Monday, February 25, 2013

শাহবাগের লড়াইকে ছড়িয়ে দিতে হবে দেশের সকল মানুষের জন্য

শাহবাগের আন্দোলন যে গতিবেগে এসে সবাইকে ছাপিয়ে গিয়েছিল সেই গতি এখন কি আছে? আমি জানি না।
শাহবাগকে নিয়ে রাজনীতি হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু শাহবাগের নেতৃত্বে যারা আছেন, তারা যদি দলীয় বৃত্ত  বা দ্বি ধারায় বৃত্তাবদ্ধ রাজনীতিকে বেশী প্রাধান্য দিয়ে তাদের অবস্থানকে প্রকাশ করেন তবে শাহবাগ আমাদের কী পথ দেখাতে পারবে তা আগামীই বলে দেবে।
শাহবাগ যদি আগামীতে দেশের লড়াইয়ের ময়দানে কিছু একটা করতে চায় তাহলে, শাহবাগ যে দাবি নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে তার সাথে অবশ্যই কৌশলী ভূমিকা নিয়ে জনমানুষের দাবি যোগ করতে হবে বলে আমি মনে করি।

Sunday, February 24, 2013

রাখাল বালক দাউদ আজ ফিলিস্তিনি শত শত প্রতিবাদী যুবজনতা, আর জালুত হলো ইসরাইলীরা

ইসরাইল গত ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩  আরাফাত জারাদাত নামে এক ফিলিস্তিনি যুবককে জেলে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। এই হত্যার প্রতিবাদে ফিলিস্তিনের জনগণ প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে।

মনে পড়ছে কিছুদিন আগে পড়লাম, হাজার বছর আগে ইসরাইলী ইহুদী রাখাল বালক দাউদ ফিলিস্তিনি পালোয়ান অস্ত্রধারী জালুতকে শুধু গুলতি মেরে হত্য করেছিল। তারপর থেকেই ইহুদীরা ফিলিস্তিনিদের কিছুবছরের জন্য পরাজিত করে রাখতে পেরেছিল। আজ ইসরাইলীদের হাতে রয়েছে মারনাস্ত্র, তারা আজ জালূত। আর ফিলিস্তিনিদের হাতে গুলতি। তারা আজ রাখাল বালক দাউদ।

প্রোপাগান্ডা একটি জোরালো অস্ত্র যা দিয়ে লড়াই চালানো যায়

প্রোপাগান্ডা এখন একটি জোরালো অস্ত্র যা দি লড়া্ই চালানো যায়, লড়াই থামানো যায়, লড়াই ভিন্নদিকে নিয়ে যাওয়া যায়

নোয়াম চমস্কি ২০০২ সালে "মিডিয়া কন্ট্রোল: দ্য স্পেকটাক্যুলার এচিভমেন্ট অব প্রোপাগান্ড" নামে একটি লেখা প্রকাশ করেন।
সেই লেখায় তিনি শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক সরাসরি দমন-নির্যতনের কৌশল ব্যবহার না করে কিভাবে প্রার প্রোপাগান্দা বা মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনমতকে  নিজের পক্ষে নিয়ে সকল লড়াই-সংগ্রাম বা ভিন্নমতকে দমন করা যায় বা জনমকে সবসময় অন্য ঠুনকো ইস্যু নিয়ে মশগুল রাখা যায় তা নিয়ে তথ্যপূর্ন মত দিয়েছেন। আজকে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে আমার মনে হয়ে সেই লেখাটি কিছু অংশ পাঠকদের কাছে শেয়ার কার দরকার, তাই শেয়ার করলাম।

