীরাই প্রথমে শুরু করেছিল। এবং তা জারি রেখেছিল তারাই।

১৯৩৯ সালের নুপি লান হচ্ছে মনিপুরী নারীদের দ্বিতীয় নারী সংগ্রাম। এর আগে তারা ১৯০৪ সালে একবার একত্রিত হয়ে ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিল। চালের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে এই সংগ্রাম শুরু হয়েছিল।

মনিপুরের প্রথম নুপি লান বা প্রথম নারী সংগ্রাম নিয়ে কিছু কথা

১৯০৪ সালের ৬ জুলাই বুধবার সকাল। খইরাম্বাদ বাজারের নারী ব্যবসায়ীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। তারা ২৮টি দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়। এর আগে ওই বছরের ১৬ মার্চ দিবাগত রাতে মনিপুরীরা মহারাজা চুরাচান্দ-এর শিক্ষক ক্যাপ্টেন নুথাল এবং মনিপুরের সহকারী রাজনৈতিক এজেন্ট ডানলপের বাংলোতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। এরপর আগস্টের ৪ তারিখ ভোররাতে আবার আরেকটি বাংলো পুড়ে যায় বা পুড়িয়ে দেয়া হয়। এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে মনিপুরী জনগণ ব্রিটিশ শাসন মেনে নিতে পারছিলো না। এছাড়া মনিপুরী রাজবংশের লোকজন ব্রিটিশ রাজ কর্তৃক নিয়োগকৃত বালক রাজা মহারাজ চুরাচান্দকেও মেনে নিতে পারছিলোনা।
এসব ঘটনা কারা ঘটিয়েছিল তা নিয়ে ব্রিটিশ সরকার কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। এই ঘটনাগুলোতে যারা জড়িত ছিলো তাদের ধরিয়ে দিতে পারলে সরকার ৫০০ রুপি বা টাকা পুরস্কার দেবে বলে ঘোষনা দেয়। কিন্তু তারপরও সরকার কোনো কুলকিনার করতে পারেনি।

বাধ্যতামূলক শ্রম প্রদানের নির্দেশনামা
মনিপুর রাজ্যের সুপারিন্টেন্ট মি. এইচ ম্যাক্সওয়েল ৩০ সেপ্টেম্বর এক নির্দেশনামা জারি করে।এতে বলা হয় ইম্ফলের মনিপুরীদের বাধ্যতামূলক শ্রমের মাধ্যমে উক্ত বাংলোগুলো নির্মাণ করে দিতে হবে। এতে মনিপুরের ইম্ফলের ১৭ থেকে ৬০ বছর বয়সী প্রত্যেক ব্যক্তিকে বাধ্যতামূলকভাবে ৪০ দিনের মধ্যে ১০দিন বিনা পারিশ্রমিকে বাংলো তুলে দেয়ার জন্য শ্রম দিতে হবে বলে নির্দেশ প্রদান করা হয়। মনিপুরী রাজ পরিবার এই সিদ্ধান্ত বাদ দেয়ার আবেদন করে। কিন্তু তা নাকচ হয়।
এই সময় নারীরা লড়াইয়ের ময়দানে সামনে আসে। এই বাধ্যতামূলক শ্রম প্রদানের প্রতিবাদে নারীরা ০৫ অক্টোবর ম্যক্সওয়েলের বাংলো ঘেরাও করে। এতে প্রায় ৫ হাজার নারী যোগদান করে। আন্দোলনের মুখে ব্রিটিশ রাজ বাধ্যতামূলক শ্রম প্রদানের নির্দেশ বাতিল করতে বাধ্য হন। এটাই মনিপুরের ইতিহাসে প্রথম নারী সংগ্রাম বা প্রথম নুপি লান নামে পরিচিত।

দ্বিতীয় নুপি লান, ১৯৩৯

এই দ্বিতীয় নুপি লান বা দ্বিতীয় নারী সংগ্রামই মনিপুরী ইতিহাসে বেশি বিখ্যাত হয়ে আছে।
এই লড়াই কেন শুরু হয়েছিল সে বিষয়ে উপরের আলোচনায় বলা হয়েছে। নিচে আমরা আন্দোলনের সাধারণ বর্ণনা দেবার চেষ্টা করছি।

