Wednesday, March 27, 2013

লড়াকামী বিপ্লবী শক্তির প্রতি


 লড়াইকামী শক্তির প্রতি

বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা বা নৈরাজ্যিক পরিস্থিতিতে জনগনের লড়াইকামী শক্তির
বিভ্রান্ত হবার কোনো কারণ নেই, বরং লড়াইকে জনমানুষের কাতারে নেবার এখনই
যথার্থ সময়। অরূন্ধতী রায়ের লেখা থেকে একটি উদ্ধৃতি দিয়ে আমি আমার এই
লেখাটি অবতারনা করছি।

প্রখ্যাত লেখক এবং সমাজসংশ্লিষ্ট মতামত প্রদানকারী ভারতীয় লেখা অরূন্ধতী
রায় তার এক লেখায় লিখেছেন, "ক্ষমতায় থাকা যে কারো জন্যই প্রধান কৌশল হলো
জাতিকে বিভক্ত রাখার পথ খোঁজা"।

এই বক্তব্যটি দেবার আগে তিনি ভারতের প্রসঙ্গ টেনে যা লিখেছেন তার উদ্ধৃতি দিচ্ছি।

"ভারতের বাজার যখন ১৯৯০-এর দশকে খুলে দেওয়া হয়, যখন সংরক্ষিত
শ্রম-সংক্রান্ত সব আইন বাতিল করা হয়, যখন প্রাকৃতিক সম্পদরাজি
বেসরকারিকরণ করা হয়, যখন পুরো প্রক্রিয়াকে গতিশীল করা হয়,

তখন ভারত সরকার দুটি তালা খুলে দিয়েছিল :

একটি ছিল বাজারের তালা;

আরেকটি ছিল ১৪ শতকের একটি পুরনো মসজিদের তালা, যা নিয়ে হিন্দু ও
মুসলমানদের মধ্যে বিতর্ক ছিল।

হিন্দুরা বিশ্বাস করত, এটা রামের জন্মস্থান, আর মুসলমানেরা এটাকে মসজিদ
হিসেবে ব্যবহার করত।

ওই তালা খুলে ভারত সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের
সংঘাত বেগবান করেছে, জাতিকে সদা বিভক্ত করার পথ সৃষ্টি করেছে। ক্ষমতায়
থাকা যে কারো জন্যই প্রধান কৌশল হলো জাতিকে বিভক্ত রাখার পথ খোঁজা।"

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা অরূন্ধতী রায়ের যুক্তিকে
ভিত্তি হিসেবে ধরলে বর্তমান পরিস্থিতিকে আমরা কিভাবে বিশ্লেষণ করতে পারি?

ক্ষমতাবান গোষ্ঠীসমূহের এমন একটি অস্ত্র বা ইস্যু বা জুজু বা শ্লোগান
দরকার যা দিয়ে সে একই সাথে লড়াইকামী শক্তিকে দাবাতে পারে এবং সাথে সাথে
তার ক্ষমতা কাঠামোকে ভিত্তি দান করতে জনগণকেও নিজের বলয়ে আনতে পারে।

সেই দৃষ্টিভঙ্গী থেকে বিচার করলে বিদ্যমান শাসনকাঠামোর কর্তা
'মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি' হিসেবে পরিচিত আওয়ামী মহাজোট সরকার
'যুদ্ধাপরাধীর বিচার'এর সাচ্চা আয়োজক, আর 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রক্ষক'
হিসেবে নিজেকে জাহির করার ইস্যুকে সামনে এনেছে। সাথে সাথে জনগণের
লড়াইকামী শক্তিকে দমানোর জন্যও তার কৌশল রয়েছে। তা হচ্ছে, ডিজিটাল যুগের
উদগাতা হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করার সাথে সাথে ডিজিটালী
প্রচার-প্রোপাগান্ডাকে কর্তৃত্বাধীনে এনে লড়াইকামী জনগণের সচেতন অংশের
কন্ঠের টুঁটি চেপে ধরার কৌশলও তারা  সামনে এনে রেখেছে।

একই সাথে শাসকশ্রেনীর অন্য ক্ষমতাকাঠামোর দাবিদার অপেক্ষমান শক্তিও
কিন্তু কৌশল খাটাচ্ছে  ইস্যু সৃষ্টি করে তা নিজের আওতায় রাখার জন্য।
তাদের ইস্যু হচ্ছে, তারা 'গণতন্ত্রের রক্ষাকর্তা হতে চায়', গণতন্ত্র
রক্ষার অন্যতম শর্ত হচ্ছে অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন, এবং একমাত্র
'তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই' দেশে সুষ্ঠু-অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে
পারে বলে তাদের দৃঢ় বিশ্বাস। একই সাথে তারা 'পার্শ্ববর্তী দেশের
হস্তক্ষেপ' জুজু ও 'নাস্তিক-ধর্মদ্রোহী' ইস্যুকে খুব সার্থকভাবে তুলে
এনেছে।

শেষের ইস্যুটি ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীকে কিছুটা বেকায়দায় ফেলেছেই বলে
মনেহয়। তবে এই বেকায়দা অবস্থান থেকে তারা কৌশল খাটিয়ে কায়দা করে
ইস্যুটিকে নিজের পক্ষে আনার চেষ্টাও তারা করছে।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এই 'নাস্তিক' ইস্যুটিকে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী কব্জায়
নিয়ে সুদূরপ্রসারী লক্ষকে সামনে রেখে এগোচ্ছেই বলে মনেহয়। সাম্প্রতিক
সময়ে সরকার ঘোষণা করেছে, ব্লগে কী লেখালেখি হচ্ছে তা সরকার নজরদারী করবে।
আপাতভাবে 'ধর্মদ্রোহী' 'ইসলাম বিরোধী' লেখা বা মন্তব্য বা বক্তব্য
নজরদারীতে আনার কথা বলা হলেও কিন্তু তার চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে,
মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণ করা বা প্রভাবান্বিত করা।