"উদ্রো উুইলসনের প্রশাসন তখন। ১৯১৬ সালে উদ্রো উইলসন 'বিজয় ছাড়াই শান্তি'র মঞ্চে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। সময়টা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মাঝামাঝি। সাধারণ মানুষ তখনও খুব শান্তিবাদী, কার্যত ইউরোপীয় এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার কোন কারন তখনও পর্যন্ত তারা খূজে পায়নি। এদিকে উইলসন প্রশাসন তো যু্দ্ধের প্রতি ভীষণ দায়বদ্ধ, ফলে এ ব্যাপারে কিছু একটা তাদের করতেই হয়। তখন ক্রিল কমিশন নামে এক সরকারী প্রোপাগান্ডা কমিশন গঠন করে তারা, আর মাত্র ছয় মাসের মধ্যে শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষকে তা এক ক্ষিপ্ত, যদ্ধোন্মাদ জনতায় পরিণত করতে সফর হয় তারা-যে জনতা জার্মানীর যা কিছু, স-ব ধ্বংস করতে চায়, জার্মানদের ধরে ছিড়ে ফেলতে চায়, যদ্ধে যোগ দিয়ে দুনিয়াকে রক্ষা করতে চায়। এ এক বিরাট সাফল্য,ক্রমে যা আরো বড়ো সাফল্যের দিকে এগিয়ে যায়।
ঠিক এই সমেয় এবং যুদ্ধের পরে প্রায় একই কায়দায় তথাকথিত এক লাল আতঙ্কের উন্মাদনা খুঁচিয়ে তোলা হয়-ইউনিয়নগুলোকে ধ্বংস আর সংবাদপত্র ও রাজনৈতিক চিন্তার স্বাধীনতাকে সম্পূর্ন নির্মুল করার ক্ষেত্রে তা দারুনভাবে সফল হয়। গণমাধ্যম ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের দিক থেকে এর পক্ষে খূব জোরালো সমর্থন মেলে। এর ব্যবস্থা তো করেছিল তারাই, আর তারাই ঠেলে এগিয়ে নিয়ে যায়। তাতে সাফল্যও মেলে আশাতীত।"(সূত্র:নোয়াম চমস্কি; গণমাধ্যমেরর চরিত্র;মন ফকিরা, ২০০৭;পৃষ্ঠা-৭.৮)

Monday, February 11, 2013

জুম্ম ব্লগার এন্ড অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম আজ ঢাকার শাহবাগ সমাবেশে যোগ দিয়েছে

জুম্ম  ব্লগার এন্ড অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম আজ ১১ ফে্রুয়ারি বিকালে ঢাকার শাহবাগের সমাবেশে যোগ দিয়েছে।

