Monday, November 11, 2013

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ধামকি হুমকিতে পার্বত্য জনগণ দুর্দমনীয় অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ধামকি হুমকিতে পার্বত্য জনগণ দুর্দমনীয় অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে!


অবরোধ বয়কটের জবাবে আপনার হুমকি ধামকির ভয়ে আমরা ভীত নই


শুরু...


আজকাল পার্বত্য ইস্যু নিয়ে কমই লিখতে যেন মনেহয়!


কী যে হয়েছে বুঝি না! আজকাল পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা নিয়ে বা পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কিত ইস্যু নিয়ে একটু কমই লিখতে যেন ইচ্ছে হয়!

কিন্তু সামনে এমন এমন ইস্যু এসে হাজির হয় যে কথা না বলে থাকাও সম্ভব যেন হয় না! মনেহয় নিজের মতামত বা দৃষ্টিভঙ্গি যেন না বললে পেটের ভাত হজম হয় না!

কয়েকদিন ধরেই ভাবছি তেমন আর লিখবো না বা ফেসবুক ব্লগেও তেমন মন্তব্য বা খুবই কম মন্তব্য করবো না। কিন্তু সেই মন্তব্য তেমন না করার দিনটি যেন কাছে আসছে না!

নানা সাতপাঁচ কথা ভেবে নেটে বসলাম। এবং হিলবিডি২৪.কম ভিজিট করলাম। দেখলাম রাঙামাটির রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সরোয়ার হোসেন পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তির স্থায়িত্ব ধরে রাখতে সম্মিলিতভাবে চাঁদাবাজ সহ সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করতে আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খাগড়াছড়িতে সফরে গিয়ে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামের জনসভায় অনেক কথার মধ্যে চোখেমুখে ক্রোধ এনে বলেছেন, যারা সমাবেশে আসতে বাধা দিয়েছে অর্থাৎ যারা আজ(১১ নভেম্বর, ২০১৩) অবরোধ করেছে তারা "কতটুকু শক্তিশালী তাও দেখে নেবেন'। (সূত্র: এনটিভি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার খবর)


বেশি উদ্ধৃতি বা কথা বলার বোধহয় দরকার নেই। এই দু'টি উদ্ধৃতিই বুঝিয়ে দেয় দেশের শাসকশ্রেনী বা প্রশাসক রাজনৈতিক গোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামকে কী চোখে দেখতে চায় বা দেখে।

তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে দমন নিপীড়ন এবং শোষন শাসনই মাত্র করতে চায়।

একজন সামরিক কমান্ডার পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়মিত জনসংশ্লিষ্ট কাজের সাথে নিবিড় থেকে বোঝাতে চান যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম সেনা শাসনের মধ্যেই থাকবে, এবং সেনাবাহিনী যা-ই বলবে তাই পার্বত্য চট্টগ্রামকে শাসনের মূল ভিত্তি হবে।


আর অন্যদিকে শাসনক্ষমতার সর্বোচ্চ পদাধিকারী হয়ে আরেকজন গণতন্ত্রের তোয়াক্কাকে প্রাধান্য না দিয়ে দেশের মধ্যে সবচেয়ে নিপীড়িত একটি অংশকে বা তার প্রতিনিধিত্বস্থানীয় সংগঠন বা সমষ্টিকে সোজা কথায় 'হুমকি' দেবেন। এবং তাই-ই হবে শিরোধার্য।

আর কথা বাড়াবার অবকাশ দেখি না।

এখানে স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করবো, চেতনার নিশান যতদিন উর্দ্ধে থাকবে, যতদিন অধিকারের আকাঙ্খা জ্বলজ্বল করতে থাকবে এবং যতদিন নিপীড়িত জনগণের প্রতিরোধস্পৃহার বিনাশ না হবে ততদিন এই 'অন্যায় অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী একনায়কসুলভ দমন নিপীড়নমূলক' শাসকশ্রেনী বা গোষ্ঠী বা ক্ষমতামদমত্তগোষ্ঠীর এই লাফঝাঁপ দৌড়ঝাঁপ ধামকি হুমকি শাসানোর  পাল্টা জবাব দিতে পার্বত্য জনগণ প্রস্তুত থাকবে।


মাননীয় প্রধামন্ত্রী আপনি কীসের গণতন্ত্রের কথা বলেন? একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠনের এতটুকুন অবরোধ বয়কট আপনি সহ্য করতে পারেন না! ?

আপনি হুমকি দিয়েছেন, শাসিয়েছেন?!

ধামকি দিয়েছেন?

এবং গণতন্ত্র শেখাচ্ছেন?!

 পরমত সহিঞ্চতা শেখাচ্ছেন?!

গণতান্ত্রিক অধিকার শেখাচ্ছেন?!

আপনি ক্ষমতায়  আছেন এবং তা পারেন। কিন্তু মনে রাখবেন, নিপীড়িত জনগণকে শাসন করা যেমন সোজা বলে মনেহয়, তারা যখন ফুঁসে উঠবে (তারা সংখ্যায় তেমন তো বেশি নয়! ১৬কোটি মানেুষের দেশে মাত্র কয়েক লাখ!) তখন দেখবেন জনরোষ জনউত্থান কাকে বলে।


অনুরোধ জানাবো এবং বিনীতভাবে অনুরোধ করবো, হুমকি দেবেন না। ধামকি দেবেন না।

এবং অনুরোধ করবো, খাগড়াছড়ির সমাবেশে যা  বলেছেন তা যেন প্রত্যাহার করে নেন। পার্বত্য জনগণ যত হুমকি ধামকির সম্মুখীন হয়, ততো তারা যেন দুর্দমনীয় অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে এটা মনে রাখবেন। বরং নরমভাবে কথা বলুন, তাতে কাজ হবে!