দ্বিতীয় নুপি লান শুরু হলো-

১২ ডিসেম্বর, ১৯৩৯
চাল রপ্তানী বন্ধ করার দাবি জানিয়ে মনিপুরী নারীরা মাঠে নামে। তারা মনিপুর দরবারের প্রেসিডেন্ট এবং তার কর্মকর্তাদের দরবার এলাকায় অবরুদ্ধ করে রাখে। এই অবরোধ কর্মসূচিতে হাজারের অধিক নারী অংশ নেয়।
এ সময় তারা চাল রপ্তানী বন্ধ করার জন্য দাবি জানিয়ে শ্লোগান দিতে থাকে। পেছনের দরজা দিয়ে দরবারের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়। কিন্তু দরবারের প্রেসিডেন্ট মি. শার্পে পালিয়ে যেতে সক্ষম হননি। প্রেসিডেন্ট শার্পে এ সময় আন্দোলনকারী নারীদের বলেন যে, মহারাজা এখন রাজ্যের বাইরে অবস্থান করছেন। তার অনুমতি ছাড়া চাল রপ্তানী বন্ধ করা সম্ভব নয়। তখন নারীরা তাকে টেলিগ্রাম অফিসে নিয়ে যায়। তারা প্রেসিডেন্ট শার্পেকে দিয়ে মহারাজাকে টেলিগ্রাম পাঠানোর ব্যবস্থা করে। এবং মহারাজার উত্তরের অপেক্ষা করতে থাকে। মহারাজা এই সময় নবদ্বীপে অবস্থান করছিলেন। অপরপ্রান্ত থেকে উত্তর না আসা পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করে।
এসময় আসাম রাইফেলের সৈন্যরা প্রতিবাদকারী নারীদের উপর আক্রমণ করে। এতে ২১ জন নারী ও একজন সৈন্য আহত হয়।

একইমাসে তেরা কেইথেল বা তেরা বাজারে অরিবম চাওবিতোন নামে এক নারীর নেতৃত্বে রপ্তানীর জন্য যে চাল নেয়া হচ্ছিলো তা আটক করা হয়।এভাবে জানুয়ারি,১৯৪০ পর্যন্ত ১৫০ গাড়ি চাল আটক করে রাখা হয়।
এ সময় তারা বাজার বয়কট কর্মসূচিও পালন করে।

মনিপুর রাজ্য থেকে যাতে কোন চাল রপ্তানী করা না যায় সেজন্য মনিপুরের বিভিন্ন বাজারের দোকানদার নারীরা আন্দোলনে যোগ দেয়। যেসকল বাজার(মনিপুরী ভাষায় কেইথেল) আন্দোলনে যোগ দেয় সেগুলো হলো- খইরামবান্দ কেইথেল, মোইরংখম কেইথেল, পুলিশ লাইন কেইথেল, সিংজামেই কেইথেল, হেইরাংগোইথং কেইথেল, কোংবা কেইথেল, লামলং কেইথেল, তেরা কেইথেল এবং ক্যকেইথেল।

১৬ ডিসেম্বর, ১৯৩৯
চাখার থেকে মনিপুরী কম্যুনিস্ট নেতা হিজাম ইরাবত সিং-এর আগমন এবং আন্দোলনের রাজনৈতিক রূপের গুণগত পরিবর্তন