’জয় বাংলা’ শ্লোগান দেশের ভিন্ন জাতিসত্তার জনগণের আকাঙ্খা ধারণ করে না



বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ জাতিগতভাবে নিজেদের ‘বাঙালী’ বলেই পরিচয় দিয়ে থাকে। কিন্তু দেশের মধ্যে অন্য জাতিসত্তার জনগনও রয়েছে। তাদের অবস্থানের ইতিহাস স্মরণাতীতকাল ধরে। ১৬ কোটি জনসমষ্টির তুলনায় হয়তো এই ভিন্ন জাতি বা ভাষা-ভাষী জনগনের সংখ্যা এক শতাংশরও কম। কিন্তু তারপরও তাদের অস্তিত্ব যে রয়েছে তা কেউ অস্বীকার করতে পারে না। এবং দেশ নির্মানে এই ক্ষুদ্র জনসমষ্টির ভূমিকা বেশী বই কম নয়।
আমার আজকের এই লেখায় অবতারনা করার আগে আমাকে উক্ত কথাগুলো বলতে হলো। এবার প্রসঙ্গে আসি, শাহবাগের লড়াই বা অন্য যে কোন লড়াইয়ে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগন বা জাতির পাশাপাশি অন্য জাতিসত্তার জনগনও সবসময় একীভূত হবার চেষ্টা করেছে।
শাহবাগের লড়াইয়েও তারা সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এই লড়াইয়ের শ্লোগানের সবগুলোতে কন্ঠ মেলালেও যখনই ‘জয় বাংলা’ বা ‘তুমি কে, আমি কে – বাঙালী, বাঙালী’ বলা হয়েছে তখনই তারা এই শ্লোগানের সাথে একাত্ম হতে পারেনি। কারণ তাদের ভিন্ন জাতিসত্তার অস্তিত্বের চেতনাবোধের জন্য।
এই শ্লোগান দেয়ায় ভিন্ন জাতিসত্তার জনগণের আপত্তি থাকলেই য়ে তা বন্ধ করার আহ্বান জানানো সমীচীন হবে তা মানার মতো কথা নয় হয়তো। একটি বৃহৎ জাতি তার জাতিচেতনাকে লালন করবে সেটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু এই শ্লোগানের আড়ালে যখন থাকে ‘ছদ্ম জাত্যাবিমান’, যখন থাকে ‘জাতি বিদ্বেষ’ তখন কিন্তু এই শ্লোগানকে নিছক সাদামাঠা শ্লোগান হিসেবে ভাবা যায়না, ভাবা সম্ভব বা সমীচীনও নয়।
আমরা দেখেছি ১৯৭১ সালের পর শেখ মুজিব যখন রাঙামাটিতে নির্বাচনী ভাষণ দিতে যান তখন তিনি পার্বত্য জুম্ম জনগণকে ‘বাঙালিী জাতিতে প্রমোশন’ দিয়ে দেবার কথা ঘোষণা করেছিলেন। এই ঘোষণার কারনেই পার্বত্য জনগণ সশস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমে জাতিসত্তার অধিকার আদায়ের কথা চিন্তা করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
স্বাধীনতার পরে ১৯৭২ সালে প্রণীত দেশ পরিচালানর মূলনীতি সংবিধানে ক্ষুদ্র জাতিসমূহের কথা লেখা হয়নি। গত ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণকে জাতি হিসেবে বাঙালী বলা হয়েছে। সংবিধানের প্রথম ভাগের ‘প্রজাতন্ত্র’ অংশে লেখা রয়েছে,’ (২) বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালি এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন।’। এই সংবিধানের মাধ্যমে অন্য জাতির অস্তিত্বের কথা পুরোদস্তুর অস্বীকার করা হলো, অথবা অন্য জাতির জনগণকে বানানো হলো কার্যত দ্বিতীয়/তৃতীয় শ্রেনীর নাগরিক হিসেবে।