আর যদি হুমকি দেও বা 'দেখে নেবো' শাসান বা ধামকি দেনও তবে চ্যালেঞ্জ রইল। মনে রাখবেন আমরা দুর্বল নই এবং ভীতও নই


(আমি দুর্বল হতে পারি। আমি ভয়ে ভীত হতে পারি বা থতমত হতবিহ্বল হতে পারি। কিন্তু চেতনার নিশান, প্রতিরোধের বীণা বাজবে, প্রতিরোধের বজ্র ভয়ংকর হবে। চ্যালেঞ্জ রইল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! চ্যালেঞ্জ রইল! চ্যালেঞ্জ রইল...)

এবং এই লেখা লেখার পরে অনেকদিন লেখা লিখবো না বলে ভাবছি...

(বিনীত অনুরোধ- লাইক পাবার জন্য এই লেখা লিখছি না। যারা পড়বেন তারা শুধু পড়বেন এবং লেখাটির গভীরতা মর্মে নেবার চেষ্টা করবেন মাত্র। ধন্যবাদ)


দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার-

লঙ্ঘিতে হবে রাত্রী নিশীথে যাত্রীরা হুঁশিয়ার! যাত্রীরা হুঁশিয়ার!


মিঠুন চাকমা

Sunday, November 10, 2013

ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সৃষ্টিকারী মার্ক জুকারবার্গ ও তার জীবনবোধ

 মার্ক জুকারবার্গ। পুরো নাম মার্ক এলিয়ট জুকারবার্গ(Mark Elliot Zuckerberg)। জন্মেছিলেন আমেরিকা বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।বর্তমানে তিনি বিশ্বে বহুলভাবে পরিচিতদের মাঝে একটি অন্যতম নাম। তিনি ইন্টারনেটের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের(Facebook.com) প্রতিষ্ঠাতা। তার বয়স তেমন বেশি নয়। জন্মেছিলেন ১৯৮৪ সালের ১৪ মে। ২০১৩ সালের শেষে এসে তার বয়স মাত্র ২৮ বছর(+)।
তিনি ২০১৩ সালের এপ্রিলে ফেসবুক কোম্পানীর চেয়ারপারসন এবং প্রধান কার্যনির্বাহী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। সেপ্টেম্বর ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রাপ্ত হিসাবমতে তার সম্পদের পরিমাণ এখন ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।( সূত্র: উইকিপিডিয়া)। 

বর্তমানে বিশ্বে ফেসবুক ব্যবহারকারী ১২০ কোটির উপরে। ইন্টারনেটের আর কোনো সামাজিক মাধ্যম এত মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। অথচ, এই  ফেসবুকের যখন প্রথম শুরু হয়েছিল তখন শুধুমাত্র সীমাবদ্ধ ছিলো হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি কেন্দ্রীক। তখন হার্ভাডের ছাত্র-ছাত্রীরাই শুধু এটির ব্যবহার করতেন। প্রথমদিকে নাম ছিলো "দ্য ফটো এড্রেস বুক"। এটি ছিলো অনেকটা 'স্টুডেন্টস ডাইরেক্টরি'র মতো।এতে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের নাম, ফোন নাম্বার, তাদের বন্ধুদের নাম, পাঠরত বিভাগের নাম ইত্যাদি লিখে রাখতে পারতেন।

ছাত্র-ছাত্রীরা এর নাম রেখেছিলো 'দ্য ফেসবুক'।এবং পরে 'দ্য' বাদ দিয়ে এর নাম হয়ে যায় "ফেসবুক"।

সময়টা ছিলো ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। হার্ভাডের এক ডরমিটরীতে তিনি প্রথম ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করেন। পরে যখন ফেসবুক অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝেও ছড়িয়ে দেয়া হয় তখন ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আলটোতে ফেসবুকের অফিস স্থানান্তর করা হয়।
এবং তারপর থেকে ফেসবুকের ইতিহাস বিজেতার ইতিহাস, স্রাফল্যযুক্ত ধাবমানতার ইতিহাস! এ যেন আসলাম, দেখলাম, জয় করলাম এমন একটি ভাব!

২০০৭ মালের মধ্যে জুকারবার্গ আর্থিক বিত্তের পরিমাপে পরিগণিত হয়ে যান "বিলিয়নেয়ারে"। 
২০১০ সালে টাইম ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে তিনি বিশ্বের প্রভাবশালী এবং অর্থবিত্তসম্পন্ন ১০০ জনের মধ্যে নিজের স্থান করে নেন। 
দ্য জেরুজালেম পোস্টের দৃষ্টিতে তিনি ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ এখন পর্যন্ত অভিহিত হয়েছেন - Most Influential Jews in the World হিসেবে। 

না, আমি আজ জুকারবার্গের জীবনী নিয়ে বা তার সাফল্য নিয়ে কথা বলতে বসিনি। কিন্তু তার জীবনের উত্থান বিষয়ে না বললে যেন তাকে নিয়ে কথা শুরু করা যায় না। তাই এত কথা বলা...

আমি আজ জুকারবার্গের জীবন দর্শন নিয়ে কিছু কথা শেয়ার করতে চাইছি।  

বিশ্বকে অবাধ ও উন্মুক্ত করার আকাঙ্খা

 ২০১২ সালেন ফেব্রুয়ারি প্রদত্ত এক বার্তায় তিনি বলেন-
Facebook was not originally created to be a company. It was built to accomplish a social mission — to make the world more open and connected.

অর্থাৎ, তিনি বলতে চেয়েছেন, ফেসবুক আদি থেকে কোম্পানী হিসেবে সৃষ্টি হবার জন্য গঠিত হয়নি। একটি সামাজিক লক্ষ্য উদ্দেশ্যকে কাজে প্রতিফলিত করার জন্যই তাকে গঠন করা হয়েছিলো।  এবং এই লক্ষ্য হচ্ছে, পৃথিবী বা বিশ্বকে আরো অবাধ উন্মুক্ত করা ও কানেক্টেড বা পারষ্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করা।

২০১০ সালে Wired নামক ম্যাগাজিনে প্রদত্ত এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন-
The thing I really care about is the mission, making the world open
তিনি আরো বলছেন, বিশ্বের প্রত্যেকজনকে যোগাযোগের মধ্যে বা পারষ্পরিক কাছাকাছি নিয়ে আসার একটি সম্ভাবনা এবং সৃষ্টি হয়েছে এবং তার প্রয়োজনও অপরিসীম। সমাজকে ভবিষ্যতের জন্য রূপান্তর করতে এবং প্রত্যেকের কন্ঠ বা ভাব প্রকাশের সুযোগ উপস্থিত হয়েছে। 

