Tuesday, November 20, 2012

নেতৃত্বত সফল অহনার এগ্গান লক্ষণ

 সমষ্টিগতভাবে কোনো এগ্গান কামঅত সফল অহবার পরে জেক্কেনে বেক্কুনে কঅন- " আমি বেক্কুনে মিলিনেই এ বিজয়আন সিনি আন্নেই"। গায় নেতাবো বা একজন-দিজনে দাবি ন গরন। সেক্কেনে আজলে নেতৃত্বর সফলতা প্রমাণিত অহয়। আর আমি ভুল অহলে জ্যা আগমুলিম তারে গারেই। সফল অহরে নিজঅ বাইনীআন গুরি। আমার নিজঅ মাধা ফেজা আগে রিনি চানা দরকার।
(এ লেখাটি ফেসবুকে ২০১০ সালের ৩০ অক্টোবর শেয়ার করি।)

Somostigotobhabe kono eggaan haamot sofol ahbaar por jekkene bekkune kon- 'aami bekkune milinei ei bijoy sini aannei', gai netaabo baa ek-dijone daabi na goron, sekkenei aajole netrittor sofolota promanita ahy. Aar ami bhul ahle je aagmulim taare gaarei, sofol ahle nijo baa-ini-aan(proshongsha) guri. Nijo madafeja aage rini cana dorkar.

চাকমা জাতির চরিত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে সতীষ চন্দ্র ঘোষের মূল্যায়ন

 চাকমা জাতির চরিত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে সতীষ চন্দ্র ঘোষের মূল্যায়ন

সতীষ চন্দ্র ঘোষ বোধকরি ১৯০৯ সালের দিকে 'চাকমা জাতি' গ্রন্থটি লেখেন। সেটি অনেকদিন আগে পড়ার চেষ্টা করেছিলাম। তা থেকে দু'এক ছত্র ডায়রিতে লিখে রেখেছিলাম। তার মধ্যে তাঁর চাকমা জাতির চরিত্র-বৈশিষ্ট্য নিয়ে মূল্যায়নমূলক বক্তব্য সবার সাথে শেয়ার করতে ইচ্ছে হচ্ছে।

মিতব্যয়িতা বা অসংযমী বৈশিষ্ট্য নিয়ে চাকমাদের সম্পর্কে তিনি লিখেছেন-

          " বোধহয় সংযমেরই অভাবে চাকমাদিগের মধ্যে মিতব্যয়িতা একেবারেই নাই নতুবা ইহারা যেরূপ পরিশ্রমী এবং উপার্জনক্ষম, বেশ সুখে স্বাচ্ছন্দ্যে সংসারযাত্রা নির্বাহ করিয়া যাইতে পারে।"( চাকমা জাতি, পৃষ্ঠা-৩৬)

বিলাসতা নিয়ে তাঁর করা মন্তব্য-

       " শিক্ষিতদের মধ্যে কেহ কেহ সাক্ষাত বিলাত ফেরত বাবু- চলাফেরাও অনেকটা ইঙ্গবঙ্গদল সম্মত। ইহা ছাড়া সাধারণ চাকমাদিগের মধ্যেও এতদূর বিলাস-ইচ্ছা প্রবেশ করিয়াছে যে , কেহ কেহ দোকানে উপস্থিত হইয়া প্রথমে ' রাজা যে কাপড় পরেন' তাহা অনুসন্ধান করেন।" (চাকমা জাতি, পৃষ্ঠা-৩৭)

Saturday, November 17, 2012

ইউপিডিএফএর স্বেচ্ছাশ্রম কর্মসূচি এবং জাতীয়ভাবে আমাদের অলস মানসিকতা কাটাতে আমাদের দায়িত্ব