আজ এই ফ্যাসিস্ট সংবিধান নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য কেউ করছেনা। উপরন্তু নতুন যে লড়াই নতুন প্রজন্ম শুর করেছে সেখানেও আমরা দেখছি এই ‘জয় বাংলা’ বা তুমি কে, আমি কে-বাঙালী, বাঙালী’ শ্লোগান।
এই শ্লোগান যদি কোনো চরম জাতীয়তাবাদীরা দিতো তবে কোনো রা ছিলো না। কিন্তু এখন এই শ্লোগান দিচ্ছে ‘প্রগতিশীল’ ‘গণতান্ত্রিক’ নামাঙ্কিত সংগঠন বা চেতনার ব্যক্তি বা সমষ্টি।
তাদেরই একজনের একটি লেখায় আমি মন্তব্য করতে বাধ্য হয়েছি, “যখন আমরা দুনিয়ার মজদুর বলি তখন আমরা একটি ভাবাদর্শকে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। জয় বাংলা কোন ভাবাদর্শকে প্রতিষ্ঠা করবে? ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিলের ঘোষণাকে? ১৭ এপ্রিলের ঘোষণায় দেশের অন্য জাতিসত্তার জনগনের কথা নেই।”
যার বক্তব্যের সূত্র ধরে এই মন্তব্য করেছি তার লেখার সূত্র নিচে
‘জয় বাংলা’- বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় অর্জিত একটা রাজনৈতিক স্লোগান
লেখককে আমি চিনি একজন প্রগতিবাদী হিসেবে।আমি জানি তাদের সংগঠন বা তারা লালন করেন মার্ক্সীয় আন্তর্জাতিকতাবাদী মতাদর্শ। তাই তাদের এই ‘জয় বাংলা’ প্রীতি এবং ‘বাঙালী’ত্বের প্রতি মমতাবোধ এবং তাকে একটি রাজনৈতিক শ্লোগান হিসেবে ধারণ করাটাকে আমার কাছে মনে হয়েছে স্ববিরোধিতা।
এখানে একটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষন না করলেই নয়। লেখক তার লেখায় এই ‘জয় বাংলা’ শব্দটির পক্ষে যুক্ত তুলে ধরার ক্ষেত্রে কিছু শব্দ, শব্দসমষ্টি বা বাক্যাংশ জোর দিয়ে ব্যবহার করেছেন। যেমন, ‘জয় বাংলা’- বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় অর্জিত একটা রাজনৈতিক স্লোগান,
একটা রাজনৈতিক ঘোষণা । একটা রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারাবাহিকতা। একটা রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা । একটা রাজনৈতিক দাবি। মুক্তিসংগ্রামে বাংলাদেশের মানুষের জয়ের আশাবাদ।
কিন্তু এই শ্লোগানের স্বপক্ষে কোনো জোরালো যুক্তি হিসেবে এই বাক্যাংশ বা শব্দসমষ্টিকে অভিহিত করা যায় না। কেননা এই ‘রাজনৈতিক দাবি’ আসলে কী দাবি, বা ‘জয়ের আশাবাদ’ মানে কী জয়ের আশা? বা ‘রাজনৈতিক আকাঙ্খা’ মানে এই ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানের মা্ধ্যমে কী বোঝায় তা কিন্তু এই শব্দসমষ্টিতে স্পষ্ট হয় না।
এ বিষয়ে এখানে রাজনৈতিক-মতাদর্শিক বিতর্কের অবতাড়না করে লেখাটিকে ভারাক্রান্ত করার ইচ্ছে নেই। তবে পার্বত্য জনগণ এবং বাংলাদেশের অন্য জাতিসত্তার বা অন্য ভাষা-ভাষী জনগণ এই শ্লোগানের্ প্রতি একটু্ও একাত্মতাবোধ জানানোর পক্ষে থাকতে পারছে না বলেই এত লম্বা একটি লেখার অবতাড়না এখানে করতে হলো।
এই শ্লোগান ভিন্ন জাতিসত্তার জনগণের আকাঙ্খাকে ধারন করে না। এই শ্লোগানের অন্তর্নিহিত যে ভাবার্থ রয়েছে সেই দিকটিকেই বরং আমাদের মত ছোট জাতি সমূহকে বেশী ভাবাচ্ছে।