মিশন বা লক্ষ্য অনেক বৃহৎ, কিন্তু তার শুরুর পদক্ষেপ ছোট
তিনি তার বার্তা বা চিঠিতে বলেছেন-
Even if our mission sounds big, it starts small — with the relationship between two people.
অর্থাৎ, যদিও লক্ষ্যকে অনেক বৃহৎ বলে প্রতীয়মান হয়, কিন্তু তার শুরুর পদক্ষেপটা ছোট। দুইজনের মধ্যে পারষ্পরিক যোগাযোগ হতে তার শুরু।

অর্থবিত্ত বানাতে  নয়, ভালো সেবা প্রদানের মাধ্যমে অর্থ আয়ই লক্ষ্য
তিনি বলছেন-
Simply put: we don't build services to make money; we make money to build better services.
ফেসবুক ইন্ক বা ফেসবুক কোম্পানী অবশ্যই একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তা অর্থবিত্ত করার জন্য নয়, বরং ভালো মানের সেবা প্রদানের মাধ্যমে অর্থবিত্ত করাই তার লক্ষ্য। 
তিনি বলছেন- 
 We've always cared primarily about our social mission, the services we're building and the people who use them. 
অর্থাৎ,সামাজিক লক্ষ্য বা মিশনকে প্রাথমিক লক্ষ্য হিসেবে ধরেই সেবার উদযোগ নেয়া হয়।
 ফেসবুক লুটপাটের যন্ত্র যে নয় তা বোঝা যায়! 
 জুকার বার্গের জীবন কাটে সাদামাটাভাবে
Mark Zuckerberg leads a fairly low-key life in California, where he lives with his girlfriend in rented accommodation within walking distance of the Facebook headquarters.

courtesy: the telegraph
মার্ক জুকার বার্গের জীবন কাটে খুবই সাদামাটাভাবে তার জীবন সঙ্গীনির সাথে ক্যালিফোর্নিয়ায় ফেসবুক অফিস থেকে হাঁটা পথের দুরত্বে।

হ্যাকার ওয়ে(Hacker Way)
সাধারন্যে বা গণমাধ্যমে 'হ্যাকার' এর মানে নেতি অর্থে ধরা হয়। এর মানে কম্পিউটার যোগাযোগ ভঙ্গ করা(The word "hacker" has an unfairly negative connotation from being portrayed in the media as people who break into computers.)। 
 কিন্তু জুকার বার্গ 'হ্যাকার ওয়ে' শব্দবন্ধটিকে ইতি অর্থেই ব্যবহারে উদ্যোগ নিচ্ছেন। 
জুকার বার্গের ভাষায়- 
Hackers believe that the best idea and implementation should always win — not the person who is best at lobbying for an idea or the person who manages the most people.

এর মানে করলে দাঁড়ায়, কোনো উত্তম  আইডিয়া বা চিন্তাকে অবশ্যই জিতে আসতে হবে। তা(উত্তম আইডিয়া বা চিন্তা) কারো একার বা কোনো একাধিপত্যকামীর নিয়ন্ত্রনাধীন বা মনমেজাজ বা দয়ার উপর নির্ভরশীল হবে না।

Done is better than perfect


নিখুঁত কাজ প্রয়োজনীয়। কিন্তু জুকারবার্গ বলছেন-  শতভাগ নিখঁত কাজের চেয়ে কাজটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই মুখ্য। ফেসবুক কোম্পানী তাদের অফিসের দেয়ালে টাঙিয়ে রেখেছে- Done is better than perfect এই বক্তব্যটি
শতভাগ নিখুঁত কিন্তু অসমাপ্ত কাজের চেয়ে কিছু ভুলত্রুটিসহ একটি সমাপ্ত কাজ অধিক গুরুত্বপূর্ণ।(সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো)
পাকাপাকিভাবে কোনো কাজ সমাপ্ত করা যাবে না। একটি কাজ শেষ করার পরে তার মধ্যে ভুল থাকবেই। বারবার চেষ্টা করে তার উন্নতিসাধন করতে হবে। কেউই ভুলের উর্ধ্বে নয়! এখানে অনেক না বলা কথা থেকে যাবার পরও প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখা দরকার যে, জুকারবার্গ ১৩ বছর বয়স থেকে ছিলেন এথিইস্ট(Atheist)। 

মার্ক জুকারবার্গের কাজের নীতি

লক্ষ্য অর্জনের  দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ কর বা লক্ষ্যভেদী হও! (Focus on Impact) 
গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাসমূহ সমাধান করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করাটাই মূখ্য।  সাদামাটাভাবে বা আপাতদৃষ্টিতে কথাটি খুব সোজা! কিন্তু মার্ক জুকারবার্গের ভাষায়, কিন্তু আমরা দেখি প্রায় বেশিরভাগ কোম্পানীই এটি খুব দুর্বলভাবে করে থাকে এবং তারা অনেক সময় এতে ক্ষেপণ করে।


গতিই ধর্ম! (Move Fast)

দ্রুততালে কাজ করা মানে কিছু ভুল করা! এই বিষয়ের দিকে খেয়াল করে কাজ করার নীতি হচ্ছে মার্ক জুকার বার্গের নীতি।  কিছু ভঙ্গ না করলে আপনি সম্ভবত তেমন দ্রুতভাবে কর্তব্য পালন করছেন না!
তিনি বলছেন-

We have a saying: "Move fast and break things." The idea is that if you never break anything, you're probably not moving fast enough.

সাহসী হও! উদ্যমী হও!(Be Bold)

 বৃহৎ কিছু করা অথবা বলা যেতে পারে মহৎ কিছু করা মানেই তো ঝুঁকি নেয়া! সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হচ্ছে কোনো ঝুঁকিই না নেয়া! 
এ যেন সমরবিদের কথা! নিষ্ক্রিয় প্রতিরক্ষা বলতে কিছু নেই! 