এই হচ্ছে বর্তমান বিবদমান শাসনচক্রলাভী বা প্রত্যাশী শক্তিসমূহের কৌশলগত অবস্থান।

তবে তাদের নীতিগত অবস্থান যে একই, এবং তা হচ্ছে, নৈরাজ্য বা বিশৃঙ্খলা বা
অস্থিতিশীলতা যা-ই সৃষ্টি হোক না কেন তাকে কিন্তু নিজের শ্রেণীস্বার্থের
বিরুদ্ধে নিয়ে যাওয়া না হয় তা নিয়ে কিন্তু দুই পক্ষই যথষ্ট সতর্ক-সজাগ
এবং পরষ্পর সহযোগিতামূলক অবস্থানেই রয়েছেন।

কোথাকার কোন গার্মেন্টেস ফ্যাক্টরী পুড়ে গেলো, শত শত মানুষ পুড়ে অঙ্গার
হলো তা নিয়ে তাই সরকারী বিরোধী দলও ইস্যু বানায় না। গার্মেন্টসের মালিককে
রক্ষায় কিন্তু তারা দু'দলই একাট্টা। জনগণ সংশ্লিষ্ট যে কোন ইস্যুর দিকে
খেয়াল করলেই আপনি তার দৃষ্টান্ত ভুরি ভুরি পাবেন। তবে সতর্কতা হচ্ছে,
এক্ষেত্রে 'নাকি কান্না' বা 'মেকি সহমর্মিতা' বিষয়ে আপনাকে সজাগ বা সচেতন
থাকতে হবে।

এখানে মনে রাখা প্রয়োজন, নৈরাজ্য বা বিশৃঙ্খলা বা অস্থিতিশীলতা বা
বিভক্তি সৃষ্টি শাসকশ্রেনীর ইচ্ছাপ্রসূত বা অনিচ্ছাপ্রসূত
ক্ষমতাকেন্দ্রীক আর্থরাজনৈতিক একটি বাস্তবতা। এর মর্মগত লক্ষ্য হচ্ছে
ক্ষমতাকে পোক্ত করা। সুতরাং এই 'নৈরাজ্যিক পরিস্থিতি'তে বিভ্রান্ত হবার
কোনোই কারণ নেই।

সংক্ষেপে এই-ই হচ্ছে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে শাসকগোষ্ঠীর
অবস্থান নিয়ে একটি সাদা বিশ্লেষণ।

কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, যারা জনগণের কথা বলবেন বা যারা গণমানুষের
মর্মবেদনা-দৈনন্দিন শোষন-বঞ্চনার ভাষাকে ফুটিয়ে তুলবেন, যারা গণমানুষের
লড়াই গড়ে তুলবেন তাদের মধ্যেও কেমন যেন দিক-লক্ষ্য ভ্রান্তি, দিশাহারভাব
লক্ষ্য করা যায়।

লড়াকামীদের কাছে আহ্বান বা অনুরোধ, এখনই কিন্তু মাহেন্দ্রক্ষণ লড়াইকে
পোক্ত করার, জনমানুষের মাঝে লড়াইকামী শক্তিকে সাচ্চা হিসেবে তুলে ধরার।

সেই কাজ যারা করবেন তারাই হবেন আসল বিপ্লবী শক্তি। এখন যে ইস্যুটিকে নিয়ে
আপনি সোচ্চার হচ্ছেন সেই ইস্যুটিকে জনমানুষের ভাগ্য বদলের ইস্যু হিসেবে
প্রস্তুত করতে আপনাকেই হাতে-কলমে-বাস্তবে মাঠে নামতে হবে। নিপীড়িত
অত্যাচারিত জনতার একটিই মাত্র ইস্যু তা হচ্ছে
শোষণহীন-বঞ্চনাহীন-অন্যায়বিহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য জোরদার লড়াই করার
জন্য জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা, লড়াইকে সকল বাধাবিপত্তি মোকাবেলা করে সামনে
এগিয়ে নেয়া।