মনিপুরে নারীদের নেতৃত্বে চাল রপ্তানীর প্রতিবাদে যখন লড়াই চলছিলো তখন তা শুধুমাত্র নারীদেরই সংগ্রাম ছিলো।এতে পুরুষের অংশগ্রহণ ছিলো না। এই সময়ে মনিপুরে নিখিল মনিপুরী মহাসভা নামে যে সংগঠন ছিলো সে সংগঠনও প্রথমে নারীদের এই লড়াইকে সমর্থন দেয়নি।মনিপুরের তৎকালীন যুব নেতা এল. কানহাই ও টি. ইবোতোমবি নারীদের এই আন্দোলন নিয়ে নিখিল মনিপুরী মহাসভায় জনমত গঠনের চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা ব্যর্থ হন।
এই সময়ে ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন সময়ের অন্যতম মনিপুরী নেতা হিজাম ইরাবত সিং মনিপুরে আসেন। তিনি  এসেই ‘মনিপুরী প্রজা সম্মেলনী’ নামে একটি সংগঠন গঠন করে নারীদের এই সংগ্রামে প্রত্যক্ষ সমর্থন দিতে থাকেন। তিনি মনিপুরী নারীদের এই আন্দোলনের সমর্থনে বিভিন্ন জায়গায় গণজমায়েতের আয়োজন করেন। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার তাকে ১৯৪০ সালের ৯ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে অপরাধ ছিলো তিনি উস্কানীমূলক বক্তব্য রাখছেন। তাকে তিন বছর জেলে আটক রাখা হয়। হিজাম ইরাবত গ্রেপ্তার হবার পরেও তার অনুসারীরা নারীদের এই আন্দোলনের পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা করে যান।
তারা আইন অমান্য আন্দোলন গড়ে তোলেন এবং সরকারকে ও সামন্তীয় অধিপতিকে ট্যাক্স প্রদান বন্ধের আন্দোলন করেন।

১৪ জানুয়ারি, ১৯৪০
আন্দোলন জঙ্গি রূপ নেবার চেষ্টা করে

আন্দোলনের এক পর্যায়ে আন্দোলনের নেতারা নারীদেরকে তৈরী হয়ে প্রতিবাদে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান। নেতারা প্রতিবাদের সময় নারীদেরকে মনিপুরী ভাষায় তেম{(চাকমা ভাষায় বিওঙ)একধরণের গাছের তৈরী লম্বা কাঠি যা ঐতিহ্যবাহী কাপড় বুনতে ব্যবহৃত হয়} সঙ্গে আনতে বলেন। এছাড়া ফেনাক বা তাদের পরিধানের কাপড় ডাবল করে ভালোভাবে পরে আসতে বলেন। অর্থাৎ, এক পর্যায়ে আন্দোলন জঙ্গি আকার ধারণ করে।
১৪ জানুয়ারী নারীদের এক প্রতিবাদ সমাবেশে ব্রিটিশ সৈন্যরা আক্রমণ করলে এতে মোট ৪০ জন নারী আহত হয় এবং অনেক পুরুষও আহত হয়।

নুপি লান নারী সংগ্রাম আরো কয়েকমাস ধরে চলে

মনিপুর রাজ্যের বাইরে চাল রপ্তানীর প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেছিল মনিপুরের নারীরা।এই আন্দোলনে তারা কিছুটা সফলও হয়। ১৯৪০ সালের গ্রীস্মকাল পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকে। তাদের বাজার বয়কট আন্দোলনকে সরকার নানাভাবে বন্ধ করার চেষ্টা করে।এই সময়ে ব্রিটিশ সরকার খালি থাকা বাজারগুলো বিক্রি করার হুমকি পর্যন্ত দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকার এই কাজটি করেনি।
তবে সরকার আন্দোলনকারী ৪ নারী নেত্রীকে গ্রেপ্তার করে।
আগস্ট মাসের দিকে এসে মনিপুরী নারীদের প্রতিনিধিরা সরকারের কাছে একটি পিটিশন প্রদান করে। এতে স্বাক্ষর করেন কুমারী, রজনী, মাইপাকপি, সানাতোনবি, নাঙঅবা। তারা নিচের বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন-
.          দরবারের সদস্যরা যোগ্য নয়্
.          পুলিশ সদস্যরা যোগ্য নয়।
.          পুলিশের ইন্সপেক্টরের বেআইনী কাজ নিয়েও তারা পিটিশনে উল্লেখ করেন।
.          ৪ নারী নেত্রীকে আটকের প্রতিবাদ করা হয়।
.          জানুয়ারী মাসের ১৪ তারিখে নারী সমাবেশের উপর হামলার প্রতিবাদ করা হয়।