নিজেকে উন্মুক্ত উদার করে তোল! Be Open

 উন্মুক্ত পৃথিবীই সবথেকে ভালো পৃথিবী। জনগণের হাতে যতবেশি তথ্য থাকবে তারা ততো ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এবং তাতে ফলাফলও আসবে ভালো। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা যেন বেশি পরিমাণে তথ্য পায় তাই-ই লক্ষ্য।

সামাজিক মূল্যবোধের উন্নতি সাধন( Build Social Value)

লক্ষ্যটি শুধু একটি কোম্পানী গঠন করা নয়। বরং সামাজিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করাও এর লক্ষ্য। 
জুকারবার্গ বলছেন- 
শুধু ব্যবসা করে মুনাফা অর্জন করা নয়, আমরা সবাই খেয়াল রাখি প্রতিদিনের কাজের মাধ্যমে আমরা কীভাবে সমাজব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আনতে পারি, পৃথিবীকে কিছু দিতে পারি।(সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো)
সংক্ষেপে মার্ক জুকারবার্গকে নিয়ে আমার এই লেখা।
জুকার বার্গকে আমরা সাদাচোখে একজন উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী যায়-ই বলি না কেন, তিনি যে একটি জীবন দর্শন অনুসরণ করেন তা তার কথাটেই বোঝা যায়।
সেই জীবন দর্শন শুধু ব্যক্তিকে ঘিরে নয় এবং তা শুধু ব্যক্তিলাভের জন্য নয় এবং তা শুধু ব্যবসায়িক সমৃদ্ধির জন্য নয়।
তার জীবন দর্শনে সামাজিক মূল্যবোধ রয়েছে। রয়েছে সমাজের প্রতি দায়িত্ব ও মমত্ববোধ!
বয়সে অনেকের কাছে  অনুজ এই জুকার বার্গ  আমাদের চিন্তাকে মূল্যবোধকে কিছুটা স্বস্তি দি'ক এই প্রত্যাশা রেখেই লেখাটি লিখলাম।

প্রয়োজনীয় তথ্যসূত্র: 

১. উইকিপিডিয়া
২. গার্ডিয়ান.কো.ইউকে
৩. দ্য টেলিগ্রাফ
৪. প্রথম আলো


Thursday, November 7, 2013

সাজেক ভ্যালীতে পর্যটনকেন্দ্র: জুম্ম ভূমি বেদখলের পাঁয়তারা হয়তো!

 

পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের রুইলুই এলাকায়। গত ০৬ নভেম্বর এ কথা ঘোষনা দিয়ে এসেছেন দেশের সামরিক বাহিনীর চট্টগ্রাম ডিভিশনের প্রধান মেজর জেনারেল সাব্বির আহম্মেদ।(সূত্র: সিএইচটি২৪.কম) 

 না, তিনি পর্যটনমন্ত্রী নন এবং সম্ভবত পর্যটন সমৃদ্ধি বা উন্নয়নের দায়িত্বও  তিনি পাননি।
দেশে সেনাশাসন বা সামরিক শাসনও চলছে না। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম বলে কথা!

কারণ পার্বত্য চট্টগ্রামমে দেশের অন্য অঞ্চলের চেয়ে ভিন্নভাবে শাসন ব্যবস্থা পরিচালিত হয়! তাই পর্যটনমন্ত্রী বা অন্য কোনো মন্ত্রী সেখানে গিয়ে কোনো ঘোষনা দেন না।পর্যটনকেন্দ্র করার ঘোষনা দিয়ে এসেছেন চট্টগ্রাম ডিভিশনের জিওসি।

প্রসঙ্গ কথায় আসি, রুইলুই বা সাজেক ভ্যালীর অনেক অংশই সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অন্তর্ভু্ক্ত। উক্ত অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় পার্বত্য জুম্ম জনগণ বসত গেড়েছে নানা  কারনে। প্রথম কারণ ১৯৫৮ থেকে ৬২ সালের মধ্যে গড়ে ওঠা কাপ্তাই বাঁধ। কাপ্তাই বাঁধের ফলে যারা উদ্বাস্তু হয়েছিল, তাদের কেউ কেউ সাজেকে আশ্রয় নিয়েছিল। এছাড়া ১৯৭৫ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে যে সশস্ত্র প্রতিরোধ হয় তার প্রতিক্রিয়ায় শাসকশ্রেনী পার্বত্য চট্টগ্রামে ডজনের অধিক গণহত্যা চালায়। এই গণহত্যাকান্ড থেকে বাঁচতে হাজার হাজার জুম্ম সাজেকে আশ্রয় নিয়েছিল তারা তাদের বাপদাদার ভিটেমাটি হারিয়ে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল।
ভিটামাটি হারানো অনেকেই এখনো সেই সাজেকেই আছে। তারা রুইলুই মোন বা রুইলুই পাহাড়েও আছে। তাদের কেউ খাগড়াছড়ির মাটিরাঙার ফেনীকূল তাইন্দং-তবলছড়ি থেকে গিয়েছিল জীবন বাঁচানোর তাগিদে। তাদের ভিটেমাটি তারা তাদের সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেনি! 
কেউ আশ্রয় নিয়েছিলো লুঙুদু থেকে, কেউ বা দিঘীনালার কবাখালী, বোয়ালখালী, মেরুঙ থেকে। তাদের অনেকেই তাদের বাপদাদার ভিটেয় ফিরতে পারেনি। কারণ সেই ভিটেমাটি এখন সেটলারদের দখলে। 


বর্তমানে তারা সেখানে নিশ্চিন্তে সুখে নেই। প্রকৃতি প্রতিবেশ তাদের প্রতিকূল।

তাছাড়া মাঝখানে ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সেখানকার জায়গা দখলের চেষ্টায় নেমেছিলো দেশের উগ্রবাদী শাসকগোষ্ঠী। সেখানকার বাঘাইহাট এলাকা থেকে জুম্ম জনগণকে উচ্ছেদ করে সেটলারদের জন্য বসতবাড়ি বানানোর উদ্যোগ নিয়েছিল উগ্রবাদী সাম্প্রদায়িক শাসকগোষ্ঠী ।