সবাইকে ধন্যবাদ

Saturday, March 23, 2013

রাঙামাটির কাউখালী কলমপতিতে ১৯৮০ সালেন ২৫ মার্চ সংঘটিত গণহত্যা

রাঙামাটির কাউখালী কলমপতিতে ১৯৮০ সালের ২৫ মার্চ সংঘটিত গণহত্যা
পার্বত্য চট্টগ্রামে এযাবৎ সংঘটিত ডজনের অধিক গণহত্যার প্রথম গণহত্যাযজ্ঞটি শুরু করা হয়েছিলো রাঙামাটির কাউখালীতে। দিনটি ছিলো ১৯৮০ সালের ২৫ মার্চ। সেনা কর্তারা মিটিঙের নামে বিভিন্ন এলাকা থেকে কাউখালী বাজারে লোকজন জড়ো করেছিলো। যখন সবাই একত্রিত হয়, তখন তারা নির্বিচারে সমবেত লোকজনের উপর ব্রাশফায়ার করে। তারপরে সেনারা সেটলারদের লেলিয়ে দেয় নিরীহ-নিরস্ত্র জুম্ম জনগণের উপর আক্রমন করার জন্য। এই আক্রমণে ৩০০ এর অধিক খুন হয়েছিলো বলে জানা যায়। আহত হয় শত শত ।হাজারের অধিক লোকজন বিভিন্ন এলাকায় এবং এমনকি ভারতে পালিয়ে গিয়ে প্রাণ রক্ষার চেষ্টা করে। হাজার একরের অধিক জায়গা-জমি-বসতভিটে সেটলাররা জুম্ম জনগণের কাছ থেকে কেড়ে নেয়। এখন সেই কাউখালী এলাকা যা একসময় জুম্ম জনগণের ছিলো তাতে সেটলাররা জনপদ গড়ে তুলেছে।
কাউখালী হত্যাযজ্ঞ নিয়ে সারভাইভাল ইন্টারন্যাশনাল অথবা এন্টি স্লেভারি সোসাইটি তৎকালীন সময়ে একটি রিপোর্ট করেছিলো। সেই রিপোর্ট একবার আমি পড়েছিলাম। এখন তা হারিয়ে ফেলেছি। কাউখালী হত্যাযজ্ঞ নিয়ে তদন্ত করার জন্য সরকারী তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিলো বলে জানা যায়।কিন্তু সেই রিপোর্ট হয়তো করাই হয়নি অথবা তা আলোর মুখই দেখেনি।
তবে কাউখালী হত্যাযজ্ঞের পর তৎকলীন সময়ে বাংলাদেশের তিনজন সংসদ সদস্য ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তারা ঘটানস্থল পরিদর্শনের পরে যে মন্তব্য করেন তা Life Is Not Ours বা জীবন আমাদের নয় নামে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন-এর প্রকাশিত ১৯৯১ সালের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তাঁরা যা বলেন তা নিচে তুলে ধরছি,
১৯৮০ সালের ২৫ মার্চ পার্বত্য চট্টগ্রামের বেতবুনিয়া থানার অন্তর্গত কলমপতি ইউনিয়নের কাউখালী বাজারে সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট যে গণহত্যা ও হিংসাত্মক কার্যকলাপ চালিয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আমরা তার প্রমাণ পেয়েছি। সদ্য আসা বসতিস্থাপনকারীরাও উপজাতীয়দের উপর হত্যা ও লুন্ঠনকাজে যোগ দিয়েছিল। এমনকি ঘটনার একমাস পরেও সমগ্র এলাকা জুড়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব চলছে। স্থানীয় প্রশাসন ও উপজাতীয় নেতৃবৃন্দের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও উৎখাত হওয়া হতভাগ্য উপজাতীয়রা তাদের গ্রামের ধ্বংসস্তুপে ফিরে আসতে সাহস করছে না। কারণ বসতিস্থাপনকারীরা ধরপাকড়, হেনস্থা, নরহত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুঠতরাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং হুমকি দিচ্ছে।
(সূত্রঃ পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন কর্তৃক ২০০১ সালে 'জীবন আমাদের নয়' পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি ও মানবাধিকার-এই শিরোনামে বাংলাভাষায় অনূদিত হয়ে প্রকাশিত চারটি আপডেটের অখন্ড সংকলন থেকে নেয়া। পৃষ্ঠা-২৮)
কাউখালী গণহত্যা নিয়ে রতন বসু ইউপিডিএফএর একযুগ পূর্তি সংকলনে একটি লেখা লিখেছেন।
লেখাটির শীরোনাম হচ্ছে-"কাউখাল হত্যাকান্ড ও আমরাঃ সংগ্রাম ও দালালী"। তার এই লেখা থেকে আমি কিছু উদ্ধৃতি শেয়ার করছি।
একদিন শত শত সেটেলার বাঙালি সেনা-পুলিশের সহযোগিতায় কাউখালী আমাদের পাড়ার দিকে আসতে থাকে। আমাদের বাড়িটা রাস্তার পাশে(অর্থাৎ কাউখালী হাসপাতালের উত্তরপাশে) বাড়ির পাশে একটা বড় বটগাছ ছিল। গরমের দিনে আমাদের পাড়াবাসী ঐ বটগাছের নীচে জড়ো হতো। আর রাস্তার নিচে হেঁটে যাওয়ার সময় লোকজন গাছের নীচে বসে খানিকটা বিশ্রাম নিয়ে আামাদের পাড়ার উত্তর দিকের রাস্তা দিয়ে চলে যেতো। পরে দেখা গেল, সেটেলার বাঙালিরা সেনা জওয়ানদের সহযোগিতায় আমাদের পাড়াবাসীর জায়গা, বাগান-বাগিচা বেদখলে নিয়ে ঘর-বাড়ি নির্মাণ শুরু করে দিয়েছে। পাড়াবাসীরা অসহায়ভাবে তাকিয়ে থাকে। যারা প্রতিবাদ করে তাদেরকে সেটেলাররা সেনাবাহিনীর বয় দেখায়। কাউখালীতে সেটেলাররা আসার পর থেকে আমাদের কারোর কোনো নিরাপত্তা ছিলো না। সেটেলার বাঙালিরা দিনে-রাতে, সময়ে-অসময়ে রাস্তা দিয়ে চলাচল করতো। বটগাছের নীচে এসে চিৎকার করতো। তাদের চিৎকারে অনেকসময় রাতে আমাদের ঘুম ভেঙে যেতো। তারা আমাদের পাড়াবাসীর ক্ষেত থেকে তরিতরকারী, ফলের গাছ থেকে ফল-মূল জোর করে নিয়ে যেতো। অনেকসময় বাড়িতে লোকজন না থাকলে ঘরে ঢুকে বাড়ির জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যেতো। একদিন আমাদের বাইজ্যা বাঁশের বাগান থেকে কয়েকজন সেটেলার বাঙালি জোরপূর্বক বাইজ্যা বাঁশ কেটে নিয়ে যায়।-পৃঃ৯৬
আমার এক দূর সম্পর্কীয় মামা ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ঘটনার দিন সেটেলার বাঙালিরা আমাদের পাড়ায় এসে প্রথমে আমাদের বাড়িটা জ্বালিয়ে দেয়। পরে সেনা জওয়ানদের সহায়তায় সেটেলার বাঙালিরা একে একে সমস্ত ঘর-বাড়ি লুটপাট করে জ্বালিয়ে দেয়। আমদের পাড়ার বৌদ্ধ বিহারটা জ্বালিয়ে দেয় সেটেলার বাঙালিরা। বিহার অধ্যক্ষ তার সাথে থাকার কারণে তিনি সেটেলার বাঙালিদের হামলার হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন। বিহারের ভান্তের সাথে তিনিও সেটেলার বাঙালিদের মুখোমুখি হন এবং ভান্তে হাতের দা দিয়ে প্রতিরোধ করায় দু'জনেই প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলেন। জীবন বাঁচাতে গৃহত্যাগী ভিক্ষুকেও সেদিন দা হাতে নিয়ে প্রতিরোধ করতে হয়েছে।-পৃঃ৯৯
এই দু'টি উদ্ধৃতি থেকেই বোঝা যায় গণহত্যার সেই দিনগুলোতে পার্বত্য জুম্ম জনগণ কেমন অস্তিত্বহীনভাবে বেঁচে ছিলেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামে এ যাবৎ যেসকল গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে তার প্রামান্য তথ্য আমাদের কাছে খুবই কম। এবং সংগতকারনেই তা কম হতে বাধ্য। কিন্তু যারা এই হত্যাকান্ডের শিকার এবং যারা এখনো এই হত্যাকান্ড-ধ্বংসযজ্ঞ থেকে কোনোমতে বেঁচেবর্তে রয়েছেন, জায়জমি-সহায়সম্পদ-আত্মীয়স্বজন হারিয়েছেন তাদের সেই স্মৃতির কথা কি আমাদের লিখে রাখার প্রয়োজন নেই? হ্যাঁ, অবশ্যই লিখে রাখা প্রয়োজন। কিন্তু কে এই কাজটি করবে?