সর্বমোট ৭টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. লেখক বলেছেন: 1
    পারভেজ আলম নামে আমার এক ফেসবুক বন্ধু জয় বাংলা বা তুমি কে আমি কে-বাঙালী, বাঙালী শ্লোগান বিষয়ে আলোচনা তুলে যে স্ট্যাটাস দিয়েছেন আমি তার চু্ম্বক অংশ তুলে ধরছি,
    আমি এটা একজন ব্লগার হিসাবেই বিবেচনা করছি। আমরা এদেশের ব্লগাররা গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতার নৈতিক জোড়ে এতোদুর এসেছি। আমরা চাই গণতন্ত্রের সুস্থ্য চর্চাই এদেশে চলুক। আমরা চাই এই আন্দোলনের পরে যাতে এদেশের রাজনৈতিক দলগুলো আর অপরাজনৈতিক এবং অগণতান্ত্রিক চর্চায় ফিরে না যায়। আমরা চাই দেশের প্রত্যেকটা মানুষ এই আন্দোলন ধারন করুক, এবং তাতে সরিক হন। জামাত ছাড়া, জামাতের প্রশ্নই অবশ্য এখানে অবান্তর। এখন আমরা যদি এই আন্দোলনের সমর্থক সকল বাংলাদশের নাগরিক ধারণ না করতে পারি তবে সেটা গণতন্ত্রের প্রতি একটি অশ্রদ্ধা হবে বলে আমি মনে করি। আমরা চাই সমতল অথবা পাহাড়ের প্রতিটা ভাষা জাতির বাংলাদেশী নাগরিক যেনো এই আন্দোলনে সরিক হতে গিয়ে অস্বস্তিতে না পরেন।
    তার এই স্ট্যাটাসে লাইক দিয়ে আমি যা লিখেছি তা নিচে তুলে ধরলাম,
    কোনো শ্লোগানেই আমার বা আমাদের আপত্তি নেই বা থাকার কথা নয়। এমনকি ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানেও না। তবে তার অন্তর্নিহিত ভাবটা যখন তাড়া করে তখন কিন্তু আমাদেরকে ভাবায়। আমরা স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবের ‘তোমরা বাঙালী হয়ে যাও’ এই বক্তব্য দেয়া থেকে, ১৯৭২ সালে সংবিধানে অন্য জাতিসত্তার জনগণকে স্বীর্কতি না দেয়া এবং সর্বশেষ গত ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে বাংলাদেশের জনগণকে ‘জাতি হিসেবে বাঙালী’ বানানোর মাধ্যমে অন্য জাতিসত্তার স্বকীয় অস্তিত্বের স্বীকৃতিকে দ্বিতীয় শ্রেনীর কাতারে নিয়ে আসার মাধ্যমে আমরা এটাই ভাবতে বাধ্য হই যে আমরা কতটা জাতিগত বৈষম্যের মাঝে আজ রয়েছি।
    জয় বাংলা অবশ্যই থাকতে পারে কিন্তু তার ব্যবহার বা তার লক্ষ্যটি যদি রাজনৈতিকভাবে ‘জাত্যাভিমান’ বা ‘জাতি বিদ্বেষ’ বা ‘অন্য জাতির অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দিতে অবহেলা’ তবে তাতেই আমাদের মধ্যে আপত্তি।
    Replyজবাব দিন
  2. এস দেওয়ান বলেছেন: 2
    অবশ্যই ”জয় বাংলা” বাংলার সকল জাতিসত্তার আকাঙ্খা ধারণ করে । ”জয় বাংলা” এই ভূখণ্ডের জয়ধ্বনি, কোনও নির্দিষ্ট জাতির জয়ধ্বনি নয় । আপনার লেখাতে যুক্তি থাকতো যদি স্লোগানটি এমন হতো- ”জয় বাঙালি” এরকম হলে আমি আপনার সাথে একমত হতাম । শুধু তাই নয়, আপনার আগে আমি আপনার মতো একটি পোস্ট লিখে ফেলতাম ।
    বাংলার জয় বাংলায় বসবাসকারী সকল জনজাতির জয় ।
    Replyজবাব দিন
  3. এস দেওয়ান বলেছেন: 3
    আপনার পুরো লেখাটি না পড়েই আমি প্রথম মন্তব্যটি করে ফেলেছিলাম । বাংলাদেশে বাঙালি শব্দটি সর্ব ক্ষেত্রে ব্যবহার হওয়ার পেছনে কারণ হলো এই দেশে বাঙালিরা অতি মাত্রায় সংখ্যাগরিষ্ঠ । তাই এই ধরণের সমস্যা হচ্ছে । যেমন তুমি কে? আমি কে ? বাঙালি, বাঙালি । আমি মনে আমাদের দেশের মানুষের অন্যান্য জাতি গোষ্ঠির আবেগের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিৎ । বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে আমাদের বাংলাদেশি শব্দ ব্যবহার করা উচিৎ । আপনি এই ব্যাপারটা একটু বেশি করে লিখে যান । পোস্টির জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।