কিন্তু প্রবল প্রতিবাদ প্রতিরোধ এবং আন্দোলনের মুখে তারা তাতে সফল হয়নি।
সে যাত্রায় সাজেক ভ্যালী বেদখলের হাত থেকে বেঁচে গেল বটে। কিন্তু এখন আবার নানা সুতোয় সেই ভ্যালী দখলে নিতে তৎপর উগ্রবাদী এই শাসন নির্যাতনকারী।
সিবিদি হেইনেই জিল ঘা অহলে দোই পিলে দ্যালেও দর গরে




এবং এবার এই ভ্যালী দখলে নিতে লোভ দেখানো হচ্ছে উন্নয়নের! এই উন্নয়ন হচ্ছে পর্যটনের! সূত্রটি পর্যটন বটে! কিন্তু ঘোমটার নিচে খেমটার মতো তার পেছনে আছে অন্য অভিলাষ!


সেই অভিলাষ উগ্রবাদী সাম্প্রদায়িকতাবাদীরা বাস্তবায়ন করতে পারলে আবার উচ্ছেদ হবে সেই কয়েক পর্যায়ে ভিটেমাটিহারানো জুম্ম জনগণ।

আমরা কিভাবে তা হতে দিতে পারি?
না, তা হতে দিতে পারি না!
এবং তাই  দখলদারির বিরুদ্ধে লড়াই চলবে! দখলষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে সংগ্রাম চলবে!




Wednesday, November 6, 2013

আন্তনিও গ্রামশি সম্পর্কে

আন্তনিও গ্রামশি। জন্ম ১৮৯১ সালের ২২ জানুয়ারি। জন্মস্থান ইতালীর সার্দানিয়া দ্বীপের গির্জা শহর আলেসে। পিতার নাম ফ্রান্সেসকো গ্রামশি। মাতা জিওসেপ্পিনা মারসিয়াস। পিতা একজন নিন্মপদস্থ কর্মচারী ছিলেন।
গ্রামশি ছিলেন পিতা মাতার সাত সন্তানের চতুর্থতম। 
গ্রামশির যখন চার বছর বয়স তখন এক দুর্ঘটনায় তার মেরুদন্ড কুঁজো হয়ে যায়। তবে অন্য তথ্যমতে তার টিউবারকুলোসিস রোগের কারণে পিঠ কুঁজো হয়ে যায়।  তার সারাজীবন কুঁজো হয়েই কাটাতে হয়। এজন্য তার উচ্চতা ৫ ফুটের কম ছিলো। 
গ্রামশির যখন ৮ বছর বয়স তখন তার পিতা ফ্রান্সেসকো গ্রামশি অর্থ তছরূপের অভিযোগে অভিযুক্ত হন। এবং তাকে কারাভোগ করতে হয়। এতে গ্রামশিকে স্কুল ছাড়তে হয়। এবং সংসার চালানোর জন্য কাজে নেমে পড়তে হয়। এ সময় তাকে প্রতিদিন গড়ে ১০ ঘন্টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়েছে। তার পিতা ১৯০৪ সালে ছাড়া না পাওয়া পর্যন্ত তাকে এই কাজ করে যেতে হয়। 
গ্রামশির মাধ্যমিক শিক্ষা অর্জন করেন কালজিয়ারি অঞ্চলের একটি স্কুলে।
 ১৯১১ সালে তিনি তুরিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য স্কলারশিপ অর্জন করেন। এ সময় তিনি সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন ও ভাষাতত্ত্বে পড়াশুনা করেন। 
বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার সময় তিনি আন্তোনিও ল্যাব্রিওলা, রোডলফো মোনডলফো, জিওভান্নি জেন্টিল এবং বেনেদিত্তো ক্রোচের সংস্পর্শে আসেন।  তারা হেগেলের দাশনিক তত্ত্বের চর্চা করতেন। আন্তোনিও ল্যাব্রিওলা হেগেলের এই দর্শনের নাম দিয়েছিলেন  'ফিলজফি অব প্রাক্সিস'।

১৯১৩ সালের শেষদিকে ইতালীয়ান সোস্যালিস্ট পার্টিতে যুক্ত হন। ১৯১৪ সালে তিনি সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার পত্রিকা গ্রিডো দেল পোপলো( Il Grido del Popolo ) তে লেখালেখি করা শুরু করেন। এতে তিনি পরিচিতি অর্জন করেন। পরে তিনি উক্ত পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
 আর্থিক দৈন্যতার কারণে ১৯১৫ সালের দিকে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ থেকে বিদায় নিতে হয়। 
১৯১৬ সালের দিকে তিনি সমাজতান্ত্রিক পার্টির মুখপত্র 'অভন্তি'(Avanti!,) এর সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। 
১৯১৭ সালে ইতালীতে সমাজতান্ত্রিক অভ্যুত্থান সংঘটিত হলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখেন। 
১৯১৯ সালের এপ্রিলে তিনি তোগলিয়াত্তি, এনজেলো টাসকা এবং উমবারটো এই তিনজনের সাথে মিলে  দ্য নিউ অর্ডার নামে একটি প্রকাশনা বের করেন। এসসময় অক্টোবরের দিকে ইতালীর সমাজতান্ত্রিক দলে নানা উপদল দেখা দেয়। তবে একটি অংশ তৃতীয় আন্তর্জাতিকের সাথে যোগ দেয়। গ্রামশি সেই দলে ছিলেন।
১৯১৯-২০ সালের শ্রমিক ধর্মঘটের সময় গ্রামশি শ্রমিক কাউন্সিল গঠন করেন। এবং এই কাউন্সিলের মাধ্যমে কারখানার উৎপাদন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে এই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। 

কারখানায় গঠিত শ্রমিক কাউন্সিল সম্পর্কে তিনি বলেন- একটি কারখানার সমস্ত শ্রমিক কমিশার বা প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করবে। এবং এই কমিশারদের থেকেই নতুন কার্য নির্বাহী কমিটি মনোনীত করা হবে। এই কমিটির তিনটি কর্তব্য থাকবে। সেগুলো হলো-
১. শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করা। 
২. শ্রমিকদের রাজনৈতিক বা অধিকার সম্পর্কে ধারণা বা  শিক্ষার ব্যবস্থা করা। উপকারী প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে কাজে লাগানোর বা ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া। 