ইউপিডিএফ বাস্তবভাবে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে ধান কাটার মৌসুমে জনগণকে সহযোগিতার একটি কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে। তারা খাগড়াছড়ি সদরে এক ধানচাষীর পাকা ধান কেটে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে। পাকা ধান কেটে দিয়ে ধানচাষীদের সহযোগিতা করার এই উদ্যোগ নিয়ে ফেসবুকে নানা ধরণের বক্তব্য, প্রশংসা, সমালোচনা ইত্যাদি উঠে আসছে। এ বিষয়ে কিছু কথা নিচে লিখে শেয়ার করলাম।

জাতিগতভাবে আমরা পরিশ্রমী হিসেবে নাম কুড়ালেও মানসিকভাবে আমরা খুবই অলস বলেই আমার মনেহয়। আমরা যত কথা বলি তার চেয়ে কম কাজ করি। যা বলি তা বলার পরে কী বলেছি, কেন বলেছি, বলার পরে যে করণীয়ও রয়েছে তাও অনেকসময় মনে থাকেনা।


ইউপিডিএফ গ্রামে ধান কাটার মৌসুমে ধানচাষীদের সহযোগিতা করছে এটা ভালো উদ্যোগ হবে তখনই যখন জাতিগত দিকথেকে অলস মানসিকতাকে আমরা ঝেরে ফেলতে পারবো। ধান চাষ বা পাকা ধান তোলার মৌসুম থাকে। সময়ে ধান লাগাতে না পারলে বা ধান কাটতে না পারলে বা তুলতে না পারলে ধানচাষীদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি পোহাতে হয়। সাধারণত 'মালেইএ' সিস্টেম প্রচলিত হয়েছে নির্দিষ্ট সময়ে বা মৌসুমের মধ্যে কাজটি সারা বা শেষ করার জন্য। এতে অর্থক্ষয় স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে বেশী হলেও কিছুই করার থাকেনা। ধানচাষী সময়মত ধান রোপন বা ধান কেটে তুলতে না পারলে তার চেয়ে বেশী ক্ষতি হবার সম্ভাবনা থাকে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে মনেকরি জাতিগতভাবে আমাদের এই মানসিক অলসভাব কাটাতে হলে ইউপিডিএফএর মতো এই ধরণের কাজকে মন থেকে সাপোর্ট দেয়া আমাদের অন্যতম কর্তব্য হওয়া প্রয়োজন। তা যাতে আদতেই সফলতার মুখ দেখে তার জন্য প্রয়োজনে নিজেরাই মাঠে নামার উদ্যোগ নেয়া বর্তমান সময়ের জন্য সবচেয়ে গুরুতর করণীয় একটি দায়িত্ব।
এই কাজটি না করে ঘরে বসে রাজা উজির মেরে বা নেটে বসে 'বিজ্ঞ' ফলিয়ে আমাদের কাজের কাজ কিছুই হবে না। চাকমা বাষায় একটি প্রবাদ রয়েছে। তা হচ্ছে' রেদোত অহলে সাত আহল, বিন্নে এক আহলও নেই। এই প্রবাদ বাক্যটি ইউপিডিএফএর এই ধরনের কাজের জন্য যেমন আগাম ওয়ার্নিঙ তেমনি যারা সমালোচনা কর যাচ্ছেন তাদের জন্য একটি বার্তা যে আমাদের আরো অনেকদূর এগুতে হবে কথা না বাড়িয়ে।

চট্টগ্রামে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জুম্ম জনগণের দিনযাপন


চট্টগ্রামে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জুম্ম জনগণের  দিনযাপন

নভেম্বর, ২০১২

চট্টগ্রামে অক্টোবর মাসে এক সপ্তাহের মধ্যে দুটি ধর্ষনের ঘটনা সংঘটিত হবার কথা জানা যায়। প্রথমটি সংঘটিত হয় ২৪ অক্টোবর চট্টগ্রামের রাউজান এলাকার হলদিয়া রাবার বাগান এলাকায়। যুবলীগের ৪ জন সন্ত্রাসীরা মারমা জাতিসত্তার এক গর্ভবতী নারীকে তারা পালাক্রমে ধর্ষন করে।ধর্ষনের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করার কথা জানা যায়নি।