    Replyজবাব দিন
    • লেখক বলেছেন: 3.1
      ডিয়ার এস দেওয়ান,
      আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
      এছাড়া বেশি করে লিখে যাবার কথা বলার জন্যও ধন্যবাদ।
      Replyজবাব দিন
  4. বাংগাল বলেছেন: 4
    জয় বাংলা স্লোগান জন্ম হয়েছিল পরাধীনতার নাগপাশ থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করার অকাঙ্গ্খা নিয়ে ,সেই অকাঙ্গ্খার সাথে অন্য কোনও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর আকাঙ্গ্খার সম্মিলন তো ছিলোইনা উপরন্তু বাঙালি জাতির স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ইতিহাস পাহাড়ের আঁকে বাঁকে খাবি খেয়েছিল।
    “জয় বাংলা অবশ্যই থাকতে পারে”….. এই নিশ্চয়তার প্রয়োজন কারো কৃপার উপর নির্ভর করেনা। রাজনৈতিকভাবে ‘জাত্যাভিমান’ বা ‘জাতি বিদ্বেষ’ বা ‘অন্য জাতির অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দিতে অবহেলা’ এসব চিন্তা করে জয়বাংলা স্লোগান জন্ম নেয়নি । ক্লিয়ার ?
    কেউ হীনমন্যতায় ভুগতে চাইলে তা তাদের নিজ দ্বায়িত্বে ।
    জয় বাংলা !!!! এবং অবশ্যই জয় বাংলা !!!!………বিকল্প ভাবাই যাবেনা ।
    Replyজবাব দিন
  5. আমি বাংগাল এর সাথে একমত।
    সাথে আবারও বলছি জয় বাংলা হল বাংলার জয়-বাঙালির নয়।
    একটা বিষয় ভুলে গেলে চলবে না। এ ভূখণ্ড সব সময় বাংলা নামেই পরিচিত ছিল।
    আমার সোনার বাংলা আর জয় বাংলা ভিন্ন অর্থে একই ধরণের ব্যবহার।
    Replyজবাব দিন
  6. লেখক বলেছেন: 6
    ডিয়ার বাংগাল এবং প্রিয় মোত্তালিব দরবারী,
    আমার পুরো লেখাটি পড়ে মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ করছি।
    ডিয়ার বাংগাল, আপনার এই নিচের উদ্ধৃতিটি দিচ্ছি,
    “উপরন্তু বাঙালি জাতির স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ইতিহাস পাহাড়ের আঁকে বাঁকে খাবি খেয়েছিল।”
    আপনার কথার জবাবে আমার বলার তেমন নেই। তবে আপনার কথাতেই বোঝা যায় যে আপনাদের মতো যারা এই ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানের মর্মার্থ করে নেন অন্য জাতিকে স্বীকার না করার এবং যারা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধকে “স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ইতিহাস পাহাড়ের আঁকে বাঁকে খাবি খেয়েছিল” বলে ইতিহাসের রেখাপাতের কৃপাণ ঘোরান তাদের সাথে আমার মতো অধমের পক্ষে লেখা-বিতর্কে জড়ানোর চেয়ে না জড়ানোই উত্তম বলে বোধ হয়।
    এই “জয় বাংলা” শ্লোগান আপনার কথামতে, “নিশ্চয়তার প্রয়োজন কারো কৃপার উপর নির্ভর করেনা।” এটা খাটি সত্য। তবে এটাও সত্য যে যে জাতি অন্যকে কৃপা করে না সে জাতির কিন্তু মুক্তি নেই।
    আপনার কথামতে, “কেউ হীনমন্যতায় ভুগতে চাইলে তা তাদের নিজ দ্বায়িত্বে ।”এই ‘নিজেদের দায়িত্বে’র কথাটি যতদিন ‘আমাদের সবার দায়িত্বে’র দ্বারা প্রতিস্থাপন হবে না ততদিন আশা করছি আমরা অধিকার বঞ্চিতই্ হয়ে থাকবো।
    এখানে একটা কথা বলি হীনম্মন্যতা কমপ্লেক্স এর কথা ভেবে আমি আমার লেখাটি লিখিনি। বরং উদারতার দৃষ্টিকোণ থেকে যাতে এই বক্তব্য বা মতামতকে দেখা হয় তারই জন্য এই কথাগুলো বলা।