অতিরিক্ত মন্তব্যঃ
লেখাটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে শেয়ার করার পরে একজন ফেসবুক বন্ধু একটি মন্তব্য করেন। মন্তব্যের বিষয়বস্তু ছিলো, সিএইচটিতে তো অপাহাড়ি বা বাঙালি জনগণের উপরও হামলা-আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। তার জবাবে আমি যা লিখেছি তা এখানে হুবহু উদ্ধৃতি দিচ্ছি,
রাগ করার কোনো কারন নেই। পার্বত্য চট্টগ্রামে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন যেমন ঘটেছে তেমনি পাল্টা প্রতিশোধও নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে রাষ্ট্র যখন অপরাধী হয় তা খুবই গুরুতর। ধর্মমত-জাতি নির্বিশেষে রাষ্ট্র হচ্ছে জনগণের রক্ষক। পার্বত্য চট্টগ্রামে রক্ষক ভূমিকা বদল হয়ে সেই গুরুতর অপরাধই সংঘটিত হয়েছে। আমি আমার লেখায় সেই বিবরণই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। রাষ্ট্রের জাতিবিদ্বেষী ভূমিকা বা অন্য ছোটো জাতিসমূহের উপর নিবর্তনমূলক কার্যকলাপ নিয়ে আমি কথা বলার চেষ্টা করেছি। এবং এ প্রসঙ্গে বলে রাখি অপাহাড়ি হত্যার দায়ও এই রাষ্ট্রের রক্ষাকর্তাদেরই বহন করতে হবে। কারণ তাদের প্ররোচনার পাল্টা হিসেবেই এইসব সংঘটিত হয়েছে। রাষ্ট্রের এই নিপীড়ক ভূমিকার বদল ঘটানোর জন্যই আজ আমাদেরকে লড়তে হচ্ছে। এই লড়াইয়ের রূপ জাতিবিদ্বেষী-উগ্রজাত্যাভিমানী হবে না এটাই এখন এই সময়ের প্রত্যাশা। ধন্যবাদ
লেখাটি পড়ে আশাকরি পাঠকগণ পার্বত্য সমস্যা নিয়ে আরো ওয়াকিবহাল এবং সচেতন হবেন।

Sunday, March 17, 2013

প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলাম স্মরণে কিছু কথা

প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলাম চট্টগ্রামের এক হাসপাতালে ৭৪ বছর বয়সে মারা গেলেন। ১৫ মার্চ শুক্রবার রাত বারটায় তিনি মারা যান। বিবিসি বাংলা তাঁর মৃত্যুর খবর প্রতিবেদনে লিখেছে,
" বাংলাদেশের বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিদ, অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম আজ চট্টগ্রামের এক বেসরকারি হাসপাতালে ৭৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। মহাবিশ্বের উদ্ভব ও পরিণতি নিয়ে মৌলিক গবেষণার জন্য তিনি বিখ্যাত ছিলেন। "
বিবিসি লিঙ্ক

তিনি গণিতজ্ঞ ছিলেন, ছিলেন পদার্থবিজ্ঞানী এবং জ্যোতির্বিদ। তাঁকে স্মরণ করে এক ব্লগের একজন ব্লগার লিখেছেন, " ১৯৮৪ সালে কেমব্রিজে একজন পূর্ণ প্রফেসরের বেতন ছিল বাংলাদেশী টাকায় মাত্র সোয়া লক্ষ টাকা! আর একই সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন প্রফেসরের বেতন ছিল অনেক, তিন হাজার টাকা! গবেষণার সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রেও এরকম আকাশ পাতাল ব্যবধান। এই রকম গবেষণার সুযোগ, নিশ্চিন্ত জীবন আর বিশ্বব্যাপী খ্যাতির সম্ভাবনাকে পেছনে ফেলে নিজের দেশে চলে আসতে পারেন এমন মানুষের সংখ্যা ১৯৮৪ সালে মাত্র একজন ছিল।"
ব্লগের লিঙ্ক
প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলাম বড় মাপের মানুষ ছিলেন সবদিক দিয়ে। আমি কয়েকদিন আগে চট্টগ্রাম বিশ্বদ্যিালয়ে বেড়াতে যাই। সেখানে শুনলাম তাঁর কথা। ২০০৭-৮ সালে পুরো বাংলাদেশে জরুরী অবস্থা জারি ছিলো। সবখানে দমবদ্ধ এক অবস্থা। সেই সময়ে চবিতে র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছিল। তিনি একবারে সকালে চবিতে বেড়ানোর সময় দেখতে পান। র‌্যাবের গাড়ি। তিনি তৎক্ষণাৎ র‌্যাবের অফিসারকে ডেকে সেখান থেকে চলে যেতে বললেন। শিক্ষার ক্ষেত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন শৃঙ্খলাবাহিনীর দরকার এটা ভেবেই হয়তো তিনি র‌্যাবকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে চলে যেতে বলেছিলেন।