এরপর ২৮ অক্টোবর চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ এলাকায় একজন জুম্ম স্কুল ছাত্রী ধর্ষিত হন। জানা যায় রাতে স্কুল ছাত্রীটি তার এক বান্ধবীর বাসায় বেড়াতে যায়। এ সময় তাকে ধর্ষন করা হয়। ৬ জন তাকে বাঙালী তাকে ধর্ষন করে বলে জানা যায়। পরে পত্রিকা মারফত জানা যায় এই ধর্ষন ঘটনায় একজন জুম্মও ছাত্রও সংশ্লিষ্ট রয়েছে। জুম্ম ছাত্র-যুব সমাজের এক অংশ এই ধরণের অনৈতিক কাজে জড়িত হওয়ার ঘটনা দেখে আমরা আরো বেশী আতংকগ্রস্ত হচ্ছি।

এছাড়া অক্টোবর মাসের ১২ তারিখে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানাধীন দক্ষিণ মুসলিমাবাদ বারেক নগরের ধানক্ষেত থেকে এক অপরিচিত জুম্ম/পাহাড়ি নারীর লাশ পাওয়ার কথা দৈনিক পূর্বকোণের ১৩ অক্টোবর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। চট্টগ্রামের শহর এলাকায় জুম্ম নারীর উপর এ ধরণের সহিংসতা সাধারণ জুম্ম নর-নারীকে ভাবিয়ে তুলেছে। সবচেয়ে বেশী আতংকের বিষয় হচ্ছে এ সকল ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত দোষীদের এখনো আইনের আওতায় আনা হয়নি।
চট্টগ্রাম শহরে ৪০ হাজারের উপর জুম্ম বসবাস করছে যার অর্ধেক হচ্ছে নারী। রাস্তাঘাটেও জুম্ম নারীদের নানা ধরনের হয়রানীর শিকার হতে হয়, যা প্রকাশিত হয়না।

গত ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাঙামাটি শহরে সাম্প্রদায়িক হামলার জের ধরে খাগড়াছড়ি থেকে চট্টগ্রামে আসা কয়েকজন জুম্মকে অক্সিজেন এলাকায় নির্বিচারে মারপিট করা হয়। এছাড়া ২০১০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী যখন খাগড়াছড়িতে সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছিলো তখনও চট্টগ্রামের কয়েকটি এলাকায় জুম্মদের উপর হামলা করা হয়েছিল।

 এক অর্থে পার্বত্য চট্টগ্রামে কোনো বড়ধরণের হামলার ঘটনা সংঘটিত হলে চট্টগ্রাম এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী জুম্ম জনগণকে সবসময় তটস্থ হয়ে থাকতে হয়।


চট্টগ্রামের বন্দর এলাকায় যে সকল জুম্ম নানা পেশার কারনে বসবাস করছে তাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি বাসায় অথবা পথেঘাটে সন্ত্রাসী-মাস্তান যুবকরা ইচ্ছে হলেই আমাদের জুম্ম যুবকদের উপর চড়াও হয়।নানা ধরনের উৎপাত শুরু করে দেয়। তাদের উপর কথা বলা বা এইসবের প্রতিবাদ করতে গেলেই সাম্প্রদায়িক চাপ সৃষ্টি করে তা থামিয়ে দেয়া হয়।

আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃঘাতী দ্বন্দ্বের সুযোগও এসব মাস্তানরা নিয়ে থাকে। বিশেষত চট্টগ্রামের বন্দর এলাকায় কোন এক পক্ষ অন্য পক্ষকে ঘায়েল করতে গেলে তাদেরকে অবশ্যই সে এলাকার স্থানীয় পেশীবান মাস্তান-সন্ত্রাসীদের হাত করতে হয়। অবস্থাটা এমন, এইসব মাস্তান-সন্ত্রাসীরা যার পক্ষ নেয় তারাই সে অঞ্চলে রাজত্ব করতে পারে। এভাবে পরমুখাপেক্ষী/অপরের শক্তির উপর নির্ভর করে আমরা রাজনীতির মাঠে দিনযাপন করছি অন্তত এই চট্টগ্রামে!