নুপি লান বা নারী আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী নেত্রীদের কয়েকজনের নাম নিচে যোগ করা হলো-
.          বামোন চাওবিতন দেভি।
.          লোইতাম ওঙবি তোমমিাচা দেভি।
.          খামবি দেভি।
.          মোংজাম ইবেমাহল দেভি।
.          ওয়াহেংবাম ওংবি তুঙ দেভি
.          কাবোকেলেই আচোবি দেভি।
.
নুপি লান বা নারী সংগ্রাম পরিণত হয়েছিলো প্রশাসনিক অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে
প্রথমে এই লড়াই শুধুমাত্র চাল রপ্তানীর বিরুদ্ধে নারীদের প্রতিরোধ ছিলো। কিন্তু আন্দোলনের এক পর্যায়ে এই লড়াই রূপ নেয় দরবার বা মনিপুরের প্রশাসনকে পরিবর্তন করার দাবি আদায়ের আন্দোলনে। এই আন্দোলন মনিপুরের অর্থনৈতিক-শাসনতান্ত্রিক-রাজনৈতিক সংস্কারকে ব্যাপকভাবে প্রভাবান্বিত করেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরু হবার ফলে মনিপুরে আবার যুদ্ধের দামামা বাজতে থাকলে যুদ্ধের ভয়ে ইম্ফলের বেশিরভাগ জনগণ পালিয়ে বিভিন্নস্থানে চলে যায়। ফলে এক পর্যায়ে আন্দোলন থমকে যায়। কিন্তু মনিপুর রাজ্যের ইতিহাসে নারীদের এই সংগ্রাম এক গৌরবময় পর্বকে মনে করিয়ে দেয়।

তথ্যসূত্র:

.          Nupi Lan- the Women’s War in Manipur, 1939:An Overview; Ibotombi Longjam
.          Nupi Lan – Women’s War of Manipur, 1939: e-pao.net
.          Nupi Lan : The Great Second Women Agitation of Manipur, 1939-40; part- 1,2.
.          মাইবামসাধন ব্লগ(সামহোয়্যাইনব্লগডটনেট)

Tuesday, October 1, 2013

হেগা চাঙমার বক্তব্যের সূত্র ধরে: লড়াইকে এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার

আজ(৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৩) ফেসবুকে হেগা চাঙমা নামে এক ফেসবুক বন্ধুর কমেন্ট চোখে পড়লো। মন্তব্যটি পড়ার পর কিছু লিখতে ইচ্ছে হলো। হেগা চাকমা বলতে চেয়েছেন, ইদানীং পার্বত্য চট্টগ্রামের দলগুলো উচ্চশিক্ষিত বা লেখাপড়া জানা ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভারআয়োজন করেছে। তবে এই মতবিনিময় সভার আয়োজনকে তিনি দলসমূহের দিক থেকে “তালগাছটা আমার” টাইপের বলেই মনে করেছেন। এবং এই দৃষ্টিভঙ্গিকে তিনি সমালোচনাও করেছেন।
তিনি লিখেছেন-
এসব মতবিনিময় সভায় অংশ নেয়া কয়েকজন ছাত্রের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মতবিনিময়ের আড়ালে এগুলো আসলে দলীয় প্রচারণা ভিন্ন অন্য কিছু নয়। তাদের অনেকের মতে- রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান এখনো “তালগাছটা আমার”।
এছাড়া তিনি আরো বলেছেন-
প্রশ্ন হচ্ছে- রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের সাথে কথা বলে কি নিজেদের মধ্যে গুনগত পরিবর্তন ঘটাবেন, নাকি আঁকড়ে থাকবেন পুরনো চিন্তায়?
এছাড়া তিনি বলেছেন-
এসব আলোচনায় সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের বিশাল অংশ বাস্তবতার কথা মাথায় রেখে নীরব থাকলেও বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রী বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে দলগুলোর ভূমিকা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন।
লেখাটি পড়ে আমার মনে হয়েছে এ নিয়ে কিছু বলা দরকার।
প্রথমে, বলে রাখি জাতিসত্তার বা পার্বত্য জুম্ম জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম কারো একার বা কোনো দলের গচ্ছিত সম্পত্তি নয় এই কথাটি আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি এবং এই আদর্শই লালন করি। এবং একই সাথে এই দৃষ্টিভঙ্গিকে আমি একটি আদর্শ হিসেবেই দেখি!  সুতরাং, “তালগাছটা আমার” টাইপের বক্তব্য যদি দলগুলো থেকে এসে থাকে তবে এ নিয়ে সমালোচনা করা বা আলোচনা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে হয়।
এবং এই বিষয়টির দিকে খেয়াল রেখেই আমি আলোচনায় অংশ নিতে আগ্রহান্বিত বোধ করছি। কিছু কিছু আলোচনা আছে যাকে প্রলম্বিত করতে হয়! এখানে হেগা চাঙমার মন্তব্য পড়ে কোন মন্তব্য না করে থাকলেই বোধহয় বেশি ভালো হতো বলে মনে হয়ে থাকতে পারে! কিন্তু এই আলোচনার সূত্র ধরে কিছু বিষয় আলোচনায় উঠে যদি উঠে আসে এবং  এসব পড়ে যদি কেউ সাধারণ কিছু ধারণাও পান বা নতুন কিছু চিন্তা ভাবনা করতে উদ্বদ্ধ হন তবে আমার মতে ফেসবুকে বা ব্লগে লেখার সার্থকতা চলে আসবে।
আর তেমন কোন কথা না বাড়িয়ে  আমার বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করছি সংক্ষেপে-