তিনি কোনো কিছু পাবার জন্য বা প্রক্টর-প্রভোস্ট-ভাইস চ্যাঞ্চেলর হবার জন্য বা অন্য কেউকেটা হবার জন্য কারো কাছে ধর্ণা দেন নি এবং আসলে তাঁকে নিয়ে এই কথা বলাটাই আমাকে লজ্বায় ফেলছে।
আজ আমরা জাফর ইকবাল স্যারে কথায় আসি। জাফর ইকবাল স্যার হয়তো অনেক দিক থেকে অনেক ক্ষেত্রে সমালোচনা-নিন্দা পাবার মতোই অবস্থান নেন।
কিন্তু এই জামাল নজরুল ইসলাম স্যার নিজ আদর্শকে স্থির রেখেছেন। থেকেছেন সবসময় নিপীড়িত-নির্যাতিতদের সাথে। তিনি কারো কাছে গিয়ে করুণা প্রকাশ করেন নি। বরং মর্যাদা ও সাহস দিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর শুনে আমার মনে হয়েছে একজন আপনকে হারিয়েছি।

দেশের প্রেক্ষাপটেই বলছি, যখন সেক্টর কমান্ডা কর্নেল কাজী নূর উজ্জামান মারা গেলেন তখন আমাকে নাড়া দিয়েছে। যখন আজীবন বিপ্লবী প্রাণেশ সমাদ্দার মারা গেলেন তখন আমি ভেবেছি একজন আপন হারিয়েছি। দেশের মধ্যে অনেকেই মারা যায়। কিন্তু এই ম্যান অব প্রিন্সিপাল বা সত্যিকারের মানুষগুলো যখন মারা যায়, এবং যখন দেখি তাদের সম্মান জানাতে কুন্ঠা করে এই দেশ তখন সত্যিই খারাপ লাগে।
মন থেকেই বলছি, আর যারা এ যাবৎ অনেকেই মারা গেছেন এবং তারা অবশ্যই স্ব স্ব ক্ষেত্রে অনেক ভূমিকা রেখেছেন; কিন্তু আজীবন সৎ-বিপ্লবী জীবন কয়জনই বা কাটিয়ে দিতে পেরেছেন? সবাই জীবনের কোনো সময়ে জীবনের লোভ-লালসা-খ্যাতি-ক্ষমতার লোভে পরেছেন। কিন্তু যে তিন জনের নাম আমি বললাম, তাঁরা জীবন পর্যন্ত যে নিজের বিবেককে কারো কাছে গছিয়ে দিয়েছেন তা তাঁদের ঘোরতর সমালোচনাকারীরাও বলবেন কিনা আমার জানা নেই।
ম্যান অব প্রিন্সিপাল বা নৈতিকভাবে বড় মাপের মানুষদের এই দেশ আরো বেশী সম্মান দিতে শিখবে এই প্রত্যাশা।

Tuesday, March 12, 2013

সুদীর্ঘ দা তুমি বৃহৎ কাজের জন্য আরো বেশী কাজের বোঝা বাড়িয়ে দিয়ে গেলে, তোমায় লাল সালাম



সুদীর্ঘ দা খুন হলেন। আজ দুপুরে যখন এই খবরটি জানলাম তখনও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল। বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হচ্ছিলো না। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে খবর নেয়ার চেষ্টা করছিলাম। এবং এটাই শুনতে চাচ্ছিলাম যেন খবরটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়। কিন্তু হায়, তা হলো না। এক ফেসবুক বন্ধুর লোড করা ফটো দেখে একদম নিশ্চিতই হতে হলো যে সুদীর্ঘ দা নেই। মনটা খুব খারাপ এবং খুব একা একাই লাগছিলো।

তাঁর সাথে পরিচয় ইউপিডিএফএর সাথে জেএসএসএর একটি অংশ যখন ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বাবোধকে মেনে নিয়ে কাজ করছিলো তখন থেকেই। সেই থেকেই তাঁর সাথে দেখা হতো। এক সময় তাঁর বাসায় আমরা যেতাম, নানা কথা বলতাম। আমার ছোটোভাইয়ের কাছে তিনি নিয়মিত যেতেন। ছোটোভাই হোমিও ডাক্তারী পেশায় জড়িত। সুদীর্ঘ দা এবং তাঁর পরিবার ঔষধ আনতে মাঝে মাঝে আমার ছোটো ভাইয়ের কাছে যেতেন। সেই সূত্রেও তাঁর সাথে অন্তরঙ্গ ভাব গড়ে ওঠে। আমার ছোটোভাইও তাঁকে খুব ভালোবাসতেন। বলতে গেলে তিনি আপন কোনো আত্মীয় না হলেও আমরা পারিবারিকভাবে দুই ভাই তাঁকে আপনই মনে করতাম। তিনি এবং তাঁর পরিবারও আমাদের আপনের মতই ভাবতেন বোধকরি। তা না হলে এত আপ্যায়ন তো করতেন না!

সুদীর্ঘ দা'কে কে খুন করেছে? রাজনৈতিকভাবেই বলি। তাঁকে সন্তু লারমার সশস্ত্র সন্ত্রাসীরাই খুন করেছে। এই খবরটি পাবার পর আমার এক ছোটো ভাইয়ের সাখে কথা হচ্ছিল। সে বললো, এই খবরটি শোনার পরে জেএসএসএর সন্তু লারমা পক্ষের কর্মীদের অনেকের মধ্যেও তাঁর মৃত্যুতে আফশোশ বা হতাশা প্রকাশ করেছেন, তারা খুবই মর্মাহত হয়েছেন। আর আমরা যারা একসাথে বিভিন্ন সময় কাজ করেছি, যারা তাঁকে চিনতাম তারা সবাই এখন শুধু আফশোশই করছেন না। বরং পাশাপাশি ক্ষোভ-রাগও প্রকাশ করছেন। এখন যারা তাঁর সহযোদ্ধা তারা কি এই হামলা ও মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে শপথ নেবেন, অর্থাৎ আমরা কি রক্তের বদলে রক্ত ঝরতে দেখবো?