তারপরও আশা থাকে … …

তারপরও আশা থাকে কারন কেননা আমরা জানি যে কারনে এসব হচ্ছে তার বিধান/মীমাংসা  করতে পারলেই আমরা এর থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারবো।
সকল কিছু সমস্যার মূলে হচ্ছে, আমাদের সাংস্কৃতিক অধপতন, মতাদর্শিক দৈন্য, সামাজিক শৃঙ্খলার ঘাটতি, সমাজবিমুখ-রাজনৈতিক চেতনাবিহীন বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন।

আমরা আজ বিভক্ত দলীয় বৃত্তে, সমাজের অনেকেই বিচ্ছিন্ন সমাজ থেকে, নেই পারষ্পরিক সামাজিক-রাজনৈতিক সম্পর্ক ও যোগাযোগ, নেই জাতিগত সামাজিক চেতনা ও মূল্যবোধ। অহংবোধ কিন্তু রয়েছে সবার মাঝে নিজ নিজ তরফ থেকে।

এইসবকিছুর একটা বিহীত  আমাদের করতেই হবে।
আপনারা আমরা সবাই আশায় থাকি … …

## বন্ধন সৃষ্টি হোক বৃহৎ সফলতার জন্য, সুমহান কর্মযজ্ঞের জন্য আমাদের মন-ভাবনা সম্মিলিত হোক এই প্রত্যাশা ##

সকলকে ধন্যবাদ

ব্যক্তির ক্ষেত্রে যেমন তেমনি জাতিগত-সামাজিক ক্ষেত্রেও KNOW THYSELF ই প্রথম মীমাংসার বিষয়


কোনো জাতির বা জাতিসত্তার মুক্তি বা অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নানা উত্থান-পতন, সফলতা-ব্যর্থতা থাকে। এ্টাই স্বাভাবিক। তবে ব্যর্থতা থেকে শিক্ষালাভ করে ব্যর্থতাকে সফলতার দুয়ার হিসেবে যারা ব্যবহার করতে পারে বা যারা সফলতাকে নিরঙ্কুশভাবে করায়ত্ত মনে না করে সফল সকল লড়াইকে প্রকৃত সফলতার জন্য ব্যর্থ না হতে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারে তারাই বা সেই জাতি/ জাতিসত্তাই অধিকার পাবার যোগ্য।

আমরা ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে একটি লড়াইকে আমরা "আধ্যান্যা" করে রেখেছি তার থেকে শিক্ষা নিয়ে যত তাড়াতাড়ি নিজেদের আন্দোলনকে সফলতার দুয়ারে নিতে পারবো ততই আমাদের জন্য মঙ্গল। আমরা যদি শুধু সফলই হতাম তবে আমরা শিখতে পারতামনা। আমরা ব্যর্থ বলেই আমরা শিখতে পারছি। বাংলাদেশ সরকার সফল হয়েছে বলে তাকে সবসময় ভাবতে হচ্ছে এই সফলতা কতদিন টিকবে তা নিয়ে। আমাদের কিন্তু তা নিয়ে ভাবতে হচ্ছেনা। ব্যর্থ বলেই আমরা আন্দোলনকে পরিপূর্ণ সফল করতে এখন আমরা নানাভাবে/নানা উপায়ে চিন্তাভাবনা করতে পারছি।

কিন্তু আমাদের কাছে বর্তমানে একটাই সমস্যা তা হচ্ছে আমরা আসলেই ব্যর্থ বা সফল হয়েছি তা নিয়েই আমাদের মধ্যে যতসব বিভ্রান্তি বিরাজ করছে। এই বিভ্রান্তি যত শীঘ্রই কাটবে ততই আমাদের জন্য শিক্ষালাভের ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে। আর আমরা যত তাড়াতাড়ি শিখতে পারবো ... ... ... ।