(ক) দলীয় প্রচারণা প্রসঙ্গে- একটি পার্টি বা সংগঠনের কাজই হচ্ছে সংগঠিত করা বা নির্দিষ্ট এলাকার নির্দিষ্ট জনগণকে সংগঠিত করাই হচ্ছে একটি পার্টি বা দলের কাজ। সুতরাং, দলীয় প্রচারণা যে কেউই করবেই। এটা হচ্ছে আমার অভিমত। এবং একে বাঁকা চোখে বা সমালোচনার চোখে দেখাটাকে বোধহয় আমি সমর্থন করতে পারি না!  বরং পার্টি বা দলগুলো যে জনগণ বা ছাত্রসমাজের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, এই বিষয়টিকে আমার চোখে আমি  ইতিবাচক হিসেবেই দেখি।
সুতরাং, বিষয়টিকে দলীয় প্রচারণা এই ঢঙে না ভেবে দলগুলোর বৃত্তবন্দি অবস্থা থেকে বেড়িয়ে আসার ইতিবাচক প্রবণতা হিসেবে বিষয়টিকে দেখতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো নিপীড়িত একটি অঞ্চল তথা জনগোষ্ঠীর জন্য দল বা পার্টি বা সংগঠিত শক্তির ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি এই শক্তিকে সহযোগিতা করে নিজে সক্রিয় থেকে শক্তিকে বা দলসমূহকে শক্তিপ্রদান করাটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