আমি কার্যত জানি না এই সংঘাতের শেষ কোথায়। এই সংঘাতের তাত্ত্বিক ভিত্তিই বা কী আমার এখনো জানা নেই। আমার মতে এই সংঘাতের  আদর্শিক বা তাত্ত্বিক ভিত্তি যা, তা হচ্ছে সমাজের গভীরে প্রোথিত সামন্তীয়-লুপ্ম্পেন সাংস্কৃতিক আর্থ-রাজনৈতিক ভিত ও  চেতনাবোধ। এই সংঘাতের এটিই মৌল ভিত্তি এবং পাশাপাশি শাসকগোষ্ঠীর 'জুম্ম ধ্বংসের নীল নকশা'র ফাঁদে তো আমরা পা দিয়েছিই।

আমার আজ আর রাজনৈতিক কোনো বিশ্লেষন করতে ইচ্ছে হচ্ছে না।

সুদীর্ঘ দা'র 'চুকচুক' নামে এক ৭/৮ বছরের ছেলে রয়েছে। পারিবারিক আন্তরিকতার সূত্রেই জানি তাঁর স্ত্রী গর্ভে রয়েছে আরেক সন্তান। আজ আমার এক ছোটোভাই খাগড়াছড়ির মাহজন পাড়ায় তাদের বাসা থেকে ফোন করলো। শুনলাম সুদীর্ঘ দা'র স্ত্রী-র আর্তনাদ। এর আগেও এই ধরনের আর্তনাদ শুনেছি। এখন দেখি মনটা এমন পাথর হয়ে যেতে বসেছে। কী আর বলবো!

সবাইকে অনুরোধ জানাবো এই মৃত্যুর মাঝে যেন থাকে শক্তি। অনুরোধ থাকলো, যেন আমরা লড়াইকে আরো আপন করতে পারি।

Monday, March 11, 2013

About recent situation in Bangladesh

We don't know how the on running game be over in future. But please
lets make everything peoples centred, but not for the power only.

If you lust for 'power' then please wait until wrath of the oppressed people would emerge.

I
regret there is no one like 'Mawlana Bhasani' who could warn 'the
ruling powers' to bombast his voice saying "KHAMOSH!'.'খামোশ!'

We only hear 'fanatics' and 'cowardice' 'deceitful artifice' voice now.

These all foul stand would be disastrous just as two edged sharp knife.

Thanks

Sunday, March 10, 2013

It is high time to think deeply about the situation of Bangladesh.

After reading Ahmed Imtiaz Bulbul's urge for seeking security, we can perceive, how much we have been unsafe at this moment.
Why such kind of situation prevailing in the country?
We are getting information now how the minority religious communities property and house were gutted, attacked in elsewhere parts of the country.
One news website reported that, during the mayhem on 28 february in Chittagong districts Banshkhali, the UNO phoned OC for help but he didn't receive it.When asked about it later, on the other hand OC told that they were also very unsafe at that time.
When a very shaky situation comes and law enforcers agency shows it back side, then, from where we should expect to get security?
It is high time to think deeply about the situation of Bangladesh.
It is my personal assumption that, without a deep rooted social and cultural movement against 'fanatics' or 'religious extremism' or 'hatred politics' we must not expect a turn over in the future of our country.

Saturday, March 9, 2013

বিজয়ের বার্তা বহনের সামর্থ্য অর্জনের জন্য ইউপিডিএফের ম্যারাথন রেস

'nenikekamen'
We Won!

(এক)

পূর্নস্বায়ত্তশাসনের জন্য ম্যারাথন।
লড়াইয়ে বিজয় অর্জনের জন্য ম্যারাথন।
অধিকার আদায়ের জন্য ম্যারাথন।

(দুই)

ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট 'পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের জন্য ম্যারাথন ২০১৩' এই শ্লোগানকে ভিত্তি করে ম্যারাথন রেসের আয়োজন করেছে। খাগড়াছড়িতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। পানছড়ি উপজেলা থেকে খাগড়াছড়ি জেলাসদরের স্বনির্ভর বাজার পর্যন্ত মোট ২৩ কিলোমিটার পথ হচ্ছে এই ম্যারাথন রেসের দুরত্ব। পার্টি গঠনের পূর্বে বর্তমান ইউপিডিএফএর নেতৃবৃন্দ ও তিন গণতান্ত্রিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ১৯৯৭ সালের ১০ মার্চ ঢাকায় এক সমাবেশ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই দিবসটি উপলক্ষ করেই ইউপিডিএফ এই ম্যারাথন রেসের আয়োজন করেছে।

ইউপিডিএফকে ধন্যবাদ ম্যারাথন রেসের মতো একটি কর্মসূচি গ্রহণ করার জন্য।

(তিন)

খ্রিস্টপূর্ব ৪৯০ অব্দে Pheidippides নামে এক গ্রীক বার্তাবাহক ম্যারাথন নামক যুদ্ধ ময়দান থেকে না থেমে দৌড়ে এসেছিলেন জয়ের খবর এথেনসের জনগনকে জানাবার জন্য। দৌড় দিয়ে আসার সময় তিনি জানিয়ে আসছিলেন বিজয়ের বার্তা, আমরা জিতেছি, আমরা জয় করেছি, উই ওন(WE WON!), Nenikekamen!

আধুনিক যুগে অলিম্পিকে ম্যারাথন একটি খেলা হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হয় ১৮৯৬ সালে। ম্যারাথন রেসের জন্য অফিসিয়ালি ৪২.১৯৫ কিলোমিটার পর্যন্ত দৌড়াতে হয়।

পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও ম্যারাথন রেসে অংশ নিয়েছে প্রথম থেকে।

(চার)

পার্বত্য চট্টগ্রামে ইউপিডিএফএর উদ্যোগে যে ম্যারাথন রেসের সূচনা করা হলো তার তাৎপর্য আগামীতেই জানা যাবে।

তবে যুদ্ধ ময়দান থেকে যে তেজ-শক্তি-শৌর্য-বিজয়ের বার্তা ওই গ্রীক বার্তাবাহক জানিয়েছিলেন তারই মতো আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের যুব সমাজ যেদিন সেই বিজয়ের বার্তা বহন করার মতো সামর্থ্য অর্জন না করবে ততদিন বিজয়-অধিকার-পূর্নস্বায়ত্তশাসন-স্বায়ত্তশাসন যেন অধরাই থাকে!
সেদিনের অপেক্ষায় থাকি আমরা যেদিন বলতে পারবো NENIKEKAMEN! WE WON!