প্রসঙ্গ শাহবাগ জাগরণ:কয়েকজনকে ফাঁসিতে লটকিয়ে দিতে পারলেই কাজ শেষ, এবার সুবোধ হবার পালা!

কয়েকজনকে ফাঁসিতে লটকিয়ে দিতে পারলেই কাজ শেষ, এবার সুবোধ হবার পালা!

এক একটি সংগ্রাম এবং বিপ্লবে যা বদলে গিয়েছে তা হচ্ছে চেতনা বা দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন।
আমেরিকায় যখন স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয়েছিল, যখন দাসপ্রথার বিরুদ্ধে লড়াই চলছিল তখন বিপ্লবী বা সংগ্রামীদের চেতনায় ছিল মানুষ পশু হতে পারে না। তাদেরও মানুষই বিবেচনা করতে হবে। বিপ্লব সফল হবার পরে চেতনার পরিবর্তন ঘটেছিল।
ফ্রান্সে সামন্তীয় রাজঅধিপতিদরে নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঘোষণা উচ্চারিত হযেছিল ‘সাম্য- মৈত্রী- স্বাধীনতার’ বাণী। বিপ্লব সফল হবার পরে জনগণের চেতনায় এনেছিল বৈপ্লবিক পরিবর্তন। সেই সাম্য-মৈত্রী-স্বাধীনতার চেতনার নিশান এখনো পতপত করে উড়ছে।
মার্ক্স এবং এঙ্গেলস যখন ‘পুঁজি’ এবং ‘কমিউনিস্ট মেনিফেস্টো’ তুলে ধরেন তখন এই ।ভুগোলে এসেছিল শ্রেনী-সংগামের চেতনা। সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং চীনে সেই শ্রেনীচেতনার উচ্ছ্বাস-উৎসাহে শ্রমিকশ্রেনী দখল করেছিল রাষ্ট্রদন্ড।
আমাদের এই ভূখন্ডে যখন জন-জাগরণ দেখা দেয়, যখন জেগে ওঠে সংগ্রাম তখন সেই চেতনা-দৃষ্টিভঙ্গী কোন দিক বা কোন বিষয়বস্তুকে উপজীব্য করে দেখা দেয়? ১৯৭১ সালে ‘দেশাত্মবোধের জাগরণ’?, ১৯৯০ সালে ‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জন-জাগরণ’?
চেতনায় কী পরিবর্তন এনেছে? কী পরিবর্তিত হয়েছে? এই চেতনা কি আন্দোলনে রূপ নিয়ে সর্বব্যাপী হয়েছে? নাকি তার গতি এক অবরুদ্ধ বোধের কাছে বাধা পেয়ে নিঃসার চেতনা হয়ে গিয়েছে?
চেতনা বা দৃষ্টিভঙ্গী বদলই তো বিপ্লব। সেই বিপ্লব বা সংগাম এখনো তো আলোর নিকটে আসেনি!
তারপরও আমরা আশাবাদী। এবং এবারে যা শুরু হয়েছে ব্লগার এবং অনলাইন একটিভিস্টের একনিষ্ঠ প্রচেষ্টায় তা কি আমরা দৃষ্টিভঙ্গী বা চেতনার আমূল পরিবর্তনের এক বিপ্লবী লড়াইয়ে রূপ দিতে পারবো? নাকি … ।
এই লড়াই কি এমন এক ইশতেহার উপহার দেবে যা দেশের সকল জাতি এবং জনগণের মধ্যে শিহরণ জাগাবে? যা কোটি মানুষের মনের মধ্যে এনে দেবে আত্মবিশ্বাস-একতা-ভ্রাতৃত্ব-সহমর্মিতা-পরষ্পর সহভাগিতা? যা মানুষকে জাগাবে তার নিঃসার চেতনা থেকে?
এই লড়াইকে এতই ঠুনকো ভাবতে অনুরোধ করবো না যারা ভাবছে এক ‘কাদেরের ফাঁসি’ এবং কয়েকজনকে ফাঁসিতে লটকিয়ে দিতে পারলেই কাজ শেষ। এবার সুবোধ বালক হবার পালা!
চেতনা বা দৃষ্টিভঙ্গীর আমূল বদল ব্যতীত এই লড়াইয়ে ইতি টানা মানেই মনুষ্যত্ব-মানবিকতা-দায়িত্ব-কর্তব্যবোধকে চোরাগলিতে নিক্ষেপ করা।
এই সময়ে এমন ঘোষনা বা ম্যানিফেস্টো ইফেকটিভলি শক্তিশালীভাবে আশা প্রয়োজন য়েখানে সকল জাতি ও জনগণের প্রকৃত মুক্তির কথা থাকবে এবং তা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করবে, এবং তা এতই বেশী ইফেকটিভলি হবে যা থেকে জন্ম নেবে জন-জাগরণ, জাগরনী চেতনা।
অতএব, বাঁধ ভেঙে দেবার এখনই সময়! উদাত্ত আহ্বান সকলের প্রতি, বাঁধ ভেঙে দাও, বাঁধ ভেঙে দাও, বাঁধ ভেঙে দাও …..

Wednesday, February 6, 2013

চেতনা বা দৃষ্টিভঙ্গী বদলই তো বিপ্লব। সেই বিপ্লব বা সংগাম এখনো তো আলোর নিকটে আসেনি!