(খ) তালগাছটা আমার বিষয়ে-
আমার এতো বছরের রাজনৈতিক জীবন এবং একই সাথে বিশ্বের নানা দেশের রাজনৈতিক উত্থানপতন বিষয়ে আলোচনা বা পড়ালেখা করতে পাবার সুযোগে এই বিষয়টিতেই আমি উপনীত হতে পেরেছি যে, সংগঠিত একটি শক্তি যা অধিকার আদায়ের লক্ষে বা নিপীড়িত জনতার মুক্তির জন্য কাজ করেছে বা করছে বা করেছিলো, সে সংগঠিত শক্তি বা সংগঠনের মধ্যে এক পর্যায়ে “আমলাতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি” গেড়ে বসে। একে আমরা “আয়েশি ভাব পাওয়া“ও বলতে পারি। চীনে বিপ্লবের পরে মাও সেতুঙকে “গ্রেট প্রলেটারিয়ান কালচারাল রেভল্যুশন”এর ঘোষনা এই জন্যই দিতে হয়েছিল।
আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের দলগুলোর ক্ষেত্রেও এই প্রবণতাই আমরা প্রত্যক্ষ করে থাকি!
রাজনীতিতে আমলাতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি আসা মানে হচ্ছে, মেদভুড়ি বেড়ে যাবার মতো! কিন্তু আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রেক্ষাপটে এই আমলাতান্ত্রিকতাকে কিভাবে দেখবো?
এখানে আমি পূর্বে বলেছি, পার্টি বা দল ব্যতীত বা সংগঠিত শক্তি ব্যতিত আমাদের বা পার্বত্য জনগণের নির্ভর করার তেমন কিছুই নেই! যেহেতু এখন পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনভাগে বিভক্ত হওয়া দলসমূহই রয়েছে, এবং যেহেতু বস্তুগতভাবে নতুন আরো কোনো দল বা সংগঠিত শক্তি এখনো সৃষ্টি হয়নি বা এখনো নতুন সংগঠিত শক্তির উত্থান হয়নি তাই এই দলগুলোই হলো আমাদের মতো নিপীড়িত জনগণের প্রধান শক্তি। এ সকল দলের সমস্যা-দুর্বলতা-দৃষ্টিভঙ্গির নানা বিভ্রান্তি বিবেচনা করেই আমাদের এই সকল দলের উপরই নির্ভর করতে হয়!
এবং সেই দিকটি বিবেচনা করেই দলবিবেচনা ব্যতিরেকে বলছি, এই ‘তালগাছটি আমার’ দৃষ্টিভঙ্গি যা আমলাতান্ত্রিক যে দৃষ্টিভঙ্গি, তার প্রতি আমাদের কড়া সমালোচনা করা  দরকার।  কিন্তু এই সমালোচনার ধরণ এমন হবে না যে, আমরা কোনো অপরিচিত বা কো দূরবর্তী কাউকে সমালোচনা করছি বা এমন হবে না যে কোনো শত্রু কাউকে আমরা সমালোচনা করছি!
সংগঠিত থেকে বা সংগঠনের মধ্যে থেকে অধিকার আদায়ের কথা যারা বলছেন বা যারা এই দায়িত্ব কাঁধে নিতে চেষ্টা করেছেন তাদের দিকে বা তাদের বাস্তবতার দিকে  না তাকিয়ে শুধু ভুলের সমালোচনা করাটা বোধহয় সমস্যাটির সমাধানের প্রকৃত সূত্র নয়!
কিন্তু আমরা আমাদের শিক্ষিত এবং সচেতন দাবি করেন  এই অংশটিকে দেখি যে, তারা সমালোচনা করেই ক্ষান্ত থাকেন! কিন্তু দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট তেমন থাকেন না!
পার্টি বা দল গঠনের ইতিহাস কী বলে!? পার্টি বা দল গঠনের ইতিহাস বলে, যখন কোনো দুর্যোগ মুহূর্ত বা ক্ষণ বা সময় পাড়ি দিতে হয় তখন এই ‘শিক্ষিত’ এবং ‘সচেতন’ অংশটি ব্যক্তিস্বার্থ বা নিজের আখের গোছানোতে বেশি মনোযোগ দিয়েই যেন থাকে! দুর্যোগ উপস্থিত হলেই তারা নিচের তলার তাদের বন্ধু সহযোদ্ধাদের ফেলে চলে যায়!(এ কথা আমি ইতিহাসকে জানার সুবিধার্থে বলছি মাত্র, কাউকে আঘাত দেবার জন্য বা নতুন কোন বিতর্ক সৃষ্টি করার জন্য আমার এই মন্তব্যের অবতারনা নয়)
যাই হোক,’তালগাছটি আমার’ প্রসঙ্গটি নিয়ে আলোচনা করার সূত্র ধরে আমাকে অনেক কথা বলতে হলো, যা দারুণভাবে কাউকে না কাউকে আঘাত করার মতোই হতে পারে! কিন্তু বাস্তবতাকে বোঝাতে আমাকে এই কথা বলতে হলো।
শিক্ষিত বা উচ্চ শিক্ষিত বা সচেতন অংশের প্রতি দাবি হচ্ছে-
১. দলসমূহকে ভালোবাসুন। এ সকল দলের ভুল বা সীমাবদ্ধতাকে নিজের দুর্বলতা বা সীমাবদ্ধতা বলে মনে করুন।
২.  এই বোধটি বজায় রেখে এবং বাস্তবত, এ বিষয়ে সজাগ থেকে পার্টির মধ্যে যে আমলাতান্ত্রিকতার সৃষ্টি হয়ে থাকে তার কড়া সমালোচনা করুন। এবং একই সাথে এই গেড়ে বসা আমলাতান্ত্রিকতার সমাধান কীভাবে করা যায় তা নিয়ে বাস্তবে কিছু একটা করার চেষ্টা করুন। শুধু সমালোচনা এবং উদ্দেশ্যহীন সমালোচনা সমর্থনযোগ্য হতে পারে না।
৩. কোন বিষয়কে ভালোভাবে জেনেবুঝে সমালোচনা করাটা্ এখন সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু হুজুগের বশে বা অল্প জেনেবুঝে বা কিছ সময়ের জন্য হঠাৎ গজিয়ে ওঠা মনের ঝাল মেটাতে শুধু সমালোচনার জন্য সমালোচনা কোনো পক্ষের জন্য শুভ কিছু বয়ে আনবে না।
৪. এখানে বলে রাখা দরকার অধিকার আদায়কামী চরমভাবে নিপীড়িত একটি দল বা পার্টিকে শত্রুকে ধোকা দেবার জন্য নানা কসরত করতে হয়। অনেক সময় এই কসরত এমন পর্যায়ে চলে যায় যে তা সুবিধাবাদীতার আমদানিও ঘটাতে পারে! এদিক থেকে এই সুবিধাবাদীতার সৃষ্টি তাত্ত্বিক দিক থেকে  স্বাভাবিক। কিন্তু তার বিমোচন বা তার সমাধান ঘটানো বাস্তবে অনেক কঠিন। কিভাবে এই সুবিধাবাদীতার সমাধান করা যেতে পারে?