Thursday, March 7, 2013

Hugo Chavez, the Hero

He is a leader. He is a hero. He has died. He is Hugo Chavez.
Age 58. served 14 years for his land and for the whole world.

He was the President of Venezuela, light house of Latin America, Foe of USA.
He is a Socialist.
May he rest in peace with on going struggle for the whole world.

Someone asked, How I would react after hearing accusation from Venezuela Authority that USA planted cancer in Chavez's body.
I told, "What would it be changed if I believe USA did the Chavez death
in a hurry! I could only remember Chavez's name in the name. I don't
know how a 'Hero' should be measured. But his life heard by many, feared
by many, cheered by many, remembered by many, smeared by many, famed by
many also.
I regret that no one could arrange a life of Messiah in this temporary world and I don't need to bother about it."

Salute, Hugo Chavez.

My concern on Shahbagh Movement

Dear Sir,

I think as demanding to be a conscious citizen of the Country, I must have to be concern on the on going Shahbagh movement. I tries here in the following write up to have a focus on that contemporary movement.

This writes up was mainly written after reading an article about shahbagh in an English Daily. But I am a bit swallowed by narcissism to better be convinced that it also relevant in any discussion about Shahbagh Movement.

So, I beg your pardon,  please have a look at it.

“Thanks to the writer to torch a light on this issue.

Shahbag movement probably could have been a new era for the New Bangladesh. But as you mentioned it is utterly trying to revive the cliche Slogan of the past the “Joy Bangla”.. That Slogan was and is now Cliche in terms of its ‘inner meanings’. At first, It is now under the hand of only for Awami League’s. And it is a slogan of ‘Chauvinism’ only. The second is its deepest meaning, that accumulate to repress the other ethnic minority people in the Country, which do not give a path of access to other Nationalities in the History and Cultures of the Country. We can cite the example by focusing the recent 15th amendment of BD Constitution. In that amendment no other than Bangalee Nation is recognised, as if Bangladesh is a homogenous country of only “Bangalee’s.

It is very much deplorable that we are hearing that cliche Slogan, Joy Bangla, from the Shahbagh Generation till now.

I think it is a kind of scarcity of advanced cultural or ideological movement in our country, for which we don’t care what is the meaning of revolutionary importance of a Slogan in Movement or Struggle.

Until and unless we foresee a highly advanced and fervent ideological knowledge in our Leaders, I think it is a long way to be needed for us to be confident in believing in the movement of the Shahbagh Generation or that kind of other movement.

But, We still hope to have spread rays something good from that movement.”

I want to go further by saying that, Shahbagh Movement has shown more Emotional zeal or fervour in expressing the wrath. emotion, anger, hatred etc. Whereas it should have also contained the deepest and profound conscious Ideological and Social pragmatism when dealing the various issues relating from War Crimes Tribunals, the verdicts,the two party dominance to religious cohesion and etc.

Here we, the fellow citizens or folks of the country, must warn and show our strong concern that things wouldn’t change if shahbagh, the Generation Square Movement, can’t get rid of ‘chauvinism’ ‘two party dominance circle’.

So the leaders of Shahbagh must and should focus on it or rather it would dissolve to let the other strong valor to burst out.

Thanks

Wednesday, March 6, 2013

কর্মবীর হুগো শ্যাভেজ লাল সালাম

কর্মবীর হুগো শ্যাভেজ লাল সালাম

হুগো শ্যাভেজ। ১৭ বছর বয়সে সেনাবাহিনীতে যোগ। সেনাবাহিনীতে থাকার সময় ১৯৯২ সালে তিনি ক্ষমতা দখলের জন্য উদ্যোগ নেন। এ সময় তিনি টিভিতে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে আবার ক্ষমতা ফিরিয়ে দেন বা দিতে বাধ্য হন। এরপর তাকে ৩০ বছর সাজা দেয়া হয়। এ সাজা নিয়ে ঠাট্টা করে তিনি বলেছিলেন, ক্ষমতা দখলের চেষ্টার জন্য তিনি এক বছর মাত্র সাজা পেয়েছেন, বাকি সাজা পেয়েছেন ক্ষমতা দখল করতে না পারার জন্য বা ক্ষমতা দখল ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হবার জন্য। কিন্তু টিভি ভাষণে উচ্চারিত তার সেই 'por ahora' বা 'For Now' 'এই সময়ের জন্য' শ্লোগান জনতার মনে গেঁথে যায়।

১৯৯৮ সালে তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হন। এবং তখন থেকেই তার সেই 'por ahora' বা 'এই সময়ের জন্য'-এর অধ্যায শুরু হয়ে যায়।

ক্ষমতাগ্রহণ করার পরে তিনি ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ রাষ্ট্রায়ত্ত করেন। এরপরে তিনি কিউবার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেন। ভেনেজুয়েলা জনগণের বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য আত্মনিয়োগ করেন। তিনি টিভিতে 'Alo Presidente' নামে একটি অনুষ্ঠান সম্প্রচারের ব্যবস্থা করেন। এতে তিনি সরাসরি জনগণের সাথে আলোচনা করতেন, বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতেন। তিনি সপ্তাহের ৪০ ঘন্টা শুধু জনগণের কথা শুনে বা জনগণের সাথে আলাপ করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতেন। তিনি প্রচুর পরিশ্রম করতেন। তিনি দিনে ৪০/৫০ কাপ কফি খেতেন। ঘমাতেন কম। রাত জেগে কাজের মধ্যে থাকতেন। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান, তাঁর নিরন্তর কাজের জন্য ল্যাটিন আমেরিকা তার স্বাতন্ত্র্যকে চিনতে পেরেছে। ইউএএস-এর বলয় থেকে বেরিয়ে নিজেদের বলয় গড়তে চেষ্টা করেছে। ২০১১ সালে তার ক্যান্সার ধরা পড়ে। ২০১৩ সালের ৫ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করলেন।