 এ সময় তিনি সংসদীয় প্রথার বিরোধীর আমেদিও বোরদিগার সাথে মৈত্রী গঠন করেন। এবং ১৯২১ সালের ২১ জানুয়ারি গঠন করেন কমিউনিস্ট পার্টি অব ইতালী(PCI)।কিন্তু আমেদিও বোরদিগার সাথে তার মতের অমিল দেখা দেয়। 

১৯২২ সালে তিনি রাশিয়ায় যান। সেখানে ভায়োলিন বাদিকা Julia Schucht এর সাথে তিনি পরিচিত হন। পরে ১৯২৩ সালের দিকে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দেলিও এবং জিওলিয়ানো নামে দুই সন্তান হয়।
রাশিয়ায় গ্রামশি দুই বছর কাটান বলে জানা যায়। 
তিনি যখন রাশিয়ায় ছিলেন তখন ইতালীতে ফ্যাসিস্ট বেনিতো মুসোলিনি  ক্ষমতায় আসেন। তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ভিন্নমতের দল সংগঠন বা পার্টির উপর নিপীড়ন চালান। এসময় ইতালীর কমিউনিস্ট পার্টির অনেককেই তিনি জেলে পুরেন। বোরদিগাও এ সময় আটক হন।
এমন পরিস্থিতিতে তিনি ১৯২৩ সালের শেষের দিকে রাশিয়া থেকে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আসেন। এবং ১৯২৪ সালে তাকে ইতালীর কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান নিযুক্ত করা হয়। রোমে এসে তিনি পার্টির নতুন মুখপত্র 'ইউনিটি(L'Unità) প্রকাশ করেন। 
১৯২৬ সালের জানুয়ারিতে লিয়নস  শহরে পার্টির কংগ্রেসে তিনি যুক্তফ্রন্ট গঠনের প্রস্তাব করেন এবং তার এই প্রস্তাব কংগ্রেসে গৃহীত হয়।
১৯২৬ সালের নভেম্বরে ইতালীর মুসোলিনী সরকার দেশে জরুরী আইন জারি করে। এবং গ্রামশিকে ঐ মাসের ৮ নভেম্বর গ্রেপ্তার করে। তাকে ৫ বছরের সাজা দিয়ে উসটিকা(Ustica ) নামে এক দ্বীপে নির্বাসন দেয়া হয়। সেখানে থাকার সময় তাকে নতুনভাবে ২০ বছরের সাজা দেয়া হয়। 
তাকে সাজা প্রদানের সময় তার বিরুদ্ধে মামলা প্রদানকারী বা প্রসিকিউটর বলেন- আগামী বিশ বছরের জন্য আমাদের অবশ্যই এই (গ্রামশির) মেধার কর্যকারিতাকে থামিয়ে দিতে হবে (For twenty years we must stop this brain from functioning)। 
১৯৩২ সাল থেকেই তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে থাকে। এবং স্বাস্থ্যগত কারণে শর্তসাপেক্ষে তিনি মুক্তি পান। 
১৯৩৭ সালের ২৭ এপ্রিল ৪৬ বছর বয়সে রোমের কুইসিসানা হাসপাতালে তিনি বন্দী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। 
জেলে থাকার সময় তিনি ৩০টি নোটবুকে প্রায় ৩ হাজার পৃষ্ঠার মতো লেখা লিখে যান। পরে তার এই লেখাসমূহ প্রিজন নোটবুকস নামে  প্রকাশিত হয়।

গ্রামশির অবদান: 

মার্ক্সীয় রাজনীতিতে এখনো গ্রামশির অনেক মতবাদকে অনেকে অনসরণীয় মনে করে থাকেন।
নিচে গ্রামশির কিছু তাত্ত্বিক আলোচনাকে সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো-

রাষ্ট্রব্যবস্থা টিকে থাকা সম্পর্কে তিনি বলেছেন- সামাজিক কর্তৃত্ব বা আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত সম্মতির ভিত্তিতেই রাষ্ট্রব্যবস্থা টিকে থাকে।

অত্যাচারী রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিতটিকে টলানোর কাজটিকেও তিনি এই ভিত্তি বা কর্তৃত্ব বা আধিপত্য ভাঙার প্রচেষ্টা বা উদ্যোগ নেয়ার উপরই গুরুত্ব প্রদান করেছেন।
তার অভিমত, এই আধিপত্যকে ভাঙতে হলে সাংস্কৃতিক আধিপত্য বা কালচারাল হেজিমনি সৃষ্টি হবে। 
তার মতে,  বর্তমান পরিস্থিতি বা অবস্থায় নিজস্ব সংকীর্ণ অর্থনৈতিক স্বার্থ নিয়ে অগ্রসর হয়ে  একটি শ্রেনী তার আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। এবং শুধুমাত্র শক্তি প্রদর্শন বা দমন নির্যাতনের মাধ্যমেও এই আধিপত্য বজায় রাখা সম্ভব নয়। বরঞ্চ, শ্রেনী আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে হলে অবশ্যই বৌদ্ধিক এবং নৈতিক নেতৃত্বকে প্রয়োগ করতে হবে এবং বিভিন্ন শক্তির সাথে মৈত্রী ও সহযোগিতা করে এগোতে হবে।  

তিনি আরো বলেছেন, সাধারণভাবে সকলেই ইন্টেলেকচুয়াল বা যুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন এবং সকলেরই যুক্তিবোধ ও বিচারবোধ থাকে। তবে সকলেরই সামাজিকভাবে কার্যকরী যুক্তিবোধ থাকে না। 
“All men are intellectuals, but not all men have in society the function of intellectuals”
Antonio Gramsci, Selections from the Prison Notebooks of Antonio Gramsci
 পার্টি বিষয়ে তিনি বলেছেন, তিনটি বিষয় একটি পার্টিকে পূর্ণতা দান করে। এগুলো হলো- একটি দার্শনিক মতবাদ, সুদক্ষ কর্মী বা কর্মীসমষ্টি এবং প্রকৃত ঐতিহাসিক আন্দোলন। পার্টি কাঠামোতে তিনটি বিষয় অপরিহার্য। এগুলো হলো- সাধারণ কর্মী, ক্যাডার ও নেতৃত্ব।