একমাত্র নতুন জেনারেশন বা নতুন শিক্ষিত অংশের সচেতন সক্রিয় প্রয়াসই তার বিমোচন ঘটাতে পারে! এবং এই অংশটি যত পরিমাণে নিজেকে আন্দোলনের প্রতি, অধিকার আদায়ের প্রতি সচেষ্ট রাখতে পারবে ততই পার্টি বা দলসমূহকে ‘প্রস্তরিভূত অবস্থা’ থেকে বেরিয়ে আসতে তা সহায়কই হবে।
নিপীড়নের শিকার ছোট একটি জনগোষ্ঠীর জন্য শুধু পার্টিগত লড়াই মুখ্য হতে পারে না! সামষ্টিকভাবে লড়াইয়ের সাথে সকল অংশকে যুক্ত করতে পারার মধ্যেই এই লড়াইয়ে বিজয়ী হওয়া নির্ভর করে। কিন্তু এই সকল অংশকে যুক্ত করার দায়িত্ব কার? এই দায়িত্ব যেমন পার্টি বা দলসমূহের তেমনি এই দায়িত্ব সচেতন সজাগ সকলের।
এই দায়িত্ব পালনে গাফিলতি আন্দোলনে গতিহীনতা ডেকে আনবে তা স্বাভাবিক! এবং এজন্য দায়ভার শুধু পার্টির তো নয়! তার দায়ভার সকলের! এবং তার দায়ভার সবচেয়ে বেশি তাদের উপর বর্তায় যারা শিক্ষিত সচেতন!
সুতরাং, ভুলের দায়ভার অপরকে দিয়ে নিজেকে শুদ্ধসাঙ্গ রাখাটা শুভকর নয় আমাদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের জন্য।
এই সামষ্টিক দায়ভার আমরা সকলে একত্রে  নিতে সচেষ্ট থাকবো এই প্রত্যাশাই শুধু রাখি!
ধন্যবাদ হেগা চাঙমাকে পার্বত্য চট্টগ্রামের আন্দোলনে কার কী ভূমিকা থাকা দরকার সে বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ করে দেবার জন্য।
[ এখানে বলে রাখি, আমি ব্যক্তিগতভাবে বাস্তব আন্দোলনে বা বাস্তব লড়াইয়ে ছাত্র-জনতার শক্তিকে ধারাবাহিক কর্মসূচি প্রদানের মাধ্যমে স্বাভাবিক ঐক্য সৃষ্টির মতো পদক্ষেপে বিশ্বাসী! কিন্তু যেহেতু এখন আমরা সীমাবদ্ধতার সূত্র দ্বারা অবরুদ্ধ এক সময় পাড় করছি তাই এই লেখাটি লিখে জানাতে হলো নিজের মতামত! নাহলে আমি শুধু নিজের মতামত দিয়ে ক্ষান্ত থাকাতে বিশ্বাস করি না! বাস্তব কাজ হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ, কথার ফুলঝুরি নয়!  ]