ভারতবর্ষের একজন সাধক বিবেকানন্দ-এর কথা এখন আমার মনে পড়ছে। ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতার লড়াইয়ে এই 'ধর্ম'সাধক বিপ্লবীর বিরাট অবদান রয়েছে। তিনিও ধর্মসাধক হবার কথা না বলে 'কর্মবীর' হবার কথা বলেছিলেন জীবন ধরে।

হুগো শ্যাভেজ কী করতে পেরেছেন বা কী করেছেন তা তার দেশের জনগণই নির্ধারণ করবে তার প্রতি তাদের আন্তরিকতা প্রদর্শন করে। কিন্তু তাঁর কাছ থেকে আমাদের এটাই শেখার আছে যে, আমাদের দেশের বা জাতির জন্য বা কোনো লক্ষ্যকে পূরণের জন্য 'সাধক' হতে হবে, 'যোগী' হতে হবে, হতে হবে 'কর্মবীর'।

"those who die for life cannot be called dead".
'যারা জীবনকে জীবনের জন্য সমর্পন করেন তাদের মৃত্যু নেই'

"জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর-স্বামী বিবেকানন্দ

"Chavez vive, la lucha sigue":

"Chavez lives, the battle continues".

স্যালূট শ্যাভেজ, স্যালূট দ্যা হিরো।

দেখো শ্যাভেজ, তোমার জন্য কাঁদে ভেনেজুয়েলা, কাঁদে বিশ্বের জনগণ

Monday, March 4, 2013

শাহবাগের জাগরণ প্রসঙ্গঃ আমাদের আরো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে




এটাই সত্য যে, শাহবাগের জাগরণ দেশের জনমানুষের চেতনায় এক ঝাঁকি দিয়েছে।
এই চেতনার প্রথম এবং প্রাথমিক লক্ষনীয় দিকটি হচ্ছে, ন্যায়-নীতি-মান-মর্যাদা বা চেতনাকে সমুন্নত রাখতে এ দেশের সচেতন ছাত্র-যুব-জনতা সর্বদাই সচেষ্ট,তা জাতিগত-দেশীয় যে দৃষ্টিকোণ থেকেই বলিনা কেন।
কিন্তু, এই জাগরণের বর্তমান অবস্থা এটাও শিক্ষা দিচ্ছে যে, লড়াইয়ের পথে যতটা আবেগের বেগে ধাবমান হতে হয়, তার চেয়ে বেশী প্রয়োজন চেতনার ধারাকে শানিত করা। এই দেশের জনমানুষের চেতনায় লক্ষনীয় পরিবর্তন আনতে আমাদের হয়তো আরো জনসম্পৃক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করবে এই শাহবাগের জাগরণ পরবর্তী বর্তমান দেশের পরিস্থিতিকে উপলব্ধি করে এটাই আমি মনেকরি এবং বিশ্বাস করি।
শাহবাগের জাগরণের বর্তমান যিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে বলা হচ্ছে, তিনি হলেন ইমরান এইচ সরকার। তিনি ভারত ভিত্তিক ওয়েবসাইট টেহেলকাডটকম-এ এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে তিনি কী বলেছেন আমি তা উল্লেখ করছি,
We want Shahbag to spread out not just as political, but a cultural movement.
অর্থাৎ তিনি বা তারা, শাহবাগের লড়াইকামীরা এই লড়াইকে শুধু রাজনৈতিক লড়াই হিসেবে নয় ‘কালচারাল’ বা সাংস্কৃতিক লড়াই হিসেবেও তার বিকাশ ঘটাতে চান বলে মত প্রকাশ করেছেন।
আমার আশ্চর্য লেগেছে , এই সাক্ষাৎকারটি একটি দেশীয় সংবাদ মাধ্যমও নিতে পারতো। এবং তা হতে পারতো বাংলা ভাষায়। কিন্তু তা্র বা তাদের এই আকাঙ্খার কথা আমাদের পড়তে হচ্ছে বাংলা ভীন্ন অন্য ভাষায় এবং অন্য দেশের একটি ওয়েবসাইট থেকে।
এখানেই আমাদের প্রধান দুর্বলতা বলে আমি মনেকরি। এবং তা চেতনাগত, চেতনাকে প্রকাশগত, চেতনাকে ধারনগত, চেতনাকে ছড়িয়ে দেয়ার সাথে সম্পৃক্ত।
তাই আমি মনেকরি চেতনাকে জনধারায় সম্পৃক্ত করে যতদিন আমরা শানিত করতে ব্যর্থ হবো ততদিন আমাদের আরো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে বলেই মনে হচ্ছে।

পাদটীকা

এখানে প্রাসঙ্গিক বিবেচনা করে আমি আমার ব্লগের একটি লেখার লিঙ্ক আমি প্রদান করছি। লেখাটিতে আমি একটি জাতির অধিকার অর্জনের লড়াই সংগ্রামে সাংস্কৃতিক চেতনার সংগ্রামকেও গুরুত্ব দিয়ে এগোতে হয় বলে মত দিয়েছিলাম। সাংস্কৃতিক সংগ্রাম বোঝাতে বলেছিলাম,
তবে বৃহৎ অর্থে এখানে এ দুটো শব্দের অর্থ একই সাথে ‘চেতনা’ ‘দৃষ্টিভঙ্গি’ ‘আদর্শ’ ‘মতাদর্শ’ হিসেবেও চিহ্নিত করতে পারা যায়। এবং এখানে ‘সাংস্কৃতি সংগ্রাম’ বা ‘সাংস্কৃতিক চেতনার সংগ্রাম’ অর্থে ‘উন্নত মতাদর্শ’ ‘উন্নত চিন্তা দৃষ্টিভঙ্গি’ ‘উন্নত জীবন পদ্ধতি বা জীবনাচরন’কে বোঝানো হবে।
লেখাটির লিঙ্ক জাতিসত্তার অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে সাংস্কৃতিক সংগ্রামও এক অপরিহার্য গুরুত্বপূর্ন সংগ্রাম

এ্বং এই উন্নত চিন্তা-চেতনার সংগ্রামের সাথে জনমানুষকে সম্পৃক্ত করাটাই হচ্ছে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।