লেখাটি এখনো অসম্পূর্ণ। নতুন তথ্য যখনই পাবো তখনই তা যোগ করার আশা রাখছি...
ধন্যবাদ

প্রয়োজনীয় তথ্যসূত্র: 

১. উইকিপিডিয়া
২. মার্ক্সিস্টস.অর্গ
৩. umich.edu
৪. গ্রামশি চিন্তা- সোশোভন সরকার
৫. গ্রামশি জীবন ও চিন্তা- নরহারি কবিরাজ সম্পাদিত।
৬. ইনফেড.অর্গ
৭. ইন্টারন্যাশনাল গ্রামশি সোসাইটি




হাঙদক দাঘঅ কধা ব্লগসাইটঅত শেয়ার গরঙর


চাঙমা কিজু দাঘঅ কধা ব্লগসাইটঅত শেয়ার গরঙর- 

দাঘঅ কধা: পল্লা- এক 

.          অজর/অত্তে হাঙ আরঅ জুমঅত উধে

.          অজাত্যা কুরো নাগে কানে ফোর এক ঘরঅ কুজ্যা সাত ঘরঅত ওহল

.          অলবঅ ত্যালে মুমুজ্জে ভাজা

.          অত্তে দুমঅ পুও আরঅ পুনওত ঘু

.          অহদত নাজুনি বুড়ি আরঅ পুজ্জে ধুলঅ বাড়ি

.          অহক কধা কদে আমঅক বেজার গরম ভাত দিলে বেলেই বেজার
.           
.          অহরিঙঅ লগে চঙরা পাগল

.          আককলে হদারে চিনে

.          আকবাল্যা জিন্দি জাই সিন্দি মরা শামক্কোও উধি জাই

.          আ কাজ্যে চোলঅ দোগান দে না

.          আগঅকুজ্জে আগঅত ভাঙানা

.          আগাজঅ চান তারা পুনঅ কেচ ফরা
.           
.          আগুনঅ কুরে ঘি ন অঅয়
.          
.          আগুনঅত দিলে মরা শুগুনিবোও আআড়ি পাক হাই 

.          আগে হায় আঘে জায় তা লাগঅত কেওই ন পাই

.          আগে গ্যালে আগে পাই

.          আগে গ্যালে বাঘে হাই পিচ্চে থ্যালে সনা পাই

.          আঘে কারবাজ্যের আঘে জার নেই কারবাজ্যের নেই জার

.          আহগানাত্তুন ভেরেত্তো দাঙর

.          আহজ তোনদোই বাচ তোন গুই এহরালোই বিগুন তোন

.          আজারঅ কলা বাজারঅত জাই

.          আহজার কুবঅর নঅ এক কুবে চিল্ল্যে

.          আহত পুজঅদে কুজুপাদা ধরে

.          আহততে আহততে নলা গা’দে গা’দে গলা

.          আহদঅ বাঙুরি থেবরক হাই

.          আহদিক পনদিগে ইজা মাধাত ঘু

.          আহদিক পনদিকে পধঅ উগুরে আহঘে

.          আহদিক হাদিলে পাদিল ভাঙে

.          আজি- পাড় অলে পাজি

.          আহদিলে চুদির পুত ন আহদিলে চুদির পুত
.          আদদানঅত্তুন বিউনো চেত
.          আধিক অহলিবে কাজজো নাজ
.          আনধা গুরু হদা রাককোয়াল
.           
.          আবিদদনে রাজারেইও চজজাই

.          আমনঅ বুদ্দিলোই তরে পরঅ বুদ্দিলোই মরে

.          আমনঅ আন্দাজ পাগলে বুঝে

.          আমনঅ আনদাজ বুজিলে পাই

.          আমনঅ বুদ্দি সনা পরঅ বুদ্দি রাঙ আরাল্যা পারাল্যা বুদ্দি গাজঅ মাধাত তাঙ

.          আমনঅ মাধা ফেজা আমনে/নিজে ন দ্যাঘে

.          আমঅনত্তুন ন থ্যালে দুইন্যা আন্ধার

.          আমনঅত্তুন থ্যালে হা, পরঅত্তুন থ্যালে চা

.          আমনে ন পাই জাগা কুত্তা পুজে বাগা

.          আহজিয়্যে রাজিয়্যে গুরবুঅ নীতিএ পুদিয়্যে বুড়োবো

.          আহরাইদে মাচচো দাঙর
.           
.          আহলজি মানজোর বর পঝা

.          আহলঅ কাম সারি বালঅ কাম
.           
.          আহদঅ পাচ আঙুল সঙ নয়

.          আরাচাকঅত আরাচাক আবুজে

.          আরঘাত্তুন দারঘা কাবঅর ন উরি জার হা

.          ইগিমঅ কলা বাগলঅ ভালা

.          উচচো মরে এ কালে লুচ্চো মরে কালে কালে

.          ইজেবঅ গুরু বাঘে হেই ন পারে

.          উজোলে ন মরে বুগিয়্যে মরে

.          উজু আঙুলে ঘি ন উধে

.          উবুরে উবুরে বুইয়্যের বাই কলগঅ মাদিয়্যে থান ন পাই

.          উড়েদে পেককো বাআত ফরফরাই

.          উহরু মুরু যাতত্রা যা গরে বিধাততা

.          উনা ভাদে দুনা বল বেশি ভাদে রজাত্তল

.          উদুরুঙ ধুদুরুঙ মাল্যা মা সুরুঙ

.          উদ্যে মাধা ফুত্যা গেই তারে দ্যালে যাত্রা নেই

.          উললো লাগরিত কুলোত ব ন আন মাধাত দিনেই জুমোরআন ব

.          উলঅত আহত দি বাদ্যাল্যা জা

.          এক কজা হেলেইও রোন দি কজা হেলেইও রোন

.          এক আহদে মাজজে শেল দি আহদে হোএই ন পারে

.          একদিনে জারকাল ন জাই/এক মাঘে জারকাল ন জাই

.          এক মোক্ক্যা ঝাদি ভাত,দি মোক্যা লাধি ভাত, তিন মোক্যা কবালঅত আহত

.          এক ন জিনে নুদি সমারে এক ন জিনে উহদি সমারে

.          এক শিআলঅর বিজে তনতনেলে বেগ শিআলঅর বিজে তনতনাই
.           
.           
.          এক কুবে গাজ ন পরেএ