এক একটি সংগ্রাম এবং বিপ্লবে যা বদলে গিয়েছে তা  হচ্ছে চেতনা বা দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন। 

আমেরিকায় যখন স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয়েছিল, যখন দাসপ্রথার বিরুদ্ধে লড়াই চলছিল তখন বিপ্লবী বা সংগ্রামীদের চেতনায় ছিল মানুষ পশু হতে পারে না। তাদেরও মানুষই বিবেচনা করতে  হবে। বিপ্লব সফল হবার পরে চেতনার পরিবর্তন ঘটেছিল।
ফ্রান্সে সামন্তীয় রাজঅধিপতিদরে নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঘোষণা উচ্চারিত হযেছিল 'সাম্য- মৈত্রী- স্বাধীনতার' বাণী। বিপ্লব সফল হবার পরে জনগণের চেতনায় এনেছিল বৈপ্লবিক পরিবর্তন। সেই সাম্য-মৈত্রী-স্বাধীনতার চেতনার নিশান এখনো পতপত করে উড়ছে।

মার্ক্স এবং এঙ্গেলস যখন 'পুঁজি' এবং 'কমিউনিস্ট মেনিফেস্টো' তুলে ধরেন তখন এই ।ভুগোলে এসেছিল শ্রেনী-সংগামের চেতনা। সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং চীনে সেই শ্রেনীচেতনার উচ্ছ্বাস-উৎসাহে শ্রমিকশ্রেনী দখল করেছিল রাষ্ট্রদন্ড।

আমাদের এই ভূখন্ডে যখন জন-জাগরণ দেখা দেয়, যখন জেগে ওঠে সংগ্রাম তখন সেই চেতনা-দৃষ্টিভঙ্গী কোন দিক বা কোন বিষয়বস্তুকে উপজীব্য করে দেখা দেয়? ১৯৭১ সালে 'দেশাত্মবোধের জাগরণ'?, ১৯৯০ সালে 'স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জন-জাগরণ'?
চেতনায় কী পরিবর্তন এনেছে? কী পরিবর্তিত হয়েছে? এই চেতনা কি আন্দোলনে রূপ নিয়ে সর্বব্যাপী হয়েছে? নাকি তার গতি এক অবরুদ্ধ বোধের কাছে বাধা পেয়ে নিঃসার চেতনা হয়ে গিয়েছে?

চেতনা বা দৃষ্টিভঙ্গী বদলই তো বিপ্লব। সেই বিপ্লব বা সংগাম এখনো তো আলোর নিকটে আসেনি!

তারপরও আমরা আশাবাদী। এবং এবারে যা শুরু হয়েছে ব্লগার এবং অনলাইন একটিভিস্টের একনিষ্ঠ প্রচেষ্টায় তা কি আমরা দৃষ্টিভঙ্গী বা চেতনার আমূল পরিবর্তনের এক বিপ্লবী লড়াইয়ে  রূপ দিতে পারবো? নাকি ... ।

এই লড়াই কি এমন এক ইশতেহার উপহার দেবে যা দেশের সকল জাতি এবং জনগণের মধ্যে শিহরণ জাগাবে? যা কোটি মানুষের মনের মধ্যে এনে দেবে আত্মবিশ্বাস-একতা-ভ্রাতৃত্ব-সহমর্মিতা-পরষ্পর সহভাগিতা? যা মানুষকে জাগাবে তার নিঃসার চেতনা থেকে?

এই লড়াইকে এতই ঠুনকো ভাবতে অনুরোধ করবো না যারা ভাবছে এক 'কাদেরের ফাঁসি' এবং কয়েকজনকে ফাঁসিতে লটকিয়ে দিতে পারলেই কাজ শেষ। এবার সুবোধ বালক হবার পালা!
চেতনা বা দৃষ্টিভঙ্গীর আমূল বদল ব্যতীত এই লড়াইয়ে ইতি টানা মানেই মনুষ্যত্ব-মানবিকতা-দায়িত্ব-কর্তব্যবোধকে  চোরাগলিতে নিক্ষেপ করা।

এই সময়ে এমন ঘোষনা বা ম্যানিফেস্টো ইফেকটিভলি শক্তিশালীভাবে আশা প্রয়োজন য়েখানে সকল জাতি ও জনগণের প্রকৃত মুক্তির কথা থাকবে এবং তা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করবে, এবং তা এতই বেশী ইফেকটিভলি হবে যা থেকে জন্ম নেবে জন-জাগরণ, জাগরনী চেতনা।

অতএব, বাঁধ ভেঙে দেবার এখনই সময়! উদাত্ত আহ্বান সকলের প্রতি, বাঁধ ভেঙে দাও, বাঁধ ভেঙে দাও, বাঁধ ভেঙে দাও .....