.          এক তুলে হেদে এক তুলে পুদে
.           
.          একমুএ বিয়াল্লিচ ভাচ

.          এগা শজজ্য তেল নঅয়

.          এহত কিনি পারে কাজি কিনি ন পারে

.          এহদঅ ঘা পাদা দারু

.          এইত এলে ত্যা গাজ তগাতগি

.          এইত শুগেলেহ মোচচো পারাহ

.          এহইততো জাদে লেচচান বাজে

.          এইদ/এহত মুরিলে মোচচো পারা

.          এইত/এহদ মরা কুলোলোই ধাঘি রাঘেই ন পারে
.           
.          এহরা পুততে শিককাদিও পুড়ে

.          এহরা কুদেদে গড়বো

.          এহরা হেইয়ে বাঘঅ দরে চিত হিয়ে বাঘ লাআপ পানাআ

.          এহরা মাজ দাবানা সাচ রান্যা বিগুন ঘুন্যা মাচ

Thursday, October 31, 2013

আমার লেখা দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকায় অন্যের নামে ছাপানোর প্রতিবাদ পত্র(ইমেইলে দৈনিক পূর্বকোণে প্রেরিত)


বরাবর,
সম্পাদক
স্থপতি তসলিমউদ্দিন চৌধুরী
দৈনিক পূর্বকোণ
৯৭১/এ, সিডিএ এভেনিউ, পূর্ব নাসিরাবাদ, চট্টগ্রাম।

তারিখ: ৩০ অক্টোবর, ২০১৩

বিষয়: আমার একটি লেখা আপনার পত্রিকায় অন্যের নামে ছাপানো বিষয়ে আপত্তি ও প্রতিবাদ।

সূত্র: ২২ অক্টোবর; ২০১৩ এর দৈনিক পূর্বকোণ সংখ্যার আন্তর্জাতিক পাতা পৃষ্ঠা ৭। লেখার শিরোনাম- ভো নগুয়েন গিয়াপ-ভিয়েতনাম বিপ্লবের এক গণনায়কের নাম।

সম্মানিত;
আমার সম্মান ও শুভেচ্ছা নেবেন।
আমি মিঠুন চাকমা। মাঝে মাঝে ব্লগ ও ওয়েবসাইটে বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করি। কয়েকদিন আগে আমি ভিয়েতনামের বিপ্লবী নেতা ভো নগুয়েন গিয়াপের উপর একটি লেখা প্রকাশ করি।
উক্ত লেখা বিভিন্ন ব্লগ ও ওয়েবসাইটে প্রকাশের জন্য প্রেরণ করি। এবং আমার উক্ত লেখা বিভিন্ন ব্লগ ও ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, দৈনিক পূর্বকোণে আমার লেখাটি হুবহু প্রকাশিত হয়। কিন্তু লেখাটি আমার নামে প্রকাশ করা হয়নি। প্রকাশ করা হয়েছে “কল্যাণ চক্রবর্তী”র নামে।আমার লেখা অন্যের নামে আপনার পত্রিকায় প্রকাশিত লেখাটির ইন্টারনেট লিংক-:  http://dainikpurbokone.net/index.php/-lfontglfont-colorq5a5757qg-lfontg/2013-08-24-18-26-10/5950-2013-10-21-18-40-30

নিচে আমার উক্ত লেখাটি যে সকল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে তার লিংক প্রদান করছি।
লিংক ১: নতুন বার্তা ওয়েবসাইট- http://www.natunbarta.com/international-analysis/2013/10/05/48378/ec144089c0b113441e7ecff37e7d9878

লিংক ২: মঙ্গলধ্বনি.নেট ওয়েবসাইট- http://www.mongoldhoni.net/remembering-legendary-vietnamese-revolutionary-vo-nguyen-giap/

লিংক ৩: ব্লগ.সিএইচটি২৪.কম- http://blog.cht24.com/05/10/2013/308#.UnDhkKAUN18

লিংক ৪: পরিবর্তন ব্লগ- http://www.poriborton.com/blog/index.php/entry/2013-10-05-15-31-58


চট্টগ্রাম বিভাগের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত এবং স্বনামে ধন্য ঐতিহ্যবাহী একটি পত্রিকা দৈনিক পূর্বকোণে একজনের লেখা অন্যের নামে ছাপানোয় আমি খুবই দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে  এ বিষয়ে আমার আপত্তি ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
অতএব, উপরোক্ত বিষয়ে আপনার আন্তরিক সহযোগিতা পাবো এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।

বিনীত
মিঠুন চাকমা

ইমেইল: mithuncht@gmail.com


Wednesday, October 30, 2013

দেশের আইন-নীতি-এথিকস- টেনে টেনে যান ভাই টেনেটুনে থাকেন ভাই!

দেশে আইন যেদিকে টানবেন সেদিকে যাবে,

নীতি যেদিকে টানবেন সেদিকেই যাবে!

যৌক্তিকতা এবং অযৌক্তকতাকেও যেদিকেই টানবেন সেদিকেই যাবে!

এথিকসকেএ সেভাবেই পাবেন!

কিন্তু বাস্তব সমস্যার বাস্তব সমাধান,

দেখি এদিক সেদিক টানলেও আমরা পাই না!

কুছ পরোয়া নাই! কুছ পরোয়া নাই!

টেনে টেনে যান ভাই টেনেটুনে থাকেন ভাই!